Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Star Cure

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ০৩.০৭.২০১৯

 

জরায়ুর বাইরে কোনো জায়গায় ভ্রূণ প্রতিস্থাপিত হওয়ার বিপদের নাম অ্যাকটোপিক প্রেগন্যান্সি।

এটি জরুরি ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি, যাতে যেকোনো মুহূর্তে টিউব ফেটে গিয়ে রোগীর জীবনাশঙ্কা দেখা দিতে পারে। তবে শুরুতে শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো যায়। নারীর জটিল এই গর্ভধারণ নিয়ে লিখেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সাবেক প্রধান, সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ও একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর  অধ্যাপক ডা. মালিহা রশিদ

 

সাধারণত একজন নারীর ফারটিলাইজড এগ (নিষিক্ত ডিম্ব) ফ্যালোপিয়ান টিউবের মধ্য দিয়ে চলাচল করে ইউটেরিন লাইনে প্রতিস্থাপিত হয়ে ইউটেরাসের অভ্যন্তরে গর্ভসঞ্চার করে। অন্যদিকে অ্যাকটোপিক প্রেগন্যান্সিতে ফারটিলাইজড এগ ইউটেরাসের লাইনের পরিবর্তে দেহের অন্য কোনো স্থানে (বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফ্যালাপিয়ান টিউবে) ডেভেলপ করতে শুরু করে। এ জন্য একে টিউবাল প্রেগন্যান্সিও বলা হয়।

জরায়ু বা দেহের অন্য কোনো অঙ্গেও এ ডিম্ব প্রতিস্থাপিত হয়ে অ্যাকটোপিক প্রেগন্যান্সি করতে পারে। ২ শতাংশ নারীর এ ধরনের প্রেগন্যান্সির আশঙ্কা থাকে। তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নিলে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

 

কারণ

যেসব কারণে অ্যাকটোপিক প্রেগন্যান্সি হতে পারে তা হলো—

►  জরায়ু ও এর পার্শ্ববর্তী স্থানে ইনফেকশন এবং প্রদাহ।

►  সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড অসুখ।

►  জন্মগতভাবে বেশি লম্বা টিউব থাকা ইত্যাদি।

 

বোঝার উপায়

গর্ভাবস্থার কোনো রকম লক্ষণ প্রকাশের আগেই পিরিয়ড মিস করার এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই এটা ঘটতে থাকে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে সামান্য ভ্যাজাইনাল ব্লিডিং এবং তলপেটে ব্যথার মতো কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মাসিকের তারিখ পার হয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা, মাসিকের রাস্তায় অল্প রক্তপাত ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিলে অ্যাকটোপিক প্রেগন্যান্সির কথা প্রথমে মাথায় রাখতে হবে। স্বাভাবিক গর্ভপাতের তুলনায় অ্যাকটোপিক প্রেগন্যান্সিতে রক্তপাত কম থাকে। রক্ত পরীক্ষায় বিটা এইচসিজি নামের হরমোন সাধারণ গর্ভাবস্থা থেকে কম থাকে। আল্ট্রাসনোগ্রামে জরায়ুর বাইরে জেসটেশনাল স্যাক বা গর্ভাধান পাওয়া যায়।

ফ্যালাপিয়ান টিউব থেকে ব্লিডিং হলে অথবা টিউব ফেটে গেলে পেটে ব্যথা বাড়তে থাকে। রোগী অজ্ঞানও হতে পারে। গর্ভবতী মায়ের অতিরিক্ত রক্তপাতে মৃত্যুর ঝুঁকি পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।

 

ঝুঁকি বেশি যাদের

►  গর্ভবতী মায়ের বয়স ৩৫-৪৪ বছর হলে।

►  এর আগেও এ ধরনের প্রেগন্যান্সি হয়ে থাকলে। 

►  আগে পেটে কোনো সার্জারি করা হলে।

►  পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিস থাকলে।

►  আগে একাধিকবার গর্ভপাত হলে বা টিউব প্রেগন্যান্সির ইতিহাস থাকলে।

►  জন্মগত টিউবের ত্রুটি থাকলে বা আগে টিউবে কোনো অস্ত্রোপচার করা হলে।

►  একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক থাকলে।

►  দীর্ঘদিন বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা নিলে।

►  ধূমপায়ী হলে।

►  এন্ডোমেট্রিওসিস নামের অসুখ থাকলে ইত্যাদি।

 

জটিলতা

অ্যাকটোপিক প্রেগন্যান্সি মাতৃমৃত্যুর একটি অন্যতম কারণ। যত দ্রুত এ সমস্যা শনাক্ত করা যায়, তত রোগীর সেরে ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ ধরনের গর্ভাবস্থার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো টিউব ফেটে যাওয়া। টিউব ফেটে গিয়ে পেটের ভেতর রক্তপাত হয়ে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়। এতে মৃত্যুঝুঁকিও থাকে অনেক বেশি। তখন দ্রুত অস্ত্রোপচার করে আক্রান্ত টিউব কেটে বাদ দিতে হয়। তবে ফেটে যাওয়ার আগেই সমস্যা ধরা পড়লে অপারেশন এড়ানো সম্ভব। মেথোট্রেকজ্যাট নামের ইনজেকশন দিয়ে এ গর্ভ অপসারণ করা সম্ভব। আজকাল পেট কেটে অপারেশন না করে ল্যাপারস্কপির সাহায্যে ফুটো করেও এই অপারেশন  করা হয়। তাই এ ধরনের সমস্যার বিষয়ে প্রত্যেক নারীর সচেতন থাকা উচিত।

 

পরীক্ষা-নিরীক্ষা

স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার তুলনায় অ্যাটকোপিক প্রেগন্যান্সিতে রক্তে বিটা এইচসিজির মাত্রা কম থাকে। আল্ট্রাসনোগ্রামে জরায়ুর বাইরে জেসটেশনাল স্যাক বা গর্ভাধান পাওয়া যায় এবং জরায়ুতে কোনো গর্ভাধান থাকে না।

 

করণীয়

বিবাহিত নারী, যাদের অনিয়মিত মাসিক হয়, দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা করছেন বা ওপরে উল্লিখিত অ্যাকটোপিক প্রেগন্যান্সির কোনো কারণ বিদ্যমান আছে, তাদের হঠাৎ তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করা মাত্রই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী তলপেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম ও প্রেগন্যান্সি টেস্টের জন্য মূত্র পরীক্ষা করানো উচিত।

অন্যভাবে বলা যায়, যেকোনো বিবাহিত নারীর প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ পাওয়ার পর বাচ্চা জরায়ুর ভেতরে নাকি বাইরে আছে, তা বোঝার জন্য প্রথম দুই মাসের মধ্যে একটা পেলভিক আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে হবে, কেননা পরীক্ষায় নিশ্চিত প্রমাণ মিললে টিউব ফেটে যাওয়ার আগেই অপারেশন না করে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমেও রোগীর মৃত্যুঝুঁকি অনেক কমানো যায়।

রোগ নির্ণয়ের পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করাতে হবে। ঠিক কত দিন পর্যন্ত চিকিৎসা না করালেও চলবে, তা অবশ্য বলা যায় না। রোগটির বিভিন্ন ধরন ও মাত্রা রয়েছে, সে অনুযায়ী যেকোনো মুহূর্তেই মারাত্মক বিপত্তি ঘটে যেতে পারে। তাই সচেতন থাকা ভালো।