আজ বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ হত্যা মামলায় আপিল বিভাগের রায় ১০ অক্টোবর * বন্যায় টাঙ্গাইলে সেতুর সংযোগ সড়কে ধস; উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগ বন্ধ * রাজারবাগে এক নারী কনস্টেবলকে ধর্ষণের অভিযোগে তার এক সহকর্মী গ্রেপ্তার * কোটালীপাড়ায় হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ফায়ারিং স্কোয়াডে ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় * সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ হত্যা মামলায় আপিল বিভাগের রায় ১০ অক্টোবর * বন্যায় টাঙ্গাইলে সেতুর সংযোগ সড়কে ধস; উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগ বন্ধ * রাজারবাগে এক নারী কনস্টেবলকে ধর্ষণের অভিযোগে তার এক সহকর্মী গ্রেপ্তার * কোটালীপাড়ায় হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ফায়ারিং স্কোয়াডে ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

মানবাধিকার রক্ষায় আইন

মানবাধিকার ডেস্ক | তারিখঃ ১৬.০৩.২০১৭

বিশ্বের যেসব দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বাংলাদেশের প্রতিটি শাসক দলই প্রতিপক্ষকে হেনস্তা করতে দমনপীড়ন শুরু করে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। আবার পৃথিবীর সব দেশের মতো বাংলাদেশেও নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষায় আইন রয়েছে, রয়েছে মানবাধিবার কমিশনও। অবৈধভাবে মানব পাচার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায় গণকবরের সন্ধান লাভ। একশ্রেণির দালালদের খপ্পরে পড়ে অসহায় মানুষগুলোর আজ কি করুণ অবস্থা।বাংলাদেশের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়-বিচার, মানবাধিকার এ কথাগুলো প্রতিটি ক্ষমতাসীন সরকার ও রাষ্ট্রের সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে আমরা শুনে আসছি বহুদিন থেকে। এখনো শুনছি ও ভবিষ্যতে শুনতে হবে। প্রকৃতপক্ষে আইনের শাসন বা মানবাধিকার একটি রাষ্ট্র সার্বিক দিক থেকে প্রগতি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আইনের শাসন ও মানুষের অধিকারগুলো সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। 

 

আইনের শাসন ন্যায়-বিচার, সুশাসন বা মানবাধিকার এ শব্দগুলো বিপরীতমুখী নয় বরং পরিপূরক। মানবাধিকারের ধারণাটি নতুন কোনো বিষয় নয় বরং বহু পুরাতন। আমরা যদি ইতিহাসের একটু পেছনে ফিরে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসন মার্কিন স্বাধীনতায় ঘোষণার মূল খসড়ায় লেখেন, সব মানুষ স্বাধীন ও সমান অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। এ অধিকার অবিভাজ্য। যার মধ্যে আছে জীবন রক্ষা এবং অধিকার। আবার জাতিসংঘের সনদে বলা হয়েছে, 'মৌল মানবিক অধিকার মানুষের মর্যাদা ও মূল্য এবং ছোট-বড় জাতি ও স্ত্রী, পুরুষ নির্বিশেষে সমান অধিকারের প্রতি আস্থা রাখা।' আবার ফরাসি বিপ্লবের মূল মন্ত্র ছিল, স্বাধীনতা, সমঅধিকার ও ভ্রাতৃত্ব বোধ। সুতরাং মানবাধিকার হচ্ছে সমাজে বসবাসরত ছোট-বড় ধনী, গরিব, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার। এক কথায় আমরা বলতে পারি মানুষের অধিকারই হচ্ছে মানবাধিকার। বাংলাদেশের সংবিধানে ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে। মানবতার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।' একটি রাষ্ট্রের মানবাধিকারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সারা পৃথিবীতে বহুল আলোচিত আইন, শাসন, সাম্য, ন্যায়-বিচার এবং মানবাধিকার। আবার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। কোনো রাষ্ট্রে যদি জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয় জনগণ যদি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে রাষ্ট্র আইনদ্বারা সে অধিকার রক্ষা করবে। কারণ মানবাধিকারের সঙ্গে আইনের একটি সুসম্পর্ক রয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে জনগণের মৌলিক অধিকার, তথা মানবাধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে পৃথিবীব্যাপী উন্নত ও অনুন্নত দেশেগুলোয় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। আবার অনেক দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা এমন পর্যায়ে পেঁৗছেছে, তা অনেকটা প্রতিকারহীন। এমন দেশে বসবাসরত জনগণ চরম অসহায়ত্ববোধ করছে।

আইন প্রয়োগের ভিত্তিটা যদি সুদৃঢ় হয় তাহলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অনেকটা হ্রাস পাবে। আইন দ্বারা যদি জনগণের অধিকারগুলো সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকে এবং রাষ্ট্র যদি সঠিক ও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করে এবং জনগণের মধ্যে তা দৃশ্যমান হয় তাহলে মানবাধিকার রক্ষিত হবে। আবার গণতন্ত্রের সঙ্গে মানবাধিকারের একটি যোগসূত্র রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যত থাকবে গণতন্ত্রও ততটা শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে দেশের উন্নয়ন হবে। স্বাধীনতা ছাড়া উন্নয়ন হয় না। আবার উন্নয়ন ছাড়া স্বাধীনতা অর্থবহ হয় না। আবার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে। যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি দ্বন্দ্ব, সংঘাত সৃষ্টি হয় কিন্তু তাতে রাষ্ট্রের উন্নয়ন যেমন ব্যাহত হয় তেমনি জনগণের অধিকারগুলোর লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে রাষ্ট্রের অধিকার বঞ্চিত জনগণ ক্ষুব্ধ হয় এবং তার বহির্প্রকাশ উন্নয়নকে ব্যাহত করে। আইনের শাসন দুর্বল হলে নাগরিকরা অন্যের দ্বারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। আর যদি প্রকৃত অর্থে মানবাধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর হয় তাহলে নাগরিকের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা কম ঘটবে। বাংলাদেশের সংবিধানে তৃতীয় ভাগে জনগণের মৌলিক অধিকারের কথা বলা আছে। সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারগুলো রক্ষা করতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হচ্ছে। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী'। এখানে সব নাগরিক বলতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে বোঝানো হয়েছে। সুতরাং নারীর সমাধিকার বা নারীর মানবাধিকারের বিষয়ও রয়েছে। আবার নারীর সমাধিকার নিশ্চিত করার জন্য নতুন করে একটি আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। যাতে নারীরা পুরুষের মতো স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে। সব কর্মকা-ে পুরুষের সমকক্ষতার কথা ওই আইনে বলা হয়েছে। তবুও আজ প্রশ্ন জাগে নারীরা কতটুকু স্বাধীন। তাদের অধিকারগুলো নির্বিঘ্নে ভোগ করতে পারছে কিনা?

আমাদের সংবিধান অবশ্য নারীকে পূর্ণ অধিকার দিয়েছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একটি বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা গঠনের কথা বলেছে। নারীরা আজ শিক্ষায় অনেক এগিয়ে। সমাজের বিভিন্ন দিক থেকে তারা সেবা করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও অনেক শিক্ষিত নারী গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত। আমাদের সংবিধানে নাগরিক হিসেবে স্বাধীনভাবে চলাফেরা, স্বাধীন মত প্রকাশ, শিক্ষা ইত্যাদি অধিকার রয়েছে। কিন্তু সে অধিকার নানাভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারীরা তাদের অধিকার ভোগ করতে পারছেন না। দুর্বল গণতন্ত্রের চর্চা ও সুষ্ঠু আইন প্রয়োগের অভাবে সমাজের এক শ্রেণির বখাটের দ্বারা শিশু ও নারীরা বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নারীরা আজ ঘরে-বাইরে কোথাও নিজেকে নিরাপদ বোধ করতে পারছে না। বর্তমান পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে শুধু নারী হিসেবে মনে করছে। মানুষ হিসেবে নয়। ফলে নারীরা যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে ঘরে-বাইরে রাস্তা-ঘাটে সর্বত্র। একজন নারী স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা যা তার অধিকার। কিন্তু সে অধিকার কতটুকু ভোগ করতে পারছে। নারী তো একজন মানুষ, একজন মানুষ হিসেবে তার যে অধিকার সেটাই মানবাধিকার। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বেকারত্ব, হতাশা লোভ-লালসা, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের অভাবে বর্তমান সামাজিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। তাই নারীরা আজ নিগৃহীত হচ্ছে নানাভাবে। ঢাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ নিপীড়নের ঘটনাই শেষ নয়। একজন নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন চালানো যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। অতিসমপ্রতি একজন আদিবাসী নারীকে জোরপূর্বক কয়েকজন যুবক তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। মেয়েটি চরমভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অহরহ ঘটছে, রাষ্ট্র তাদের কী শাস্তি দিয়েছে? আইন অপরাধীর জন্য কী করেছে? এ পর্যন্ত নারী নির্যাতন বা বস্নগার হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কয়জনের বিচার হয়েছে? আইন যদি দুর্বল হয় তাহলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। অথচ আমাদের সংবিধান একটি সুস্থ সমাজব্যবস্থা নির্মাণ, সামাজিক নিরাপত্তা, ধর্মীয় অধিকার, নারী অধিকারসহ মানবাধিকার সংরক্ষণের সবকিছুর দিকনির্দেশনা রয়েছে। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে একজন নাগরিকের স্বাধীন মত প্রকাশ বা বাক-স্বাধীনতার কথা সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় রাষ্ট্র একশ্রেণির বস্নগারের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারকে সুরক্ষা করতে পারেনি। ফলে প্রতিপক্ষের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছে রাজিব, অভিজিৎসহ বেশ কয়েকজন বস্নগার। রাষ্ট্র, আইন এ ক্ষেত্রে কিছুই করতে পারেনি। রাষ্ট্র তাদের স্বাধীন মত প্রকাশ তথা মানবাধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সাধারণ অর্থে মানুষের যে অধিকার তাই মানবাধিকার। মানুষের মৌলিক অধিকারসহ সব ধরনের অধিকারই মানবাধিকারের পর্যায়ে পড়ে। প্রত্যেক মানুষকে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে হলে কতগুলো অধিকার নিয়ে বাঁচতে হয়। মানবাধিকার বিশ্বজুড়ে সর্বজনীন ঘোষণার মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। ১৯৪৮ সালে ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা পত্রটি গৃহীত হলেও মানবাধিকারের ধারণা সুপ্রাচীন। মহনবী (সা.) মদিনার বহু গোত্র জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমন্বয়ে 'মদিনার সনদ' গঠনের মধ্যদিয়ে সব নাগরিকের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করেন যা মানবাধিকারের মূর্ত প্রতীক। সাধারণত মানবাধিকারের প্রথম চার্টার বলা হয় ১২১৫ খ্রি. ইংল্যান্ডে প্রণীত ম্যাগনাকার্টাকে। পরে ১৭৮৬ খ্রি. প্রণীত আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। ১৭৮৯ খ্রি. ফরাসি বিপ্লবে মানবাধিকারের সনদ, ১৯১৭ খ্রি. রুশ বিপ্লবের বাণী মানবাধিকারের এক মাইলফলক। আমাদের সংবিধান অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার, ধর্মাচারণসহ অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবাধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু স্বাধীন মতপ্রকাশের বাধা ও প্রাণনাশই নয়, গত কয়েকমাস আগে হরতাল-অবরোধে বাস, ট্রাক, রেল, অগি্নসংযোগ ও ভাংচুর, পথচারীকে অগি্নবোমায় হত্যা, বহু মানুষের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। সেসময় বার্ন ইউনিটে আক্রান্ত মানুষের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়। সে সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রক্ষা পায়নি। ফলে ভুলুণ্ঠিত হয়েছে মানবতা, পরাজিত হয়েছে মানবাধিকার। উপরোক্ত বিনা বিচারে কাউকে আটক রাখা, অযথা দমনপীড়ণ, বিনা বিচারে কাউকে হত্যা দেশের রাজনীতিতে এ কর্মকান্ডগুলোও মানুষের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। তাছাড়া অপহরণ, গুম, হত্যা, নিখোঁজের ঘটনা আইনের আশ্রয়লাভ থেকে বঞ্চিত করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

বিশ্বের যেসব দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশের প্রতিটি শাসক দলই প্রতিপক্ষকে হেনস্থা করতে দমনপীড়ন শুরু করে যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। আবার পৃথিবীর সব দেশের মতো বাংলাদেশেও নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষায় আইন রয়েছে, রয়েছে মানবাধিবার কমিশনও। অবৈধভাবে মানব পাচার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায় গণকবরের সন্ধান লাভ একশ্রেণির দালালদের খপ্পরে পড়ে অসহায় মানুষগুলোর আজ কি করুণ অবস্থা। যারা এখনো জীবিত আছে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।

মানবাধিকার রক্ষায় সরকারকে আরো তৎপর হতে হবে। শুধু মানবাধিকার সেল গঠন করে কোনো লাভ নেই। দেশে তো অনেক মানবাধিকার সংগঠন রয়েছে। কিন্তু মানবাধিকার রক্ষায় এ সংগঠনগুলো দৃশ্যমান নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের তদারকি বাড়ানো দরকার। মানবাধিকার সংরক্ষণ বাস্তবায়নে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করেন তাহলে মানবাধিকার সংরক্ষণ, বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। কারণ মানবাধিকার আইন দ্বারা রক্ষিত হয়। আবার প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে আইনের যথার্থ প্রয়োগ হয় না। দেশে প্রায় ক্ষেত্রে আইনের ওপর কিছু ব্যক্তির প্রাধান্য থাকে বেশি। এ দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা রাজনীতিবিদদের হাতে জিম্মি। রাজনৈতিক নেতাদের চাপে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এখানে ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে আইন প্রয়োগ করা হয়। তাছাড়া মানবাধিকার কি বা আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ অজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে। যার ফলে সচেতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজন মানবাধিকার রক্ষা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইনের বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলা। মানবাধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। সৎসাহসী বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকর্মী মানবাধিকার সংরক্ষণে সাহসী ভূমিকা রাখতে পারে।

সুতরাং মানবাধিকার ও বাস্তবায়নে গণসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকার ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সজাগ থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি কারো মানবাধিকার হরণ করলে আইন তাকে সুরক্ষা দেবে। আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, সামাজিক মূল্যবোধ, সুশাসন এগুলো মানবাধিকারের সমান্তরাল। এগুলো বাদ দিয়ে মানবাধিকার রক্ষা করা কঠিন। তাই মানবাধিকার সংরক্ষণে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ, মানবাধিকার কমিশনকে আরো তৎপর হওয়া ও সরকারের আন্তরিকতার বিকল্প নেই।