Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Star Cure

বিডিনিউজডেস্ক.কম
তারিখঃ ১৩.০৭.২০১৫

ময়মনসিংহ জেলা শহরের একটি ফ্যাক্টরি থেকে যাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ।

আহত হয়েছে আরো ২০ জন ।এরকম খবর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন নয় এবারে সংখ্যাটি বেশী । প্রতিবছরই ঈদকে কেন্দ্র করে ঈদের কিছুদিন আগে ধনীরা ইসলামী অনুশাসন পালনের লক্ষ্যে গরীবদের যাকাত দিয়ে থাকেন । সেই সাথে কতিপয় ব্যবসায়ী লোক দেখানো সমাজ সেবার পন্থা হিসেবে এই যাকা ‘কে বেছে নেয় । এদের উদ্দেশ্য সমাজ সেবা নয় , বরং নিজেদেরকে মহত প্রমাণ করে কিছুদিন পরে নির্বাচনে অংশ নেয়া । কারো কারো ক্ষেত্রে আবার এটা একধরনের ফ্যাশান হিসেবে কাজ করে । সম্প্রতি ময়মনসিংহে ঘটে যা্ওয়া ঘটনাটিতে যাকাত দাতা একজন জর্দা ফ্যাক্টরির মালিক ।বাংলাদেশের এইধরনের ফ্যাক্টরিগুলোতে কি রকম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে স্বল্প মুল্যে খাটিয়ে নেয়া হয় সেখবর কমবেশী সকলের জানা। শ্রমিকদের ঠিকমত মজুরি , ভাতা দেওয়া হয়না । বিভিন্ন অনিয়ম ও অন্যায্যতার আঁধার এই প্রতিষ্ঠানগুলো । পুলিশ এই জাকাতদাতাকে আটক করেছে। অব্যবস্থাপনার এবং সংশিষ্ট কারনে তার শাস্তিও হয়তো হবে । কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক প্রশ্ন হলো এভাবে দুই একজনেকে শাস্তি দিয়ে কী এধরনের অবান্চিত ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাবে ?
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রস্তাবনায় স্পষ্ট উদ্ধৃত হয়েছে, আমরা আরো অঙ্গীকার করছি যে, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হইবে গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষনমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা, সাম্য ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে:
সুতরাং, রাষ্ট্রের তার নাগরিকের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ এই মর্মে যে , রাষ্ট্র তার সকল নাগরিকের জন্য মৌলিক মানবাধিকার , অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চত করবে । দু:খজনকভাবে সত্য, রাষ্ট্র তার অঙ্গীকারপালনে ব্যর্থহয়েছে বিধায় এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে । এদেশের হতদরিদ্র মানুষগুলো ঈদের আগে সামান্য কিছু টাকা ও একটুকরো কাপড়ের আশায় ছুটে গিয়ে এই ধরনের মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হচ্ছে । প্রদেয় সাহায্যের তুলনায় সাহায্যপ্রার্থীর ভীড় এতটাই হয় যে কে কখন কাকে পীষ্ট করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা ভাবার অবকাশ থাকে না । রাষ্ট্র নিজে হাতে এই অসাম্য জিইয়ে রেখেছে । নিম্ন শ্রেনীর মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে না,  অন্যদিকে ধনীক শ্রেনী আরো ধনী হচ্ছে । সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত রাষ্ট্র জীবনের অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের হলেও সরকার সেদিক উদাসীন । ১৫(ক) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত খাদ্য , বস্ত্র , বাসস্থানের অধিকার এখনো মৌলিক অধিকারে উন্নীত হতে পারে নি । সরকারের ধ্যান গ্যান ডিজিটালাইজেশনের মত গৌণ বিষয়ে আবদ্ধ হয়ে আছে ।
মূলত সরকার নাগরিকের প্রতি তার অঙ্গীকার থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে । একটি জীবনের মূল্য দশ হাজার টাকা নয় । যে জীবনটা নিভে গেছে তার সাথে আরো অনেক জীবন জড়িয়ে আছে তাদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে না । অথচ, এই জীবনগুলোর নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের বা রাষ্ট্রের । একটি রাষ্ট্রের উন্নতি তখন হয় যখন সে রাষ্ট্রের নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা থাকে, খাদ্যের নিশ্চিয়তা থাকে। রাষ্ট্র খুব সফলভাবে প্রস্তাবনায় উল্লেখিত মৌলিক মানবাধিকতার সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকার ভূলুন্ঠিত করে সম্রাজ্যবাদ ও পুজিবাদের খোলসে গনতন্ত্রকে বন্দী করে ফেলেছে যেটা রাষ্ট্রকে নষ্টের অপদখলে নিয়ে যাচ্ছে এবং এরই বলি হচ্ছে এদেশের হতদরিদ্র, নিরীহ মানুষগুলো ।শাসক ও শোষকশ্রেনী কর্তৃক সৃষ্ট এহেন প্রচ্ছন্ন অন্ধকারের কবল থেকে দেশ ও জাতির মুক্তির অপেক্ষায় আমরা সাধারণ নাগরিক ……………………………………….খুশির ঈদ শোকে পরিণত না হোক, প্রত্যাশা করি ।


রওনক জাহান সম্প্রীতি
তরুন সংবিধান গবেষক ও আইন শিক্ষার্থী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া