Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Star Cure

বিডিনিউজডেস্ক.কম
আজ ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৪৪ বছরের এই পথ চলা। আর মাত্র কয়েক বছর বাদেই আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর উৎযাপন করতে যাচ্ছি। ৪৪ বছর পর এই সময়ে এসে নানা অর্জনের ভিড়ে আমাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে কিছু তিক্ত প্রশ্নের।

আমরা কি আসলেই এই স্বাধীনতাই চেয়েছিলাম ? এই স্বাধীনতা কি প্রকৃতই আমাদের দেশের শ্রমিক শ্রেণীর জীবনমানে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্ত আসলেই আনতে পেরেছে ? এই স্বাধীনতা কি সাধারণ মধ্যবিত্ত নাগরিকদের অন্তত স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি দিতে পারছে ? সংবাদপত্র কি স্বাধীন ? মানুষ কি সু-বিচার পাচ্ছে ? আইনের শাসন কদ্দুর ?

 

সমাজ বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন স্বাধীনতার সময়ের প্রজন্ম স্বাধীনতার সুফল পায় না, সুফল পাওয়া শুরু হয় পরবর্তী প্রজন্ম থেকে। হিসেবে আমরা স্বাধীনতার পরবর্তী দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রজন্ম পার করে চতুর্থ প্রজন্মের পথে হাঁটছি। দৃশ্যত প্রাথমিক শিক্ষা-স্যানিটেশন-পোলিওর মত বিষয় গুলোতে প্রায় শতভাগ সাফল্য ছাড়া সত্যিকার অর্থে কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা সফল হতে পেরেছি। অর্জনের খাতাকে তাচ্ছিল্য করছি না অর্জনের গল্পও আছে অনেক কিন্তু কথা হচ্ছে আকাঙ্খা কি তাই ছিল ? তিরিশ লক্ষ শহিদের জীবনের বিনিময়ে পাওয়া ভু-খণ্ডকে কি আমরা সত্যিকারে ব্যাবহার করতে পেরেছি ?

 

শহিদের অবদানে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই ভূখণ্ডকে মুক্ত করতে যারা অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছেন তাদের জন্য সম্মান, কিন্তু সেই মুক্তির সংগ্রামে যারা বেঁচে গিয়েছিলেন আহত হয়েছিলেন, ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন তাদের খবর কি। আজ পর্যন্ত আমরা বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার সম্মান দিতে পারিনি, একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রনালয় থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন তো দূরে থাক চিকিৎসা মত অত্যাবশ্যকীয় জিনিসগুলোও নিশ্চিত করতে পারিনি। দ্বি-দলিয় রাজনিতীর কোন্দলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ভিড়ে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট একটা রসিকতায় পরিণত হয়েছে।

 

যেই গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র-ধর্মনিরপেক্ষতা আমাদের মূলনীতি তারই বা কদ্দুর ?

 

আজও দেশে আক্ষরিক অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ভোটের নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হবে সেই আশা আজকাল জনগণ করে না। যেই সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যাবস্থায় কথা আমরা শুনেছি, পড়েছি সেটা স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। বহুজাতিক পুঁজিবাদ আর ক্ষুদ্র ঋণের বেড়া জালে শান্তিতে নোবেল হয়ত আসছে কিন্তু বাড়ির চাল তো থাকছে না। পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশিপের মত ভয়াবহ প্রকল্পের হাতে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে বিদেশী বেনিয়াদের হাতে তুলে দিচ্ছি।

 

যেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পাকিস্তানের কাল হয়েছিলো সেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের প্রতিটা সরকারের মাথার ওপর। বই মেলার মত নিরাপদ জায়গায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অভিজিৎ রায়ের মত স্বনামধন্য লেখকদের, অপরাধ ধর্ম নিয়ে লেখালিখি। এক মাস পার হয়ে যাবার পরেও দৃশ্যত অগ্রগতি নেই তদন্তে। প্রত্যেকটা মুক্তচিন্তককে আজকাল প্রতিদিন সকালে উঠে চিন্তায় থাকতে হয় আজই তাদের জীবনের শেষ দিন নয় তো ?

 

পেট্রোল বোমা, খুন, রাজনৈতিক নেতাদের দিবা লোকে গুম হয়ে যাওয়া একটা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত বছরে প্রথম নয় মাসে গুম হয় ৮২ জন । যাদের মধ্যে ছাড়া পেয়েছে মাত্র ১০ জন। আর লাশ হয়ে ফিরে এসেছে ২৩ জন। বাকিদের খবর অজানা। ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালে গুম বা অপহরণের শিকার হয়েছিলেন ২১ জন। ২০১০-এ ৪৪ জন, ২০১১ সালে ৫৯ জন। ২০১২ সালে ৫৬ জন। ২০১৩ সালে গুমের শিকার হন ৭৬ জন। পেট্রোল বোমার রাজনীতি প্রাণ নিয়েছে শতাধিক মানুষের, হাসপাতালে ধুঁকছে হাজারো মানুষ। প্রতিদিন মানুষ ঘর থেকে বের হয় আতঙ্কে। স্কুল-কলেজের পরীক্ষা পেছাতে পেছাতে এমন অবস্থা হয়েছে যে দেশে এখন ছুটি ছয়দিন কর্ম দিবস একদিন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথাও বলতে হয়,৫৭ ধারার বেড়াজালে সাংবাদিকেরা আজকাল সেটাও বলতে ভয় পাচ্ছেন।

 

এত মৃত্যু আর হতাশার ভিড়ে খানিকটা আলোর তবুও দেখা পাই। অভিজিৎ রায়ের মৃত্যু দেশের প্রগতিশীল মহলে কিছুটা হলেও নাড়া দিয়েছে। সবাই বুঝতে পারছেন এখনই ঘুরে না দাঁড়ালে সামনে হয়তো আরও অনেক অন্ধকার পথ পাড়ি দিতে হবে আমাদের।

 

তবুও আশা হারাই না,

 

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর বাংলাদেশ আমাদের রেখে যেতেই হবে।

 

জানি আমরা পারবোই।

 

একাত্তরে এই দুর্বল বাঙালীই পেরেছিলো...

 



আরিফ রহমান

সহকারী সম্পাদক, সাতকাহন