Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Star Cure

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ২৪.০৪.২০১৯

এখন থেকে সেন্ট মার্টিন্স যেতে চাইলে আগে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কারণ দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন্স মরে যেতে বসেছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পর্যটকের উপস্থিতি দ্বীপটিকে পরিবেশগত ঝুঁকিতে ফেলছে।

পর্যটকের আসা-যাওয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সেন্ট মার্টিন্সকে বাঁচানোর জন্যই এই উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)।

কউক চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমেক বলেন, সেন্ট মার্টিন্স বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সেন্ট মার্টিন্সকে প্রাকৃতিক কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। কিন্তু এখন সেন্ট মার্টিন্সের অবস্থা বেহাল। প্রবাল-শৈবাল, জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিতে পড়েছে দ্বীপটি। এখন মাস্টারপ্ল্যান তৈরির মাধ্যমে প্রবালদ্বীপটি রক্ষার চেষ্টা চলছে।

ফোরকান আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে একটি নীতিমালা তৈরি হয়েছে। আগামী পর্যটন মৌসুম (ডিসেম্বর-এপ্রিল) থেকে এ নীতিমালা চালু হবে। তখন কতজন পর্যটক সেন্ট মার্টিন্সে যেতে পারবেন, কতজন থাকতে পারবেন, কতটা জাহাজ চলাচল করতে পারবে, তার সবকিছু নির্দিষ্ট করা থাকবে।

৭ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সেন্ট মার্টিন্সের লোকসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে সরকার। দ্বীপটিতে ১৫৪ প্রজাতির শৈবাল, ১৫৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৬৮ প্রজাতির প্রবাল, ১৯১ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ১০ প্রজাতির কাঁকড়া, ৬ প্রজাতির প্রজাপতি, ২৩৪ প্রজাতির মাছ, ৪ প্রজাতির উভচর ও ২৯ প্রজাতির সরীসৃপ রয়েছে। দ্বীপে ৭৭ প্রজাতির স্থানীয় পাখি, ৩৩ প্রজাতির পরিযায়ী পাখিসহ মোট ১১০ প্রজাতির পাখি ও ২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ছিল। এখন অনেক বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

বর্তমানে পর্যটন মৌসুম শুরু হলে টেকনাফ থেকে ছয়-সাতটি প্রমোদতরি এবং ৩০টির বেশি কাঠের ট্রলারে সেন্ট মার্টিন্স যাওয়া-আসা করেন দৈনিক ১৫ হাজার পর্যটক। আগামী মৌসুম থেকে সেই সুযোগ আর থাকছে না। তখন সেন্ট মার্টিন্সে যেতে হলে অনলাইনে নিবন্ধন লাগবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো ব্যক্তি সেন্ট মার্টিন্সে গেলে শাস্তি কিংবা অর্থদণ্ড দিতে হবে। এর লক্ষ্যে একটি সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে।

এর সত্যতা নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, পর্যটকের অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলে পরিবেশগত ঝুঁকি থেকে সেন্ট মার্টিন্সকে রক্ষা করা কোনোমতেই সম্ভব নয়। চলতি মৌসুমে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৫ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন্সে গিয়েছেন। আগামী মৌসুম থেকে যেতে পারবেন ১ হাজার ২৫০ জন করে। এর মধ্য থেকে কতজন দ্বীপে রাত যাপন করতে পারবেন, তা-ও নীতিমালায় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।

বেশির ভাগ পর্যটক দ্বীপের ১০৬টি হোটেল-কটেজে থাকেন। কোনো হোটেলে পয়োবর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা নেই। হোটেলের বর্জ্য চলে যাচ্ছে সমুদ্রে। এতে সমুদ্রের স্বচ্ছ নীল জল ঘোলাটে হচ্ছে।

প্রমোদতরির ইঞ্জিনের পাখার (প্রপেলার) কারণে সমুদ্রের তলদেশের বালু পানিতে মিশে প্রবালের ওপর জমে আস্তরের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিশাল প্রবাল এলাকা মরে যাচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি অনুসন্ধানী দল সম্প্রতি সেন্ট মার্টিন্সের তিন দিকের প্রবাল আস্তর থেকে বিপুল পরিমাণ পলিথিন, নৌকার মাছ ধরার জাল, প্লাস্টিক বোতল, ক্যান ও সিগারেটের উচ্ছিষ্ট উদ্ধার করেছেন। দ্বীপের তিন দিকের কয়েক শ একর প্রবাল এলাকায় বালুর আস্তর জমে থাকতে দেখেছেন তাঁরা। এ ছাড়া সৈকত থেকে শামুক-ঝিনুক আহরণ চলছেই। লোকসমাগমের কারণে গভীর সমুদ্র থেকে ডিম পাড়তে আসা ক্লান্ত ও দুর্বল মা কচ্ছপগুলো সৈকতে উঠতে পারছে না। ক্রমান্বয়ে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন সেন্ট মার্টিন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৫৯০ হেক্টর আয়তনের ৭ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটারের এই প্রবালদ্বীপে অতিরিক্ত মানুষের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে দ্বীপের ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে গেছে। এ কারণে শতাধিক নলকূপে লবণ পানি ঢুকে গেছে। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত দ্বীপের সাত হাজার মানুষ পানীয় জলের সংকটে পড়ে। নলকূপ ও পুকুরের লবণযুক্ত পানি খেয়ে অনেকে ডায়রিয়াসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, গত ১ মার্চ থেকে সেন্ট মার্টিন্সে পর্যটকদের রাতযাপনের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু বিশেষ কারণে তা কার্যকর হয়নি। তবে আগামী মৌসুম থেকে রাতযাপনের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞাসহ সেন্ট মার্টিন্সকে রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।