মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম 
তারিখঃ ০৭.০৬.২০১৫

প্রতি ১০ জন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মধ্যে প্রায় ৭ জনকেই আজকাল উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। যার কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যা।

একটানা বসে কাজ করা, ব্যায়ামের অভাব, অতিরিক্ত চিন্তা করা এবং লবণাক্ত খাবার খাওয়া উচ্চ রক্তচাপের কারণ হিসেবে ধরা হয়। কিছুদিন আগেও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা শুধুমাত্র বয়স্কদের রোগ হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু বর্তমানে অনেক কম বয়সী মানুষও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেকাংশে, যার ফলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই সতর্ক হতে হবে সকলকেই। আজকে জেনে নিন ঔষধ ছাড়াই খুব সহজে কীভাবে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন তার কিছু দারুণ উপায়।

১) ওজন কমিয়ে আনুন: গবেষণায় দেখা যায় যাদের ওজন লম্বা ও উচ্চতার দিক থেকে বেশি তারা অন্নান্ননদের তুলনায় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগে থাকেন এবং এই বাড়তি উজন কমিয়ে ফেললেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

২) শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ দিয়ে কাজ করবেন না: ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, ইউএস, এর রক্তি গবেষণায় পাওয়া যায়, সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করা প্রায় ১৪% উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়ায় হাইপারটেশনের কারণে। দেহের উপর চাপ দিয়ে এই বিশাল সময় কাজ করা আপনার শারীরিক সমস্যার মূল কারণ।

৩) নাক ডাকার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন: অতিরিক্ত এবং উচ্চস্বরে নাক ডাকা অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপেনার লক্ষণ যা প্রমাণ করে আপনার রয়েছে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা। তাই নাক ডাকাকে সাধারণ কিছু ভেবে চুপচাপ বসে না থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

৪) কলা খাওয়ার অভ্যাস করুন: কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম যা দেহের লবনের পরিমাণ ঠিক রাখে, যার ফলে রক্তচাপ কমে। অনলাইনে প্রকাশিত ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের একটি নতুন গবেষণা অনুযায়ী, সপ্তাহে ৫টি কলা উচ্চ রক্তচাপের কারণে মৃত্যু ঝুঁকি কমায়। কলার পটাসিয়াম শরীরে তরল পদার্থের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

৫) শারীরিক পরিশ্রমের জন্য সতর্ক হোন: কোপেনহেগেন সিটি হার্ট কার্ডিওভেস্ক্যুলার প্রায় ২০,০০০ নারী পুরুষের ওপর একটি গবেষণা করে দেখতে পান যে, সপ্তাহে অন্তত ১ দিন ১ ঘণ্টা জগিং ৬ বছর পর্যন্ত আয়ু বাড়ায়। জগিংয়ের সময় দেহে অক্সিজেন গ্রহনের পরিমাণ বাড়ে যা উচ্চ রক্তচাপ কমায়। আর অক্সিজেন শরীরের রক্তের সাথে মিশে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এতে হৃদপিণ্ড সহজেই রক্ত পাম্প করে পুরো দেহকে সতেজ রাখে।

৬) ধূমপান থেকে দূরে থাকুন: ধূমপান উচ্চ রক্তচাপের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সিগারেটের নিকোটিন দেহে প্রবেশ করে রক্তে মিশে গিয়ে অ্যাড্রেনালাইন (বিক্করস) উৎপন্ন করে। এই রসটি হার্ট বিটকে দ্রুততর করে ফেলে। যার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। সুতরাং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে চাইলে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন।

৭) প্রতিদিন দই খাওয়ার চেষ্টা করুন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় পাওয়া যায় প্রতিদিন এক কাপ পরিমাণ চিনি ছাড়া বা অল্প চিনি যুক্ত ফ্যাটমুক্ত দই উচ্চ রক্তচাপ প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেয়। দইয়ের ক্যালসিয়াম ধমনীকে নমনীয় ও প্রসারিত করে। এতে করে রক্ত কোন প্রকার বাঁধা ও চাপ ছাড়াই পুরো দেহে সঞ্চালিত হতে পারে। যার ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা।

৮) লবনকে না বলুন: লবন আপনার ধমনীতে বিদ্যমান তরলের সাথে মিশে গিয়ে তরলের আয়তন বৃদ্ধি করে। এতে করে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ার সময় ধমনীতে চাপ পরে যার ফলে বাড়ে রক্তচাপ। যতটা সম্ভব লবন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।