Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Star Cure

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ২৪.০৩.২০১৯

 

নেত্রকোণা জেলার উত্তর প্রান্তে গারো পাহাড়ের পাদদেশের এক জনপদের নাম বিরিশিরি।

যেখানে বয়ে গেছে টলটলে জলের সোমেশ্বরী নদী আর দিগন্ত হারিয়েছে আকাশ ছোঁয়া সবুজ পাহাড়। এখানে রয়েছে অসংখ্য লাল, গোলাপী, বেগুনী রঙের চীনামাটির পাহাড়। ছোট্ট একটি জায়গার পরতে পরতে বেড়ানোর মতো অনেক জায়গা রয়েছে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে। দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়নে অবস্থিত আদিবাসী সাংস্কৃতিক একাডেমি। এ অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (গারো, হাজং, কোচ, ডালু, বানাই প্রভৃতি) জীবন যাত্রার নানা নিদর্শন। বেড়ানোর জন্য একটি অপূর্ব জায়গা।

আমরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে কীভাবে যাওয়া যাবে তার সকল তথ্য নিয়ে ফেলেছি। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তড়িঘড়ি করে ক্যাম্পাস থেকে বের হলাম। ময়মনসিংহে রেল স্টেশনে যখন পৌঁছালাম তখন বাজে ৬টা। সাড়ে ৬টায় নেত্রকোণার উদ্দেশ্যে ট্রেন ছাড়বে। এর মধ্যে আমরা নাস্তার জন্য কিছু হালকা খাবার কিনে ট্রেনে উঠলাম। আমাদের নামতে হবে নেত্রকোণার জারিয়া নামক রেল স্টেশনে। সেখানে গিয়ে যখন পৌঁছালাম তখন বাজে প্রায় ৯টা। ট্রেন থেকে নেমে অটোতে চড়ে রওনা হলাম দুর্গাপুরের পথে।

দুর্গাপুর মোটামুটি নির্জনই বলা যাবে। শ্বেত শুভ্র চিনামাটির পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে গেছে অপরূপ নীলের উৎস সোমেশ্বরী নদী। এই নদীর নীল জলে সাদা চিনামাটির পাহাড়ের প্রতিবিম্ব যেন এক অলৌকিক সৌন্দর্যের প্রতীক। এক কাথায় অসাধারণ। বর্ষায় নদীতে তীব্র স্রোত থাকে। শীতকালে যাওয়াও এটা আমাদের চোখে পড়েনি তেমন। নদীতে ছিল হাঁটু পানি। 

আমাদের এবারের লক্ষ্য চীনামাটির পাহাড়, রাণীখং মিশন ও বিজয়পুর। ইন্ডিয়া সীমান্ত চোখের সামনে। পা বাড়ালেই ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্য। তারপর বিজিবি ক্যাম্প এর পাশে ওয়াচ টাওয়ারের মত ছোট পাহাড়। এর নাম কমলার পাহাড়। এরপর গেলাম পর রাণী খং নামে এক জায়গায়। এখানে একটা স্কুল ও খিস্টানদের উপাসনালয় আছে। ঘুরে দেখতে দেখতে প্রায় সাড়ে বেলা সাড়ে ৩টা বেজে গেছে। 

আমাদের হাতে সময় কম। মেয়েরা সাথে আছে তাই রাত সাড়ে ৮টার আগেই আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসতে হবে। সময় স্বল্পতার কারণে সাগর দীঘি দেখা হয়নি। তবে যা দেখেছি তা স্মৃতিময় হয়ে থাকবে আজীবন।