Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Star Cure

বিডিনিউজডেস্ক.কম  

তারিখঃ১৩.০৫.২০১৫  

বর্ষায় নানা ধরনের অসুখ-বিসুখের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। আর বড়দের চেয়ে শিশুরাই এ সময়টাতে অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয় বেশি। তাই এ সময় সতর্ক থাকা খুব জরুরি।

এ সম্পর্কে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্ষায় আবহাওয়া থাকে স্যাঁতসেঁতে। সঙ্গে হঠাৎ বৃষ্টি, ভ্যাপসা গরম, আবার ঠাণ্ডা বাতাসও হয়ে থাকে। আবহাওয়ার এই যখন অবস্থা, এসব পরিবর্তন ছোটরা সহ্য করতে পারে না। এ সময়টাতে শিশুদের সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর, টাইফয়েড জ্বর, ডেঙ্গু জ্বর, ছত্রাক সংক্রমণ, ডায়রিয়াতে বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

সর্দি-কাশি: সর্দি-কাশি ভাইরাসজনিত রোগ। প্রচণ্ড গরমের পর হঠাৎ করে বৃষ্টি এবং কিছুটা ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় শ্বাসতন্ত্র সহজেই সংক্রমিত হয়ে সর্দি-কাশি হয়। ফলে জ্বর, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি-কাশি ইত্যাদি দেখা দেয়। সর্দি-কাশিতে ঘরোয়া দাওয়াই বেশ কার্যকর। আদা ও লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে কিংবা আঙুরের রস খাওয়ালে শিশুর কাশি অনেকটা কমে যাবে। সঙ্গে আদা, লেবু, পুদিনা পাতা দিয়ে রং চা, তুলসি পাতার রস ও মধু মিশিয়ে খাওয়ালেও শিশু আরাম পাবে। সর্দিতে নাক বন্ধ থাকলে লবণ জলের পানি কিংবা ন্যাজাল ডিকনজেসট্যান্ট এক-দুই ফোঁটা দিয়ে নাক পরিষ্কার করা যেতে পারে।

ভাইরাস জ্বর: এই সময়ে হঠাৎ ভ্যাপসা গরমে শিশু ঘেমে যায়। মুছে না দিলে সেই ঘাম শরীরে বসে ভাইরাস জ্বর হয়। আবার বৃষ্টিতে ভিজেও এ জ্বর হতে পারে। ভাইরাস জ্বরে শিশুর শীত শীত ভাব, শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, খাওয়ার অরুচি, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়াসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক শিশুর পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া বমিও হতে পারে। ভাইরাস জ্বর সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিনেই ভালো হয়ে যায়। তাই এ সময়টাতে কোনো ধরনের এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো উচিত নয়। বরং এ সময়টাতে ঘরোয়া চিকিৎসা দিন। স্বাভাবিক পানিতে সুতি কাপড় ভিজিয়ে পুরো শরীর চেপে চেপে স্পঞ্জ করলে শিশুর জ্বর অনেকটাই কমে আসবে। সেই সঙ্গে ঘরের দরজা জানালা খুলে আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দিন। নানা রকম তরল খাবার যেমন-পানি, ঘরে তৈরি ফলের রস, সবজির স্যুপ এ সময় শিশুর জন্য আদর্শ খাবার। পাশাপাশি হারবাল চা, আদার রস, তুলসী পাতার রসও বেশ উপকারী।

ডেঙ্গুজ্বর: শিশুর শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, জ্বর, অক্ষিকোটর ব্যথা, শরীরের হাড় ও মাংসে ব্যথা, চোখ ব্যথা ও পানি পড়া, বমি ইত্যাদি শিশুদের ডেঙ্গুজ্বরের প্রাথমিক লক্ষণ। অনেক সময় নাক দিয়ে ও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, শরীরে রক্তিম আভা, রক্তবমিও হতে দেখা যায়। জ্বর কমানো জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়। ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, জুস এ সময় শিশুকে বেশি বেশি খাওয়াতে হবে। ডেঙ্গুজ্বর হলে শিশু রাতে তো বটেই দুপুর ও বিকালে ঘুমালেও মশারি টানাতে হবে। ডেঙ্গুজ্বর থেকে দূরে থাকতে বাড়ির আশপাশের টবে বা পড়ে থাকা পাত্রে এক সপ্তাহের বেশি পানি জমতে দেয়া যাবে না।

টাইফয়েড: টাইফয়েড একটি সংক্রমক রোগ। টাইফডে বাহক এবং আক্রান্ত রোগীর মলমূত্র এ রোগের উৎস। ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সের মধ্যে এ জ্বর বেশি হতে দেখা যায়। পচা বাসি খাবার, দূষিত পানি, মাছির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। রোগের প্রথম সপ্তাহে শিশুদের জ্বর, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও বমি হয়। প্রথম সপ্তাহের শেষে শরীরে লাল দাগ, কাশি, পেট ফুলে যেতে দেখা দেয়। চিকিৎসা না হলে টাইফয়েড থেকে অন্যসব জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ডায়রিয়া: এই ঋতুতে হঠাৎ করে দিনে তিন বা এর চেয়ে বেশি পাতলা পায়খানা বা সবুজ পায়খানা হলে শিশুর ডায়রিয়া হয়েছে ধরে নেয়া যায়। ডায়রিয়ার রোগজীবাণু খাদ্য বা পানির মাধ্যমে শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। শহরে ট্যাপের পানি অনেক সময় সেপটিক ট্যাংক বা সুয়ারেজ লাইনের সংস্পর্শে এসে দূষিত হয়। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, যেখানে সেখানে মলত্যাগ, হাত না ধোয়া, বড় নখ, পচা বাসি খাবার ইত্যাদি ডায়রিয়ার কারণ। ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় সাধারণত কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। শিশু দু’তিন দিনের মধ্যে ক্রমান্বয়ে ভালো হতে থাকে। ডায়রিয়া হলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায়। তাই শিশুকে ঘনঘন খাওয়ার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। এর সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি, ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, ডাবের পানি, টক দই, লবণ গুঁড়ের শরবত খেতে দিন। পাশাপাশি বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে।

ছত্রাক সংক্রমণ: বর্ষায় গরম এবং হঠাৎ বৃষ্টিতে শিশুরা ঘামলে এবং পানিতে বেশিক্ষণ থাকলে অনেক সময় ছত্রাক সংক্রমণ দেখা দেয়। এতে আঙুলের ফাঁকে, কুঁচকিতে, মাথায় ও চুলে ছত্রাক সংক্রমণ হয়। আবার শিশুর পোশাক, বিছানা ভালো মতো রোদে না শুকালে এগুলোতে ড্যাম্প ভাব চলে এসেও শিশুর ত্বক সংক্রমিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ছত্রাকনাশক ক্রিম এবং চুলের জন্য বিশেষ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুর কানে ফাংগাস ইনফেকশনও দেখা দিতে পারে এ সময়। কাঠি, কটন বার, ক্লিপ প্রভৃতি দিতে কান চুলকানো উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।