Wednesday 7th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***অনুমোদন পেয়েছে ‘রূপপুর পরমাণু প্রকল্প’* বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে *প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিল আর নেই(ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার ১০ উপায়

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৬.০৫.২০১৬

যে জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষই হই না কেন, চব্বিশ ঘণ্টা ব্যস্ততা আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।

এই সময়গুলোতে আমরা যা করি এর ওপর ভর করেই সফলতা আসে। উদ্যোক্তা হলে সূর্যের সঙ্গে ঘুম থেকে উঠে রাত অবধি কাজ করলে আপনাকে পরিশ্রমী বলা যাবে। কিন্তু সফলতা যে আসবেই সে গ্যারান্টি দেওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে সময় বাঁচিয়ে সর্বোচ্চটুকু আদায় সম্ভব হবে একমাত্র আপনার কৌশলের মাধ্যমে। এখানে জেনে নিন কাজে নৈপুণ্য এবং কার্যকারিতা আনতে ১০টি গভীর কৌশলের কথা।

১. পারকিনসন্স ল
সিরিল নর্থকোট পারকিনসন বলেছিলেন, শেষ মিনিট পর্যন্ত আপনার অপেক্ষার অর্থ হলো আরো এক মিনিট বেশি সময় নেওয়া। আমাদের সবার জীবনে প্রতিনিয়ত এই নিয়মের প্রয়োগ ঘটে। খেয়াল করে দেখুন, এক মাস আগে যে প্রজেক্টটি শুরু করেছিলেন, হয়তো তার আসল কাজটুকু হয়েছে শেষতম সপ্তাহে। অর্থাৎ, বাকি সময়টুকু পুরোই জলে গেছে। পারকিনসনের এই বিখ্যাত ল-এর মাধ্যমে কাজের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নৈপুণ্য আনা হয়েছে।

২. সক্ষমতার সর্বোচ্চ বিন্দুতে পৌঁছানো
অ্যাথলেটরা সক্ষমতার এই অংশকে বলেন `ইন দ্য জোন`। এই পর্যায়ে আপনি এতটাই মনোযোগী থাকেন যে বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ আপনাকে একচুলও টলাতে পারে না।

৩. একটিমাত্র কাজ
একযোগে বহু কাজের বিষয়ে অনেক নেতিবাচক দিক রয়েছে। অর্থাৎ একসঙ্গে বহু কাজ নয়, বরং এক কাজ থেকে অন্য কাজে চলে যাওয়া। আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল বলেছিলেন, সূর্যরশ্মি কখনো পোড়ায় না, যদি না তা একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করা হয়।

৪. দুই মিনিটের নিয়ম
ই-মেইলে ইনবক্স পরিষ্কার করা, ভয়েস মেইল চেক করে নেওয়া বা কোনো অনুরোধের অনুমোদন দেওয়ার মাধ্যমে আগামীর বড় বড় কাজের অনেকাংশ শেষ করে ফেলা যায়।

৫. জৈবিক চক্রের তালে তাল মেলানো
আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলো সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণ করে। এটি এমন এক জৈবিক প্রক্রিয়া যা নির্দিষ্ট সময় পর পর চক্রাকারে ঘুরে আসে। কাজের সময় মানসিকতার সবচেয়ে ইতিবাচক অধ্যায় নির্ভর করে এই জৈবিক চক্রের বিভিন্ন সময়ের ওপর।

৬. পাল্টা প্রকৌশল
নির্দিষ্ট কাজের পেছনে যে প্রকৌশল ব্যবহার করা হয়, এর বিপরীত কৌশলগুলোকেও ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। কর্মদক্ষতা শুধু কাজের প্রক্রিয়া জানার মাধ্যমেই আসে না, যন্ত্র বিগড়ে গেলে তাকে বাগে আনার মাধ্যমেও এর প্রমাণ মেলে।

৭. অপরিসীম ইচ্ছাশক্তি
স্ট্যানফোর্ডের প্রফেসর কেলি ম্যাকগোনিগাল বলেন, ইচ্ছাশক্তির তিনটি ভিন্ন প্রায়োগিক দিক থেকে সফলতা বাগিয়ে আনা যায়। এগুলো হলো-

আমি শক্তির প্রয়োগ ঘটাব না- এর মাধ্যমে লোভ সংবরণ করা হয়। আমি শক্তির প্রয়োগ ঘটাব- এর মাধ্যমে মূল কাজের সঙ্গে বিকল্প উপায় অবলম্বন করা হয়। আমি শক্তির প্রয়োগ ঘটাতে চাই- এর মাধ্যমে আপনার লক্ষ্য, গন্তব্য, ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নেওয়া ইত্যাদি বিষয় বারবার মনে আসে। ইচ্ছাশক্তি অনেকটা পেশিশক্তির মতো। সফল না হলে এটি নিজেই `আমি শক্তির প্রয়োগ ঘটাব না` উপায় গ্রহণ করে। কিন্তু ইচ্ছাশক্তিকে জাগিয়ে তুলে আবার পেশিকে বলশালী করে তোলা যায়।

৮. ৫৭ মিনিট চালু, ১৭ মিনিট বিশ্রাম
বিশ্রামে উদ্যম ফিরে আসে। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, মানুষের মনোযোগী থাকার সহজাত প্রবণতার চক্রটি মস্তিষ্কে টানা ৯০ মিনিট স্থায়ী হয়। এরপর ২০ মিনিটের বিশ্রামের দরকার হয় মস্তিষ্কের।

৯. অঙ্গভঙ্গি শক্তির আধার
মানুষের অঙ্গভঙ্গির সামান্য পরিবর্তনে ব্যাপক কিছু ঘটে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞ অ্যামি কাডি বলেন, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং স্নায়বিক চাপের উদ্ভব হতে পারে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে। উদ্দীপনার সঙ্গে কোনো দৈহিক বিন্যাসের কারণে দেহ-মনের শক্তি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে টেস্টোসটেরনের মাত্রা বাড়ে, যা আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেয়।

১০. স্থায়ী অর্জন
বিশেষজ্ঞ এরিক রিয়েস জানান, ভুল কোনো পণ্য দক্ষতা ঢেলে তৈরির চেষ্টার অর্থ হলো, আঁকাবাঁকা পথে গাড়ি চালিয়ে গ্যাস পুড়িয়ে আস্ফালন করার মতো। বিশেষ করে প্রযুক্তি পণ্য তৈরিতে আমাদের শ্রমের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি এবং লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া হয় না। এটাই এই দুনিয়ার কৌশল। এর মাধ্যমে পুরোদমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য না নিয়ে উৎপাদনশীলতার চূড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়। আসলে অর্জনকে স্থায়িত্ব দিতে হলে সেখানে সফলতা আসবেই।