Print

চক্ষু হাসপাতালে ৪ মালিকানার লেন্স কেনার আদেশ!

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৫.০৫.২০১৬

রাজধানীর চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পক্ষ থেকে রোগীদের সাতটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোম্পানির লেন্স না নেওয়ার জন্য আদেশ জারি করা হয়েছে।

রোগীরা বাইরে থেকে লেন্স কিনলেও তা চিকিৎসার ক্ষেত্রে গ্রহণ করছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ কারণে বিপাকে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

অভিযোগ রয়েছে, সাতটি প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারক চার ব্যক্তি। ব্যক্তিগত স্বার্থেই ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে হাসপাতালের তরফ থেকে। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, শনিবার (১৪ মে) ওই নির্দিষ্ট কোম্পানিগুলোর লেন্স (আইওএল) ব্যবহারের জন্যে রোগীদের উদ্দেশে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশটি জারি করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতাল। আদেশে রেনার, এলকন, এএমও এবং অরোল্যাব কোম্পানির ৪ জন আমদানিকারকের ওই সাতটি প্রতিষ্ঠান থেকে লেন্স নেওয়ার কথা বলা হয়।

এ ব্যাপারে সূত্রটি জানায়, সেখানে এলকন কোম্পানির (আমেরিকা) এক্রিসফ আইকিউ, সিঙ্গেল পিস এবং মাল্টি পিস লেন্সের মডেল ব্যবহারের কথা বলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই লেন্স আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের আরেক কোম্পানি এক্সিলেন্সের (ভারত) লেন্স পিএমএমএ মডেল ব্যবহারেরও কথা বলা হয়েছে আদেশে।

বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচলক ডা. দ্বীন মোহাম্মদের ব্যবসায়িক অংশীদার লায়ন এ বাদলই এ দু’টি কোম্পানির লেন্স আমদানি করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
আদেশে এএমও (আমেরিকা) এর টেকনিস-১, সেন্সার-১ এবং সেন্সার লেন্স ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে রোগীদের। এই লেন্সের আমদানিকারক সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের অংশীদার পুলক সাহার অধীনেই আরেকটি কোম্পানি ওকুফ্লেক্স কেয়ার গ্রুপের (ভারত) ওকুফ্লেক্স ডাবল হেপটিক লেন্স ব্যবহারের কথা বলেছে কর্তৃপক্ষ।
 
আদেশে বলা হয়েছে রেনার (যুক্তরাজ্য) কোম্পানির রেয়নার এসফিরিক এবং রেয়নার ডাবল হেপটিক লেন্সের কথা, যার আমদানিকারকের নাম ডা. মনিরুজ্জামান।
 
সূত্রটির তথ্য, অরোল্যাবকে (ভারত) দু’টি কোম্পানি দেখিয়ে আদেশে অরোল্যাব ডাবল হেপটিক এবং পিএমএমএ লেন্স ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এই লেন্সের আমদানিকারক প্রদীপ সাহা।
 
আদেশে ৪ আমদানিকারকের মালিকানায় দেওয়া হয়েছে মোট ১২ ধরনের লেন্স সরবরাহ ও বিক্রির ব্যবসা।
 
অফিস আদেশে জানানো হয়, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গত ৭ মের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ লেন্স ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
 
এদিকে, ব্যবহারের জন্য ৪টি কোম্পানির লেন্স বেধে দেওয়ায় রোগী এবং স্বজনেরা পড়ছেন বিপাকে। অনেকেই বাইরে থেকে লেন্স নিলেও গত এক সপ্তাহ ধরেই ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
 
একাডেমিক কাউন্সিল সভা থেকে জানানো হয়েছে, কমিটি আবেদনকারী ১৭টি কোম্পানির লেন্স যাচাই-বাছাই করে কয়েকটিকে রোগীদের কাছে বিক্রির অনুমতি দিয়েছে।
 
তবে অন্যান্য লেন্সের আমদানিকারকরা বলছেন, এর ফলে রোগী এবং স্বজনদের লেন্স বাছাই ও সিদ্ধান্তের ক্ষমতা হ্রাস করা হয়েছে। এছাড়া কী কারনে অন্য কোম্পানিগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে তার কোনো কারণ জানানো হয়নি।

তারা বলছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে এখনও লেন্স বাছাইয়ের সুবিধা রোগীকে দেওয়া হচ্ছে।
 
৪ জন আমদানিকারকের অধীনে লেন্স ব্যবহারের আদেশের বিষয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফাকে শনিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় ফোন দেওয়া হলে তিনি  বলেন, এখন রোগী দেখছি। আগামীকাল সকালে হাসপাতালে সরাসরি আসেন। তখন কথা হবে।