আজ শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

লাইফস্টাইলডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৪.১১.২০১৭

শহরের মেয়েদের মধ্যে ডায়াবিটিসের প্রবণতা বাড়ছে।

প্রতি পাঁচ জন কমবয়সী মেয়ের মধ্যে রক্তে বাড়তি শর্করা নিয়ে জীবনযাপন করছেন ২ জন। নিজেদের তো বটেই, হবু সন্তানের জন্যও ডায়াবিটিস মারাত্মক। অথচ একটু সতর্ক হলেই জীবন থেকে এই লাইফস্টাইল ডিজিজকে গুডবাই করা যায় অনায়াসে।  

মহিলাদের মধ্যে টাইপ–টু ডায়াবিটিস বাড়ার সূত্রপাত বয়ঃসন্ধিতেই। এক দিকে সেডেন্টারি লাইফে অভ্যস্ত, অন্য দিকে হাই ক্যালোরি ডায়েট, এই দুইয়ের মিলিত ফল বাড়তি ওজন। মোটাসোটা চেহারার কারণে কিশোরীদের মধ্যে মেনার্কি অর্থাৎ পিরিয়ড শুরু হচ্ছে অল্প বয়সে। বাড়ছে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের (পিসিও) প্রবণতা।  

স্বাভাবিক নিয়মে ২৮ দিন পর পর মাসিক ঋতুচক্র আসে। কিন্তু পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম থাকলে এই সাইকেল ৪৫ দিন, ষাট দিন বা তারও বেশি হতে পারে। ওজন বাড়লে এক দিকে পিসিও-র সমস্যা বাড়ে, অন্য দিকে অনিয়মিত পিরিয়ড ওজন বাড়িয়ে দেয়।

ব্যাপারটা চক্রাকারে চলতে থাকে।

 

আর পলিসিস্টিক ওভারি চলতে থাকলে টাইপ-টু ডায়াবিটিসের ঝুঁকি ভয়ানক বেড়ে যায়। বিশেষ করে গর্ভে সন্তান এলে সমস্যার সূত্রপাত হয়। নিয়মিত চেকআপ ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ না করালে মা এবং হবু সন্তান, দু’জনের জন্যই যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।

কয়েক বছর আগেও ১০০ জন গর্ভবতী মেয়ের মধ্যে বড়জোর চার জনের রক্তে শর্করার বাড়তি মাত্রা পাওয়া যেত। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১০০ জনে ১০ জন। গর্ভাবস্থায় ডায়াবিটিস হলে শুরু থেকেই সতর্ক না হলে এক দিকে হবু সন্তানের নানা শারীরিক সমস্যা, এমনকী, গর্ভস্থ ভ্রূণের মৃত্যুও হতে পারে। প্রেগন্যান্সি প্ল্যানিং-এর সময় হরমোন প্রোফাইল করিয়ে নিলে ভাল হয়। কারণ প্রেগন্যান্সির শুরু থেকে ব্লাড সুগার লেভেল স্বাভাবিক না রাখলে গর্ভস্থ শিশুর নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।  

বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে সুগার লেভেল স্বাভাবিক না থাকলে বিভিন্ন জন্মগত ও গঠনগত শারীরিক সমস্যা থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের ত্রুটির আশঙ্কা থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় ডায়াবিটিস হলে নিয়মিত চেক আপ তো করতেই হবে, আর কোনও রকম শারীরিক অসুবিধা হলে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানানো উচিত। গর্ভাবস্থার শেষের দিকে হবু মায়ের সুগার লেভেল স্বাভাবিক না থাকলে হয় ভ্রূণ বাড়তে পারে না অথবা স্বাভাবিকের থেকে বেশি বড় হয়ে যায়।  

অনেক সময় বাড়তি চিনির মাত্রা হবু সন্তানের হৃদ্স্পন্দন থামিয়ে দিতে পারে। যে সব সন্তানসম্ভবা ডায়াবিটিসের শিকার, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সিজারিয়ান সেকশন করে বাচ্চাকে পৃথিবীর আলোয় বের করে আনা হয়। স্বাভাবিক প্রসবে ঝুঁকি অনেক বেশি, তাই সিজারিয়ান। তাও সদ্যোজাতর নানা জটিলতার আশঙ্কা থাকে। যেহেতু প্রসূতিকে ইনসুলিন দেওয়া হয়, গর্ভস্থ বাচ্চা তাতেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। বাইরে আসার পর হঠাত্ তার রক্তে শর্করার মাত্রা নেমে যেতে পারে। তাই নিওনেটাল ইন্টেনসিভ কেয়ার আছে এমন হাসপাতালে প্রসব করানো হলে ভাল হয়। যে কোনও বিপদের মোকাবিলা 

মেয়েদের ডায়াবিটিসের বীজ বপণ হয় একেবারে শৈশবেই। তাই ছোট থেকেই সতর্ক হতে হবে অভিভাবকদের। সিঙ্গল চাইল্ড সিনড্রোমে আক্রান্ত বাবা-মায়েরা সচেতন হলে তবেই ভবিষ্যতে ডায়বিটিসকে জীবন থেকে তাড়িয়ে দেওয়া সহজ হবে। ছোট থেকেই দৌড়োদৌড়ি করে খেলাতে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।  

ফাস্ট ফুড ও ভাজাভুজি বাদ দিয়ে রোজকার ডায়েটে রাখুন ফল, সব্জি, ডাল, মাছ, দই, দুধ। ভুঁড়ি বাড়লেই ডায়াবিটিস আক্রমণ করতে পারে। তাই নিয়মিত এক্সারসাইজ মাস্ট। আর যাঁদের ইতিমধ্যে রক্তে চিনির মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে, তাঁরা মুষড়ে না পড়ে লড়াই শুরু করুন। নিয়ম করে দিনে আধ ঘণ্টা হাঁটলেই জব্দ হবে ডায়াবিটিস। ওয়ার্ল্ড ডায়বিটিস ডে-র আগেই শুরু করুন মর্নিং বা ইভিনিং ওয়াক। বশে থাকুক ডায়াবিটিস, ভাল থাকুন আপনি।