মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম

তারিখঃ ১৭.০৫.২০১৫

ফ্রান্সের একদল বিজ্ঞানী বিশ্বে প্রথমবারের মতো পরীক্ষাগারে সফলভাবে মানুষের শুক্রাণু তৈরির দাবি করেছেন। ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় লিয়ঁ শহরের ক্যালিস্তেম নামের

একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এক বিবৃতিতে জানায়, তারা পরীক্ষাগারে পরিপূর্ণ মানব শুক্রাণু উৎপাদন করতে পেরেছে। এ সাফল্যের নেপথ্যে বিজ্ঞানীদের প্রায় ১৫ বছরের চেষ্টা রয়েছে। রোগীর টেস্টিকুলার বায়োপসি পরীক্ষার সময় অপূর্ণাঙ্গ জননকোষ বা স্পার্মাটোজোয়া ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের শেষ পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ মানব শুক্রাণু উৎপাদন করতে সমর্থ হয়। এই গবেষণার প্রতিবেদন এখনো কোনো স্বীকৃত জার্নাল বা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়নি। তার পরও পরীক্ষাগারে শুক্রাণু উৎপাদনের এই সাফল্যকে সতর্কতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। তাঁদের মতে, এই সাফল্য প্রমাণিত হলে তা নিঃসন্দেহে এক বড় অর্জন হিসেবে গণ্য হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই গবেষণার ফলে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা রক্ষা ও পুনরুদ্ধারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বে সন্তান জন্মদানে পুরুষের শুক্রাণুর কার্যকারিতা হ্রাসের ব্যাপারটি বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। ক্যালিস্তেমের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ইসাবেল কুক বলেন, বিশ্বজুড়ে পুরুষের প্রজনন অক্ষমতার বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। ক্যালিস্তেম এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে। পরীক্ষাগারে টেস্টটিউব বেবি জন্মদানের জন্য ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ শুক্রাণু (স্পার্মাটোজোয়া) তাঁরাই বিশ্বে প্রথমবারের মতো তৈরি করেছেন। যে জটিল প্রক্রিয়ায় কোনো মৌলিক প্রজনন কোষ বা জননকোষ স্পার্মাটোজোয়ায় পরিণত হয়, তার নাম স্পার্মাটোজেনেসিস। ক্যালিস্তেম জানায়, মানব দেহের অভ্যন্তরে ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৭২ দিন সময় লাগে। বিশ্বজুড়ে লাখো পুরুষ নন অবস্ট্রাকটিভ অ্যাজুস্পার্মিয়া বা অস্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদনজনিত সমস্যায় আক্রান্ত, যার ফলে তারা সন্তান উৎপাদনে অক্ষম। নতুন এই গবেষণায় সাফল্যের মধ্য দিয়ে ওই রোগীদের চিকিৎসায় সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রজননে অক্ষম অন্তত ৫০ হাজার নতুন রোগী প্রতিবছর চিকিৎসা নিতে আসেন বলে জানিয়েছে ক্যালিস্তেম। প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ক গবেষণার জন্য তহবিল জোগাড় করার চেষ্টা করছে। পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধের নতুন পদ্ধতিটি তারা আগামী বছর পরীক্ষামূলকভাবে এবং ২০১৭ সালে সরাসরি চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে চায়। এ ক্ষেত্রে টেস্টিকুলার বায়োপসির মাধ্যমে স্পার্মাটোজোয়া সংরক্ষণ করা হবে। আর রোগীর ইচ্ছা অনুযায়ী সন্তান জন্মদানের সময় সেই শুক্রাণু ব্যবহার করা হবে। পরীক্ষাগারে তৈরি শুক্রাণু ব্যবহার করে চিকিৎসার ওই পদ্ধতি এর আগে কেবল ইঁদুরের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছিল। মানুষের ক্ষেত্রে এটি সফল হলে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে মনে করেন ফ্রান্সের একটি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসাকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক নাথালি রিভ। ইউরোপিয়ান বায়োএথিকস ফোরামের সহপ্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ইসরায়েল নিস্যান্ড বলেন, পুরুষের বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতিটি সফল হলে ক্লোনিংয়ের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ড্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক অ্যালান পেসি অবশ্য নতুন ওই চিকিৎসাপদ্ধতি গ্রহণ করার ব্যাপারে দম্পতিদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিজ্ঞানীর পর্যালোচনার মাধ্যমে কোনো স্বীকৃত জার্নালে ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে তাঁর সংশয় থাকবে। সাফল্যের এ ধরনের চমকপ্রদ দাবি করা হলে নিঃসন্তান অনেক দম্পতি আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেন। কিন্তু সত্যিকারের সাফল্য না এলে তাঁদের সেই আশা হতাশায় পর্যবসিত হয়।