আজ সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

জন্ডিসের রোগী? কী খাবেন কী খাবেন না

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৩.১০.২০১৬

আমাদের শরীরে বিলিরুবিন নামক রজ্জক পর্দাথের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে শরীর হলুদ হয়ে যায়, তাকে আমরা জন্ডিস বলি।

রক্তের লোহিতকণিকা প্রতি ১২০ দিন পর ভেঙ্গে যায়, আর তা থেকে বিলিরুবিন তৈরি হয়। যকৃত বা লিভারের কাজ হলো বিলিরুবিনকে বাইল বা পিত্তের সাথে শরীর থেকে বের করে দেয়া।

কিন্তু যখন কোন কারণে লিভার বিলিরুবিনকে শরীর থেকে বের করতে পারে না কিংবা অতিরিক্ত বিলিরুবিন তৈরি হয় তখন জন্ডিস দেখা হয়। জন্ডিস হলে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

● জন্ডিস সম্পর্কে আমাদের সমাজে প্রচুর ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তার মাঝে একটি হচ্ছে জন্ডিস রোগীর খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে। জন্ডিস হলে হলুদ দেয়া তরকারি খাওয়া যাবে না কিংবা হলুদ রঙের কিছু খাওয়া যাবে না, তারপর আখ চিবিয়ে খেলে ছোবরার সাথে হলুদ রং শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে এ ভ্রান্ত ধারণাগুলোর অন্যতম।

প্রথমেই আসা যাক জন্ডিস হলে কি কি খাবেন সে ব্যাপারে। জন্ডিস হওয়া মানে লিভার ঠিকমত কাজ করছে না। আমরা যেসব খাবার খাই তার মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া সম্পন্ন হয় লিভারে আর বাইল বা পিও তৈরি হয় লিভারে যা কিনা ফ্যাট মেটাবলিজমে সহায়ক।

● তাই জন্ডিস হলে প্রথম কথা হচ্ছে ফ্যাট ফ্রি ডায়েট। তেলে ভাজা জিনিস খাওয়া যাবে না। তবে শরীরে ফ্যাট এর কিছু প্রয়োজন অবশ্যই আছে। তাই রান্নায় অল্প তেল ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকেরা বলেন নরমাল ডায়েট খেতে। কিন্তু মনে করুন রোগী প্রত্যেকদিন পরোটা-মাংস খেয়ে অভ্যস্ত। এক্ষেত্রে অবশ্যই পরোটা-মাংস খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। নরমাল ডায়েট বা লাইটডায়েট মানে রোগীকে ভাত-মাছের রোল, সেদ্ধ সবজি, ফল এগুলো খেতে হবে। প্রতিদিন ৪০-৫০ গ্রাম প্রোটিন এবং ২০ গ্রামের মত ফ্যাট খাওয়া দরকার।

● জন্ডিসের রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া, ফ্যাট এ সময় কম খেতে হয় আর তাই সকল এনার্জি এসময় পূরণ করতে হয় কার্বোহাইড্রেট থেকে থাকে বলা হয়ে থাকে ‘কার্বোহাইড্রেট লোডিং’। তাই প্রচুর পরিমাণে চিনির শরবত, গ্লুকোজ খেতে বলা হয় রোগীকে। অনেকে আখের রস খাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু রাস্তার আখের রস কোনভাবেই খাওয়া ঠিক না আরেকটা কথা এখানেই বলে রাখি ফলের রস খাওয়াটা খুব জরুরী। তবে অবশ্যই কেনা কিংবা টিনের ফলের রস নয়। তাজা ফলের রস খাবেন। আর কিছু ভ্রান্ত ধারণার মাঝে রয়েছে বাতাবিলেবু খাওয়া। অনেকে মনে করেন বাতাবিলেবু খেলে জন্ডিস ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু এরকম কোন বিশেষ ক্ষমতা আসলেই বাতাবিলেবুর আছে কি?

● ভিটামিন সি যে কোন ইনফেকশনের সময় খুবই কাজ দেয়। তাই জন্ডিসের সময় প্রচুর ফল যেমন কমলালেবু বা বাতাবিলেবু খেতে হবে। তবে এমন কোন কথা নেই যে প্রয়োজীয় ভিটামিন সি বাতাবিলেবু থেকেই পেতে হবে। বাতাবিলেবু বা যে কোন ফল থেকেই ভিটামিন সি পেতে পারেন একজন জন্ডিস রোগী।

● এবার আসা থাক, শাক-সবজির কথায়। যে কোন শাক-সবজি খাওয়া যেতে পারে। সেদ্ধ শাক-সবজি খাওয়া সবচেয়ে ভালো। আর দুধ খেতে চাইলে তা ‘স্কিমত মিল্ক’ হলে ভালো হয়।

● একজন জন্ডিস রোগীর অনেক খাবারই পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ সেসব আবার সহজপাচ্য নয় কিংবা লাইট ডায়েটের মাঝে পড়ে না সেগুলো খাওয়া যাবে না। আগেই জানা গেছে যে, ফ্যাট কম খেতে হবে। আরেকটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে যে মশলাদার ঝাল খাবার খাওয়া যাবে না, তেলে ভাজা খাবার এবং চর্বিযুক্ত মাংস অর্থাৎ গরু-খাসির মাংস, কলিজা, মগজ এগুলো খাওয়া যাবে না।

● ডিমের কুসুম না খাওয়াই ভালো তবে সাদা অংশ খেতে পারেন। চকলেট, কেক এগুলো খাওয়া বাদ দিতে হবে। তাছাড়া ব্যক্তিবিশেষে হজমে গণ্ডগোল হয় এমন খাবার বাদ দিতে হবে। চা, কফি, পানে যারা অভ্যন্ত তাদেরকে এ সময়টার জন্য চা, কফি পান করা থেকে চিরত থাকতে হবে। আর সবচেয়ে জরুরী কথা মদ্যপান বা অ্যালকোহল গ্রহণ করা যাবে না। জন্ডিসের সময় মদ্যপানে লিভারের অন্যান্য অসুখ যেমন সিরোসিস হতে পারে। আর এতে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। মদ্যপান পরিহার করতেই হবে।

● নিয়মিত প্রচুর পরিমাণ গ্লুকোজের পানি, ফলের রস খেতে হবে। সেই সাথে ভাতের সাথে হালকা মশলার রান্না মুরগি, মাছ (ইলিশ, চিতল এসব বড় তেলওয়ালা মাছ ছাড়া সবজি ইত্যাদি সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে জন্ডিস রোগীকে। সঠিক খাবার গ্রহণ জন্ডিস রোগীর চিকিৎসা একটি প্রধান অংশ। তাই জন্ডিস হলে ঝাড়ফুকঁ কিংবা মালা পরানো ইত্যাদি নানা কুসংস্কারের মাঝে রোগী না ফেলে রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং নিয়মিত সঠিক খাবার রোগীকে খেতে দিন। এতে করে রোগী অবশ্যই সুস্থ হবেন বলে আশা করি।