মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ২৭.১০.২০১৮

শীতের আগমনী বার্তায় হালকা ঠাণ্ডা বাতাসের সঙ্গে শীতের শুস্কতা বইছে প্রকৃতিতে। এই সময়টাতে না খুব বেশি ঠাণ্ডা বা খুব বেশি গরম থাকে না। মোটামুটি সুন্দর একটি আবহাওয়া।

কিন্তু বেলা বাড়তে না বাড়তেই রোদ, হালকা গরম শুরু হতে থাকে। এই গরম আর হালকা ঠাণ্ডার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে আমাদের শরীরে। ঋতু পরিবর্তনের বিভিন্ন রোগবালাই শুরু হতে থাকে।

 

আবহাওয়ার তারতম্য, ঋতু পরিবর্তন, বাতাসে আর্দ্রতার ওঠানামার কারণে জ্বরের প্রকোপ দেখা দেবে। ঋতু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এই জ্বর বেশিরভাগই ভাইরাসজনিত।

 

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাস যখন বেড়ে যায়, তখন ভাইরাল ফিবা্র, ভাইরাল রাইনাইটিস, সাইনোসাইটিস এগুলো হয়। আর আমাদের শরীরের সঙ্গে যে একটি ভারসাম্য থাকে এখানে পরিবর্তন হয়। পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সময় কাশি হয়, সর্দি হয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরের পরিবর্তন হয়, এটি হলো প্রধান কারণ।

 

কি কি রোগ নিয়ে সাবধান থাকতে হয়

 

শীত আসতে থাকলে প্রধানত শ্বাসতন্ত্রের রোগ বাড়ে বেশি। শীতে বাতাসের তাপমাত্রা কমার সঙ্গে আর্দ্রতাও কমে যায়, যা শ্বাসনালির স্বাভাবিক কর্ম প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে। ফলে ভাইরাসের আক্রমণ সহজ হয়। এছাড়া ধূলোবালির পরিমাণ বেড়ে যায়। ঠান্ডা, শুষ্ক বাতাস হাঁপানি রোগীর শ্বাসনালিকে সরু করে দেয়, ফলে হাঁপানির সমস্যা বাড়ে।

 

এছাড়া নাক বন্ধ হয়ে যায়। অনবরত পানি ঝরতে থাকে। হাঁচি আসে। হালকা জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। এটা মূলত শ্বাসতন্ত্রের ওপরের অংশের রোগ।

 

ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়- জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা খুশখুশ করা, হাতে-পায়ে ব্যথা বা শরীর ম্যাজম্যাজ করা ইত্যাদি। ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে ভয় না পেয়ে বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাদ্য, প্রচুর পরিমাণে পানি পান ও ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। গলাব্যথা বা গলা খুশখুশ করলে গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গড়গড়া করলে আরাম মিলবে।

 

শীতের শুরুতে ফুসফুস নয়, সাইনাস, কান ও টনসিলের প্রদাহও বাড়ে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। এছাড়া যাদের হাঁপানি বা অনেক দিনের কাশির সমস্যা যেমন ব্রংকাইটিস আছে, এই আবহাওয়ায় তাদের কষ্টও বাড়ে।

 

শীতের শুষ্কতায় অনেকের ত্বক ফেটে যায় এবং চর্মরোগ দেখা দেয়। শীত খুব তীব্র হলে হৃদযন্ত্রের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। শীতের শুরুতে মশার খুব উপদ্রব বাড়ে। তাই মহাবাহিত রোগ থেকে সাবধান।

 

কুসুম গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। তুলসী পাতার রস, আদার রস, বাসক পাতার রস, কালিজিরা প্রভৃতি ঔষধি দ্রব্যের ব্যবহারও উপসর্গ কমাতে পারে। যদি রোগের তীব্রতা বেড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।

 

শিশুদের জন্য নিউমোনিয়া একটি সাধারণ রোগ। নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই দ্রুত চিকিত্সকের শরণাপন্ন হতে হবে। গ্রহণ করতে হবে যথাযথ ব্যবস্থা চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী।

 

ঠাণ্ডা পানি, ঠাণ্ডা খাবার পরিহার করা, বাইরে বের হওয়ার সময় স্কার্ফ বা মাফলার দিয়ে মাথা, কান ও নাক ঢেকে রাখা, হাতে ও পায়ে মোজা ব্যবহার করা প্রয়োজন। কোনো খাবারে যদি অ্যালার্জি থাকে, তবে সেটি এড়িয়ে চলতে হবে। বাড়িতে বা কর্মক্ষেত্রে আপনার ঘরটিকে যতটা সম্ভব উষ্ণ রাখতে চেষ্টা করুন। এছাড়া যদি ইনহেলারে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, তবে সেটি সঙ্গে রাখুন।

 

শীতের সময়টাতে সুস্থতা নিশ্চিত করতে গ্রহণ করতে পারেন এই পদক্ষেপগুলো:

 

ঠাণ্ডা খাবার ও পানীয় পরিহার করা।

 

পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ, কাঁচাসবজির সালাদ, ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’যুক্ত ফলমূল গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা, যা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে দেহকে রাখবে সুস্থ।

 

নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করা।

 

নিয়মিত ও পরিমিত কায়িক পরিশ্রম।

 

আপনার ঘরবাড়ি তথা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা।

 

হাত ধোয়ার অভ্যাস করা, বিশেষ করে নাক মোছার পর পর; বাইরে থেকে আসার পর এবং খাদ্যবস্তুর সংস্পর্শে আসার আগে হাত ধোয়া।

 

ধূমপান পরিহার করা।

 

ঘরের দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ করে দিয়ে একটি নির্মল বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করা।