Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Star Cure

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ২৫.১০.২০১৮

মানব দেহের অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লবণ। এই লবণ আমরা নানা খাদ্য হতে গ্রহণ করি। আবার সরাসরিও গ্রহণ করি।

খাবারে স্বাদ আর পুষ্টি আনতে চাইলে লবণকে বাদ দিয়ে সেটি সম্ভব নয়। তবে ব্যক্তিভেদেও এই লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমবেশি হয়। অনেকেরই খাবারের সঙ্গে বাড়তি লবণ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। খেতে বসে আগে লবণের পাত্রটি টেবিলে আছে কিনা এটা নিশ্চিত হন অনেকে।

 

কিন্তু প্রয়োজনের বেশি পরিমাণে লবণ খেয়ে আপনি যে কতটা ক্ষতি বয়ে আনছেন তা হয়তো আপনি নিজেই জানেন না। লবণ শরীরের জন্য অত্যন্ত দরকারি হলেও অতিরিক্ত লবণ কিন্তু স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। লবণকে নীরব ঘাতকও বলা হয়।

 

লবণের ভালো এবং মন্দ - দুটো দিকই রয়েছে। সব মিলিয়ে লবণ খাবারের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। জেনে নিন অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ক্ষতিকর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে:

 

উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা বাড়ে

 

অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ খেলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকতে পারে না, বেড়ে যায়। আর রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আর্টারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই কারণে আমাদের হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। তাই অতিরিক্ত কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিন। না হলে অকালে হারাতে হতে পারে প্রাণ।

 

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়

 

বেশি মাত্রায় লবণ খেলে শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি হয়। এতে করে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর সহ হার্টের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ায়। তাই নিজের হার্টের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লবণ খাওয়া কমিয়ে দিন। বিশেষ করে কাঁচা লবণ একদমই খাবেন না।

 

ক্যানসার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়

 

ক্যানসার যে বিশাল এক মহামারী সেটা সবাই জানি। বেশি পরিমাণে লবণ খেলে এই ক্যানসারের মতো মারণ রোগে আক্রান্তের প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাত্রাতিরিক্ত লবণ খেলে পাকস্থলির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

 

কিডনি খারাপ হয়ে যেতে পারে

 

শরীরে ইলোকট্রোলাইটসের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে লবণের কোনো বিকল্প হয় না। কিন্তু সেজন্য যে বেশি বেশি লবণ খেতে হবে, এমনটা নয়। কারণ বেশি লবণ আমাদের কিডনির কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে কিডনি একেবারেই অকেজো হয়ে যেতে পারে।

 

পাকস্থলির আলসার

 

শরীরে বেশি পরিমাণে লবণ ঢুকলে আমাদের পাকস্থলির আবরণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে পাকস্থলির আলসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। সেই সঙ্গে শরীরে পানির ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে নানা রকমের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

 

অস্টিওপোরোসিস

 

শরীরে লবণের মাত্রা যত বাড়তে থাকবে, তত পানির পিপাসা হবে। আর পানি বেশি করে খেলে প্রস্রাবও বেশি হবে। ফলে শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বেরিয়ে যাবে বেশি করে। ফলে শরীরের হাড় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে গিয়ে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগ বেড়ে যায়।

 

মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে

 

বেশি মাত্রায় লবণ খেলে ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি কমে যেতে থাকে। সেই সঙ্গে ব্রেন ফাংশন ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং মনসংযোগ কমে যাবে। এর ফলে আপনার স্বাভাবিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই পরিমিত লবণ খান। বেশি লবণ খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিন।