আজ বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ হত্যা মামলায় আপিল বিভাগের রায় ১০ অক্টোবর * বন্যায় টাঙ্গাইলে সেতুর সংযোগ সড়কে ধস; উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগ বন্ধ * রাজারবাগে এক নারী কনস্টেবলকে ধর্ষণের অভিযোগে তার এক সহকর্মী গ্রেপ্তার * কোটালীপাড়ায় হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ফায়ারিং স্কোয়াডে ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় * সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ হত্যা মামলায় আপিল বিভাগের রায় ১০ অক্টোবর * বন্যায় টাঙ্গাইলে সেতুর সংযোগ সড়কে ধস; উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগ বন্ধ * রাজারবাগে এক নারী কনস্টেবলকে ধর্ষণের অভিযোগে তার এক সহকর্মী গ্রেপ্তার * কোটালীপাড়ায় হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ফায়ারিং স্কোয়াডে ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২২.০৭.২০১৭

বাংলাদেশে ২০১৬ সালে সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয় নি।

মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ বিদ্যমান ছিল। আর ধর্মীয় ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী হামলা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতাও ছিল অব্যাহত।
মানবাধিকার ও গণতন্ত্র বিষয়ক যুক্তরাজ্য সরকারের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এসব কথা বলা হয়। ৬৪ পৃষ্ঠার দীর্ঘ প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বজুড়ে ২০১৬ সালের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। স্বরাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত রিপোর্টটি জিওভি ডট ইউকে ওয়েবসাইটে দেয়া হয় বৃটিশ সময় ২০শে জুলাই। রিপোর্টে ‘মানবাধিকার অগ্রাধিকার দেশসমূহ’ (হিউম্যান রাইটস প্রাইয়োরিটি কান্ট্রিজ) শীর্ষক ৬ষ্ঠ অনুচ্ছেদে ৩০ টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশকেও রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ অংশে আরও বলা হয়, ২০১৬’র ১লা জুলাই ২২ জনের প্রাণহানি হওয়া ঢাকার হোলি আর্টিজান রেস্তোরার সন্ত্রাসী হামলাসহ বাড়তে থাকা সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে সরকার সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, বাছবিচারহীন গ্রেপ্তার এবং আইন শৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে জড়িয়ে গুমের নানা অভিযোগ উঠেছে। নারী ও মেয়েদের প্রতি আচরণ নিয়ে উদ্বেগ এখনও রয়েছে। আর ব্যাপক পরিসরের অপরাধকর্মের জন্য মৃত্যুদণ্ড এখনও বৈধ একটি শাস্তি। নতুন আইন আনা হয়েছে যা মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করে দিতে পারে। সুশিল সমাজের গ্রুপগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে ২০১৬ সালে পাস হওয়া বিদেশি অনুদান (ভলান্টারি অ্যাক্টিভিটিজ) আইন হয়তো বাংলাদেশি এনজিও’গুলোর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার সামর্থ্যকে এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে। ২০১৬ সালে বৃটিশ সরকার গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে বাংলাদেশি আইন ও আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী আচরণ করতে অনুরোধ জানায়। যুক্তরাজ্য এ বিষয়েও স্পষ্ট ছিল যে, ভুক্তোভোগী বা সন্দেহভাজন দোষী ব্যক্তির পৃথক পরিস্থিতিগুলো যেমনই হোক না কেন, দণ্ডমুক্ততা কোনভাবেই থাকা উচিত নয়। রিপোর্টে বৃটিশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, পরোয়ানা বিহীন গ্রেপ্তার এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের ধারাগুলো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে আমরা সরকারকে উৎসাহিত করছি। ২০১৬ সালে রাবাত নীতি বাস্তবায়ণ এবং হেট স্পিচ প্রতিহত করতে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কিভাবে বৈধ সীমাবদ্ধতা প্রয়োগ করা উচিত সেসব বিষয়ে একটি পর্যালোচনায় সমর্থন দিয়েছিল হাই কমিশন। এছাড়াও যুক্তরাজ্য উগ্রপন্থী হামলার ঝুঁকিতে থাকা ব্লগারদের সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের আশ্রয় ও সহায়তা প্রদানকারী সংগঠনগুলোর যোগসূত্র করে দিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। ম্যাগনা কার্টা তহবিলের মাধ্যমে আমরা বিচারকদের রায়প্রদানের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রস্তুত করার কাজে সহায়তা করেছি।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে এবং লিঙ্গ সাম্যতার প্রসারে দারুণ অগ্রগতি স্বত্ত্বেও কিছু কিছু সূচকে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে খারাপ করেছে। ২০১৬’র বৈশ্বিক দাসত্ব সূচকে (গ্লোবাল স্লেভারি ইনডেক্স) ১৬৭ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২১তম। জিএসআই এর ব্যখ্যায় আধুনিক দাসত্বের পরিবেশে বসবাসরত মানুষের আনুমানিক শতকরা হারের ওপর ভিত্তি করে ওই সূচক প্রস্তুত করা হয়। স্থানীয় মানবাধিকার এনজিওসমূহ এবং বিচার ব্যবস্থা খাতের নানা প্রকল্পে অংশিদারিত্বের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য নারী ও মেয়েদের অবস্থান ও ক্ষমতায়ন রক্ষা ও প্রসারের নীতিগুলো উন্নত বাস্তবায়নের জন্য চাপ দিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ অংশের শেষে বলা হয়, ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের সামর্থ্য শক্তিশালী করতে আমরা সকল বাংলাদেশি রাজনৈতিক দল এবং আমাদের আন্তর্জাতিক অংশিদারদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকবো। রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অবাধ ও সুষ্ঠ হতে পারে- এমন একটি আস্থা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থাকবে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনে। অমানবিক আচরণ এবং বিচার ব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোয় যথাযথ প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে শূণ্য সহনশীলতার জন্য আমরা চাপ দেবো। আর বাংলাদেশের সমর্থন থাকা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদন্ড সমুন্নত রাখতে আমরা বাংলাদেশি সরকারকে উৎসাহিত করবো । একইসঙ্গে আহ্বান জানাবো, বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জের পরিবেশ খোলা রাখতে।