মুদ্রণ

শান্তির ঘুম এনে দেবে সহজলভ্য এই খাবারগুলো

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ২৯.০৯.২০১৫

আমাদের মাঝে এমন অনেকেই আছেন যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে।

ঠিক সময়ে ঘুম আসে না তারপর সারাদিনের রুটিনে চলে উল্টোপাল্টা। তাই ঘুমের এই সমস্যা দূর করতে মুখ কাজে লাগাতে পারেন অর্থাৎ খাবার খেতে পারেন। অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন যে ঘুমের ২-৩ ঘন্টা আগে যা খাওয়া হয় তার উপর নির্ভর করে আপনি কত তাড়াতাড়ি স্বপ্নের জগতে যেতে পারবেন এবং সেখানে লম্বা সময় থাকতে পারবেন অর্থাৎ ঘুমাতে পারবেন। অনিদ্রা দূর করতে বেশ কিছু খাবার খুব সাহায্য করে।

চেরি

এই ফলটি ভালো ঘুমের জন্য বেশ কার্যকরী। তাজা চেরি, ফ্রোজেন বা জ্যাম যে কোন ভাবেই খেতে পারেন যা আপনাকে স্বপ্নের জগতে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। চেরি প্রাকৃতিকভাবে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা দেহে উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে ঘুম না হওয়ার সমস্যা দূর করে।

কলা

কলাতে থাকা খনিজ পদার্থ ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম দেহের পেশীকে শিথিল করতে সাহায্য করে যা ঘুম আসার জন্য সহায়ক। এছাড়া কলাতে থাকা ট্রিপ্টোফ্যান নামক অ্যামাইনো এসিড দেহকে শান্ত করে যার ফলে সহজে ঘুম আসতে সাহায্য করে।

কাঠ বাদাম

কাঠ বাদামে থাকা দুইটি উপাদান রাতে সহজে ঘুমাতে সহায়তা করে। প্রথমটি হলো খনিজ পদার্থ ম্যাগনেসিয়াম যা দেহের পেশীকে শিথিল করে এবং দ্বিতীয় উপাদান হলো অ্যামাইনো এসিড ট্রিপ্টোফ্যান যা ঘুম আসতে সহায়তা করে।

দুগ্ধজাত খাবার

দুধ, পনির, দই এবং ট্রিপ্টোফ্যান নামক অ্যামাইনো এসিড গ্রুপের দুগ্ধজাত খাবার গুলো ভাল ঘুমের সহায়ক। এই খাবারগুলো ক্যালসিয়ামেও ভরপুর। হাড় এবং দাঁতকে মজবুত করার সাথে সাথে ক্যালসিয়াম মানসিক চাপ কমানোর ক্ষমতা রাখে এবং সেই সাথে ইন্দ্রিয়গুলোতে স্থিরতা আনতে সহায়তা করে যা সমস্ত দেহকে শান্ত রাখে।

ক্যাফেইনবিহীন চা

যেসব চায়ে ক্যাফেইন নেই সেসব চা দেহ ও মনকে প্রশমিত করতে পারে। এসব চায়ের মাঝে ভেষজ চাগুলো অন্যতম। যাদের অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে তারা জেসমিন বা ক্যামোমাইল চা খেলে উপকার পাবেন।

ওটমিল

রাতে ঘুমের ২-৩ ঘণ্টা আগে এক বাটি ওটমিল অনিদ্রাতে ভোগা মানুষদের বেশ সহায়তা করতে পারে। ওটমিলে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম রাতের ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক। এছাড়া ওটমিল অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয় বলে তা দ্রুত ঘুম আসতেও সহায়তা করে।

সিরিয়াল

দিনের শুরুটা যে কোনো ধরনের সিরিয়াল দিয়ে করা খুবই ভাল তবে আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা যে দিনের শেষটাও যদি এই সিরিয়াল দিয়েই করা যায় তাহলে এর ফলাফল আরো অনেক ভালো পাওয়া যায়। বিশেষ করে ঘুম যদি ধরা না দেয় বা নাগালের বাইরে থাকে সেক্ষেত্রে সিরিয়ালের জটিল শর্করা রক্তের সুগারের মাত্রার স্থিরতা আনার মাধ্যমে ঘুমাতে সহায়তা করে।

সেদ্ধ ডিম

প্রোটিন শুধু দেহের পেশী তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজই করে না সেই সাথে রাতের ভালো ঘুম আনতেও সহায়তা করে। ভাল করে সেদ্ধ করা একটি ডিমে থাকে উচ্চ মানের প্রোটিন এবং কোন ধরনের চিনি থাকে না যা আপনাকে সহজে ঘুমাতে সাহায্য করবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভালো ঘুমকে দীর্ঘস্থায়ী করে।