মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ২৯.১০.২০১৮

শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো একটির সমস্যা দেখা দিলে পুরো শরীরটাই অকেজো হয়ে পড়ে।

এই যেমন কিডনি, অন্যতম জরুরি একটি অঙ্গ। কিডনি রোগ খুব নীরবে শরীরের ক্ষতি করে। কিডনীর মাধ্যমেই শরীরের সকল দূষিত ও অতিরিক্ত পদার্থ দূর হয়। সেই কিডনিতে সমস্যা মানেই দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ভুগতে হয়, এটা প্রাণঘাতীও হতে পারে। খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত লক্ষণগুলো ভালোভাবে প্রকাশও পায় না।

কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু কিডনি রোগ আছে, সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে কিডনি ফেইলুর হয়ে যায়। অর্থাৎ কিডনি তার স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না। কিডনি ফেইলুরের অন্যতম কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস রোগ।

কিডনি রোগের যেকোন ষ্টেজের জন্যই কিডনি রোগ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনই হচ্ছে এই রোগ নিরাময়ের মূল শক্তি। কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা থাকলে সেই অনুযায়ী নিরাময়ের ব্যবস্থা নেয়া সহজ হয়। আপনার অথবা আপনার পরিচিত কারো যদি কিডনি রোগের এক বা একাধিক লক্ষণ দেখা যায় তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলে ব্লাড ও ইউরিন টেস্ট করিয়ে নিশ্চিত হোন। কারণ কিডনি রোগের উপসর্গ গুলোর সাথে অন্য স্বাস্থ্য সমস্যার উপসর্গের মিল আছে।

 

কিডন বিকল হতে শুরু করলে এই লক্ষণগুলো দেখা যাবে-

 

শরীরে চুলকানি হওয়া

 

যদি দেখেন দীর্ঘদিন ধরে ত্বকে র‌্যাশ দেখা দিয়েছে, এবং সেটি কমছে না তাহলে একটু সাবধান হোন। কেননা অনেক সময়ে কিডনির সমস্যা হলে কোনো চুলকানি ভালো হতে চায় না। এমন অবস্থায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

 

যদি খাবারে রূচি না থাকে

 

কিডনিতে জটিলতা দেখা দিলে অনেক সময় রক্তে দূষিত ও ক্ষতিকর পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এতে করে খাবারে কোনো স্বাদ পাওয়া যায়না। শুধু তাই নয়, খেতে গেলে কটু একধরণের ধাতব স্বাদ লাগতে পারে, মুখ পানসে হতে পারে। এছাড়া মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। এই লক্ষণগুলো নিয়মিত দেখা দিলে কিডনি নিয়ে একটু ভাবুন।

 

ওজন কমতে থাকা

 

মুখে যদি স্বাদই না থাকে তবে খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাবে স্বাভাবিকভাবেই। মুখে গন্ধ হওয়ায় খাবার খেতে গেলে বমিভাব হয়। না খেয়ে শরীরের রোগবালাই বেড়ে যায়, শক্তি কমতে থাকে। সেই সঙ্গে কমতে থাকে ওজন।

 

বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা

 

বারবার প্রস্রাবের বেগ আসলে সবাই ভাবে নিশ্চয়ই ডায়বেটিসের সমস্যা শুরু হয়েছে। কিন্তু ডায়বেটিস না থাকার পরেও যদি প্রস্রাবের বেগ বেশি হয় তাহলে সেটা অন্য জটিল রোগের লক্ষণ হতে পারে। কিডনির সমস্যা হলেও বারবার প্রস্রাবের বেগ আসে, প্রস্রাবের পরিমাণেও তারতম্য দেখা যায়।

 

প্রস্রাবে সঙ্গে রক্ত যাওয়া

 

যদি প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসে বা ঘন ফেনাযুক্ত প্রস্রাব হয়, তাহলে বুঝতে হবে কিডনির অসুস্থতার লক্ষণ। তাই অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

 

হাত এবং পায়ে পানি আসা

 

কিডনি শরীরের অতিরিক্ত জলীয় উপাদান বের করে দেয়। কিন্তু কিডনি বিকল হতে শুরু করলে এই কিডনি আর এই কাজটি পারেনা, তখনই ঘটে বিভ্রাট। ফলে অতিরিক্ত জলীয় অংশ জমা হতে থাকে হাঁটু, পা, পায়ের পাতা, বাহু ও মুখে। এরকমটা হলে কখনো অবহেলা করবেন না।

 

শরীর দুর্বল লাগা

 

কিডনি যদি আগের মতো কাজ করতে না পারে তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, কোনো কাজ করা যায়না। এছাড়াও সর্দি-কাশির মতো সমস্যাগুলোও আক্রমণ শুরু করে দেবে। তিই দুর্বল লাগলে কখনো অবহেলা করে বসে থাকবেন না। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

 

চোখের চারপাশে ফুলে গেলে

 

যখন কিডনি অনেক বেশি লিক করে তখন প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন প্রস্রাবের সাথে বাহির হয়ে যায় বলে চোখের চারপাশে ফুলে যায়।

 

ক্ষুধা কমে গেলে

 

এটা খুবই সাধারণ সমস্যা কিন্তু শরীরে টক্সিনের উত্‍পাদন বৃদ্ধি পেলে কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ফল স্বরূপ ক্ষুধা কমে যায়।

 

মাংসপেশীতে খিঁচুনি হলে

 

কিডনির কর্মক্ষমতা নষ্ট হলে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা এবং মাংসপেশিতে খিল লাগার সমস্যা দেখা দেয়। যেমন- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা কমে গেলেও মাংসপেশিতে খিল লাগার সমস্যা দেখা দেয়।

 

সবসময় শীত বোধ হওয়া

 

কিডনি রোগ হলে গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত শীত অনুভব হয়। আর কিডনিতে সংক্রমণ হলে জ্বরও আসতে পারে।

 

এছাড়াও ঘুমের সমস্যা হওয়া, ঘুমের সমস্যা হওয়া।

 

কিডনীকে সুস্থ রাখতে করণীয়

 

১. কায়িক পরিশ্রম ও নিয়মিত ব্যায়াম করা।

 

২. উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।

 

৩. সুপ্ত উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা।

 

৪. স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।

 

৫. পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা।

 

৬. ধূমপান থেকে বিরত থাকা।

 

৭. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন না করা।

 

৮. নিয়মিত কিডনীর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা।