আজ শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৪.১১.২০১৭

আজ (মঙ্গলবার) বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। বর্তমানে দেশে কতজন ডায়াবেটিক রোগী রয়েছেন তার সঠিক তথ্য-উপাত্ত নেই।

তবে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিসের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ৭১ লাখ ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন। সারা দেশে আজ পালিত হচ্ছে দিবসটি।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘সকল গর্ভধারণ হোক পরিকল্পিত’। রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বজুড়েই ডায়াবেটিস এক নীরব মহামারি। এটি রোধ করা না গেলে এ রোগ আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের টেকসই উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে।

এবারের প্রতিপাদ্যটি যথার্থ হয়েছে এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি ডায়াবেটিস সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির পাশাপাশি দেশের গণমাধ্যমসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গণমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে ৩০ পদের ঔষধ দেওয়া হচ্ছে। সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সারাদেশে গর্ভকালীন নারীদের বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও স্বল্পমূল্যে সেবা দিতে ডায়াবেটিক সমিতির সেবাকেন্দ্রগুলো কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। সহজ কথায় বলতে গেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে মধুমেহ বা ডায়াবেটিস বলা হয়ে থাকে। একে নিঃশব্দ ঘাতক বলা হয়ে থাকে। এই রোগে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার জেরে একসময় রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হল বিশ্ব জুড়ে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি অভিযান, যা প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব জুড়ে ডায়াবেটিস রোগ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায়, বিশ্ব ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৯১ সাল-এ ১৪ নভেম্বরকে ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এ দিন বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক বেনটিং জন্ম নিয়েছিলেন এবং তিনি বিজ্ঞানী চার্লস বেস্টের সঙ্গে একত্রে ইনসুলিন আবিষ্কার করেছিলেন।

২০০৭ সালে সিদ্ধান্ত হয়, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনার থিমটি আরও দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ২০০৭-০৮ এর থিম নির্ধারিত ছিল ‘শিশু ও তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিস’।

২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের থিম ছিল, ‘ডায়াবেটিস শিক্ষা ও প্রতিরোধ’। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হল,আরও বেশি শিশু ও তরুণকে এই পরিচর্যার আওতায় আনা। ডায়াবেটিসের জরুরি সংকেত সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

এ রোগের একটি জটিলতা ‘ডায়াবেটিক কিটো এসিডোসিস’ হ্রাস করার উদ্যোগ উৎসাহিত করা। আর শিশুদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা। এ দিবসের নীল বৃত্তের ‘লোগো’টি ডায়াবেটিসকে পরাভূত করার জন্য বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ের সূচক। লক্ষ্য হলো: পৃথিবীতে কোনও শিশুই যেন ডায়াবেটিসে মারা না যায়।

ডায়াবেটিসের মতো ক্রনিক রোগ ব্যক্তি, পরিবার, দেশ, এমনকী সারা পৃথিবীর জন্য গুরুতর ঝুঁকি বহন করে, এমন সত্যটি রাষ্ট্রসংঘ অনুধাবন করে ২০০৬ সালে একে রাষ্ট্রসংঘ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। পৃথিবীতে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিস নিয়ে জীবন যাপন করছে। ডায়াবেটিস সম্পর্কে বিস্তৃত তথ্য এবং এর চিকিৎসার রূপরেখার জন্য বিকাশপিডিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ আপনাকে সাহায্য করবে।