Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Star Cure

বিডিনিউজডেস্ক.কম   ‍
তারিখঃ ০৫.০৬.২০১৫

মা হওয়াটা বেশ কষ্টের বিষয়। সন্তান গর্ভে আসার পর মাকে দীর্ঘ দিন ধরে শুধু তাকে বহনই করতে হয় না বরং দেহের ভেতর তাকে লালনও করতে হয়।

সন্তান পেটে আসার প্রথম তিন মাস অনেক মা-ই প্রায় কিছু খেতে পারেন না। বমি বমি ভাব বা বমির কারণে তাদেরকে এক দুঃসহ কষ্টের মধ্য দিয়ে সময় পার করতে হয়। তবে, গর্ভধারণের প্রথম দিকে এই বমি বমি ভাব ও বমিকে স্বাগত জানিয়েছেন গবেষকরা। তারা বলেছেন, এ ধরণের উপসর্গ যাদের দেখা দেয় তাদের অকাল গর্ভপাতের আশংকা কম থাকে। এ গবেষক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের চ্যাপেল হিলের নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. রোননা এল চ্যান। তিনি বলেছেন, গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস যে সব মা বমি বমি ভাব বা বমির উপসর্গে ভোগেন তাদের আতংকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, সফলভাবে যারা মা হতে পেরেছেন, তাদের সবাই গর্ভকালের প্রথম দিকে এমন সব উপসর্গের শিকার হননি। এ ছাড়া, গর্ভকালে মায়েরা যে সব উপসর্গে ভোগেন তা সবারই এক রকম হয় না। এক এক মা এক এক উপসর্গের শিকার হন। তার মতে, ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ মায়ের এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বমি বা বমি বমি ভাব যে সব মায়ের হয়, তাদের সাধারণভাবে গর্ভপাত হয় না। ডা. চ্যান ও তার গবেষক দল আমেরিকার তিনটি শহরের দুহাজার চারশ'র বেশি মায়ের ওপর গবেষণা চালান।

গবেষক দলটি দেখতে পান, ৮৯ শতাংশ মায়ের বমি বা বমি বমি ভাবের উপসর্গ সামান্য মাত্রায় হয়েছে। অন্যদিকে, ৫৩ শতাংশ মায়ের বমি ও বমি বমি ভাব হয়েছে। আর গর্ভ ধারণের ২০ সপ্তাহের আগেই ১১ শতাংশের গর্ভপাত হয়ে গেছে। গবেষক দলটি দেখতে পেয়েছেন, ২৫ বছরের অনুর্ধ্ব যে সব মায়ের গর্ভের প্রথম তিন মাস এ ধরনের উপসর্গ অর্থাৎ বমি ও বমি বমি ভাব হয়েছে তাদের তুলনায় যাদের হয়নি তাদের গর্ভপাতের আশংকা ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, ৩৫ বছরের বেশি য সব মায়ের এ ধরনের উপসর্গ হয়নি তাদের গর্ভপাতের আশংকা প্রায় ১২ গুণ। গবেষক দলটি আরো দেখতে পেয়েছেন, এ দুই উপসর্গ যে সব মায়ের বেশি সময় ধরে ছিল তাদের গর্ভপাতের আশংকা কমে গেছে। অপেক্ষাকৃত বয়স্ক মায়েদের ক্ষেত্রে এ উপসর্গের সঙ্গে গর্ভপাতের জোরালো সম্পর্ক আছে বলে তারা দেখতে পেয়েছেন। ৩৫ বা তার চেয়ে বেশি বয়সী যে সব মায়ের গর্ভকালীন অর্ধেকের বেশি সময়ব্যাপী এ দুই উপসর্গ থেকেছে তাদের গর্ভপাতের আশংকা তুলনামূলকভাবে ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে, যে সব মায়ের এ ধরনের উপসর্গ দেখা যায়নি তাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। মায়েদের এ ধরনের উপসর্গের সঙ্গে মাতৃত্বে উপনীত হওয়ার একটি সম্পর্ক রয়েছে গবেষকরা তা দেখতে পেয়েছেন। তবে, কেন এমনটি হয় সে বিষয়ে তারা স্পষ্টভাবে আলোকপাত করতে পারেননি। ডা.চ্যান বলেন, গর্ভকালে বমি হলে গর্ভের সন্তানের জন্য ক্ষতিকারক উপাদান বমির মাধ্যমে মায়ের দেহ থেকে হয়তো বের হয়ে যায়। ফলে গর্ভের সন্তানের কোনো ক্ষতি হয় না। এমনটা অনেকেই মনে করেন। তবে এ ধরনের কথার পেছনে যুক্তি রয়েছে তা স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, গর্ভ বজায় রাখার জন্য যে সব হরমোনের প্রয়োজন সেগুলো প্রথম তিন মাসেই মায়ের দেহে বেশি হারে বৃদ্ধি। বমি ও বমি বমি উপসর্গ দেখা দেয়ার মাধ্যমে এই হরমোনের প্রতি মায়ের স্পর্শকাতরতার বিষয়টি ফুটে ওঠে।