Print

বিডিনিউজডেস্ক.কম   
তারিখ:৩১.০৩.২০১৫

গুলিস্থান জিরো পয়েন্ট থেকে মুন্সিগঞ্জের দুরত্ব ২৬ কিলোমিটার। প্রায় ৯০৫৪.৯৬ বর্গ কিঃ মিঃ বিস্তৃত এলাকায় ১৫,০২,৪৪৯ জন জনসংখ্যার বসবাস।ঢাকা থেকে খুব কাছের একটি জেলা হলেও এ জেলায় প্রবেশ করার জন্য চারটি যোগাযোগ মাধ্যম রয়েছে।

ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে প্রবেশের যে রুট গুলো রয়েছে তারমধ্যে গুলিস্থান থেকে ফতুল্লা বাই পাস দিয়ে মুক্তারপুর ব্রীজ হয়ে কাচারী পর্যন্ত রাস্তাটিই এখন পর্যন্ত চলাচলের অন্যমত মাধ্যম। এই ব্যস্তময় রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন সহস্রোর্ধ¦ নারী পুরুষ, বৃদ্ধ-বনিতা শিশু, প্রতিবন্ধি ও নানা পেশা এবং নানান শ্রেণীর মানুষ নিজেদের দৈনন্দিন প্রয়োজন তথা ব্যবসা, বানিজ্য, শিক্ষা-দিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনে বাসে যাতায়াত করেন।এছাড়াও মুন্সিগঞ্জ ঢাকার পার্শবর্তী জেলার সুবাদে ছাত্র-ছাত্রীরা নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে লেখা-পড়া করছে।

ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রবেশ করার জন্য কাচারীর মোড় থেকে কুসুমপরিবহন,দীঘিরপাড় ট্রান্সপোর্ট এবং পুরান বাজার (বট গাছের মোড়) বিআরটিসি বাস রয়েছে। প্রতিদিনই পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরকেও যাতায়াত করতে হয় বাসে।বেশির ভাগ সময় নারীদের সাথে শিশুদের উপস্থিতিও লক্ষ্যনীয়।মুন্সিগঞ্জ সদর-গুলিস্থান দীঘিরপাড় রুটে বাস চলে মোট ৬০টি ।কোন বাসে সিট সংখ্যা ৩৭টি আবার কোনটিতে ৪৪টি সিট রয়েছে। কুসুমপুরপরিবহনে সিট সংখ্যা ৩৫টি এবং বাস সংখ্যা ৩৫টি।বিআরটিসি বাসের রুট পারমিট ১০টি হলেও চলছে মাত্র ৪টি। এই সবগুলো কোম্পানির বাসের সংখ্যা ৯৯টি হলেও যাতায়াত পথে কষ্ট করতে হয় নারী ও শিশুদের। বাসে ঠাসাঠাসি করে যাত্রী নেয়ার ফলে দেখা যায় প্রয়োজন থাকা সত্তেও তাৎক্ষনীক বাসে উঠতে পারছে না আবার সিটে বসতে হয় সংকুচিত ভাবে নারীদেরকেই।

এর মধ্যে বিআটিসি সিটিং বলে এবং সিটিং চলে কিন্তু বাস সংখ্যা সীমিত হওয়াতে নারীরা রয়েছেন সুবিধাভোগে তুলনামূলক ভাবে পিছিয়ে।চলাচলের এই বিপত্তি নিয়ে কথা হল দীঘিরপাড় রুটের একজন ৪০বছর বয়শী মহিলা যাত্রী রাহেলা বেগমের সাথ। রাহেলা বেগম বললেন-গুলিস্থানে আমার পোলারা থাকে ঐহানেই ব্যবসা করে মাঝে-মদ্দেই গুলিস্তান যাই নাতিগ দেকতে কিন্তু রাস্তার যে অবস্তা তা দেইখা আর বাছে উটতে ইচ্ছা করে না একঘন্টার রাস্তা আড়াই ঘন্টায়ও শেষ হয় না। তিনি অভিযোগ স্বরে বলেন রাস্তায় বার বার বাস থামে,লোক উঠাইতেই থাকে,মহিলারা কই বইব,কই দারাইব তাও চিন্তা করে না ,শুদু বেশি মানুষ উঠাইলেই বেশি টাকা পাইব,এডাই ওগো(বাস কর্মী) চিন্তা ।”ঠিক একই রুটের একজন বিআরটিসি যাত্রীর সাথে কথা হলে তিনিও অভিযোগ স্বরে এই রুটের বেহাল দশার কথা বলেন। শুধু রাহেলা বেগম বা ছাত্রছাত্রীরা ই নয় এই রুটের সকল শ্রেনীর যাত্রীদের নানা অভিযোগের বেথর দিয়েই নিয়মিত ভাবে চলছে এই রুটের বাস।বিআরটিসি বাস দিয়ে প্রায় দের ঘন্টার মধ্যে পৈাছানো যায় গুলিস্তান। তবে দুঃখজনক হলেও এটা সত্যি যে বাস কম থাকায় আমরা সঠিক সুবিধা পাচ্ছি না।বাস ষ্টেশনে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। ইচ্ছা থাকলেও কোন মানুষই তাদের সময়মত কাজ সেরে গন্তব্যে ফেরা এবং যাওয়া কোনটায় ঠিকমত করতে পারছে না। এই রুটে এটা যে নো নিত্য ঘটনা। আর এভাবেই চলছে এই রুটের গাড়ি। একান্ত বাধ্য হয়েই সব কষ্ট সহ্য করে চলতে হচ্ছে এই রুটের যাত্রীদের।প্রায় দিনই যাত্রী এবং কন্ডাকটরদের সাথে ভাড়া নিয়ে চলে বাকবিতন্ডা। অনেক সময় নারীদের সাথে সুযোগ বুঝে আশালিন আচরন এবং নারীদের শরীরে হাত দিচ্ছে কিছু খারাপ মানুষ।

একটা রুটে যাত্রী হিসেবে যে পরিমান বাস থাকা প্রয়োজ তার তুলনায় বাস চলছে অতি অল্প। আর বাস গুলোর অবস্থা একেবারেই নড়বড়ে।মহিলাদের জন্য সামনের সিটে সবার কথা বলা হলেও কেউ মানছে না সেই নিয়ম। অনেক সময় প্রচন্ড ভিড় ঠেলে পুরুষদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কী করে দাড়িয়ে যেতে হয়। সামনে আসছে প্রচন্ড গরমের তিব্রতা। এই গরমে এভাবে সামান্য কিছু বাস দিয়ে গাদাগাদী করে পুরুষ মহিলা এক সাথে চলাচল অসম্ভ হয়ে পড়বে। রুট পারমিট মেনে এই রুটে পর্যাপ্ত গাড়ীর ব্যবস্থা না করলে এই অঞ্চলের যাত্রীদের চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর সেটা হলে এখানকার মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়বে।

নাসরিন সুমি

ছাত্রী এবং গনমাধ্যম কর্মী।