আজ মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১১.১১.২০১৭

নষ্ট হয়ে যাওয়া ত্বকের স্তর সরিয়ে জেনেটিকালি মডিফায়েড স্কিন লাগানো হয়েছে সাত বছর বয়সী এক সিরীয় শিশু হাসানের।

মৃত্যুর মুখ থেকে তাকে বাঁচিয়ে আনতে সাহায্য করেছে কয়েকটি বিরল অস্ত্রোপচার।

হাসান এক ধরণের বিরল জেনেটিক রোগ জাংশনাল এপিডার্মোলাইসিস বুলেসে ভুগছিল। এতে শরীরের উপরের স্তর এপিডার্মিস প্রজাপতির পাখার মতো খসে যায়।

হাসানের শরীরের ৮০ শতাংশ ত্বকই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সারা শরীর জুড়ে ছিল লাল বড় বড় ক্ষত। শুধুমাত্র মাথা ও বাঁ পায়ের কিছু অংশে বাকি ছিল এপিডার্মিসের স্তর। হাসান সিরিয়ায় জন্মগ্রহণ করে এবং কয়েকদিন বয়স থেকেই তার দেহে ফোসকা পড়ে ও ক্ষত সৃষ্টি হয়।

সাধারণত চামড়া বিভিন্ন স্তর একটার সঙ্গে আরেকটা প্রোটিনের সাহায্যে জোরা লাগানো থাকে। কিন্তু জাংশনাল এপিডার্মোলাইসিস বুলেস মানে হলো, হাসানের ডিএনএতে তার চামড়ার এপিডার্মিসের (বাইরের স্তর) সঙ্গে ডার্মিসের (পরের স্তর) এঁটে থাকার নির্দেশাবলীর অভাব রয়েছে।

 

এই রোগের কোনো চিকিৎসা নেই এবং প্রতি দশ রোগীর চারজন মারা যায়।

২০১৩ সালে সিরিয়া ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে জার্মানিতে যায় হাসান। ২০১৫ সালের জুন মাসে বোখামের রুর ইউনিভার্সিটির চিলড্রেন হসপিটাল ভর্তি হয়। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকরা হাসানের খারাপ কিছু হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

কিন্তু সেই সময় ইতালির ইউনিভার্সিটি অব মোদেনা এ্যান্ড রেজ্জিও’র জিন থেরাপি বিষয়ক একদল বিশেষজ্ঞকে ডাকা হয় এবং হাসানের মাতা-পিতা পরীক্ষামূলক থেরাপির জন্য সম্মত হন।

হাসানের শরীরের ভাল অংশ থেকে চামড়ার একটি টুকরা নিয়ে, গবেষণাগারে এর ডিএনএ মেরামত করে মোডিফায়েড স্কিন তৈরি করা হয়। এরপর সেটি হাসানের শরীরে লাগিয়ে দেয়া হয়। প্রায় দুই বছর ধরে তিনটি বিরল অস্ত্রোপচারের পর হাসানের নতুন ত্বক সম্পূর্ণ ভাল আছে এবং নতুন কোনও ফোসকাও পড়েনি।

এটি একটি বিরল রোগ। তবে এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে কাজ করে ডেবার নামে একটি দাতব্য সংস্থা। বিশ্বে আনুমানিক পাঁচ লাখ লোক এতে আক্রান্ত।

সিম্পেল্কস, ডাইস্ট্রোফিক ও জাংশনালসহ নানা ধরণের এপিডার্মোলাইসিস বুলেস রয়েছে। ভিন্ন ধরণের জেনেটিক সমস্যার কারণেই চামড়ার বিভিন্ন স্তর নষ্ট হয়ে যায় এই রোগে।