আজ শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** বনানীতে দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাতসহ পাঁচজনের বিচার শুরু * ভিয়েতনাম থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন চালের প্রথম চালান নিয়ে বন্দরে ভিড়েছে জাহাজ * লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে সংঘর্ষে চালক নিহত * তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা * সীতাকুণ্ডে নয় শিশুর মৃত্যু ও ৪৬ জনের অসুস্থতার কারণ এখনও শনাক্ত করা যায়নি * চিকিৎসকরা বলছেন, ত্রিপুরা পাড়ার অসুস্থ শিশুরা মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে * ৫৬ ইউনিয়ন পরিষদ এবং একটি করে পৌরসভা ও জেলা পরিষদের কয়েকটি ওয়ার্ডে ভোট চলছে * চট্টগ্রামে ইয়াবা ও চোলাই মদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর * দুর্নীতির দায়ে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলার সাড়ে নয় বছরের কারাদণ্ড

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

অবসর কাটান সমুদ্র তলে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক | তারিখঃ ০৮.০১.২০১৭

সমুদ্র তলদেশে হোটেল! ভাবছেন এ কি করে সম্ভব।

মাথার ওপর বিশাল সমুদ্র আর এর তলদেশে বসেই আপনি খাচ্ছেন সুস্বাদু সব খাবার। এ যেন রূপকথাকেও হার মানায়। কিন্তু এ কথা সত্য যে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সমুদ্রের তলে গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচতারকা হোটেল। এসব হোটেলে আপনি বিছানায় শুয়ে উপভোগ করতে পারবেন সমুদ্রের নিচে বিভিন্ন জলজপ্রাণীর খেলা এবং আপনার আর শার্কের মাঝখানে ব্যবধান থাকবে সামান্য একটা কাচের দেয়াল মাত্র। যেখানে বোঝা যাবে না রাত আর দিনের মধ্যে পার্থক্য। তাই কোলাহল পূর্ণ পৃথিবী থেকে ছুটি নিয়ে কিছুদিনের জন্য উপভোগ করে আসতে পারেন সমুদ্রের ভয়ঙ্কর সুন্দর রূপ। তাহলে এমনি কিছু আন্ডার ওয়াটার হোটেল সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

ইথা আন্ডারওয়াটার রেস্টুরেন্ট : সমুদ্রের পানির নিচে বিশ্বের প্রথম রেস্টুরেন্টটি তৈরি করা হয় মালদ্বীপের রাঙ্গালি দ্বীপে। সমুদ্রের পানির উপরিভাগ থেকে ৫ মিটার গভীরতায় অবস্থিত এই রেস্টুরেন্টটি সম্পূর্ণ কাচ দিয়ে তৈরি এবং এর চারপাশ ঘিরে আছে প্রবাল প্রাচীর ও এক্রাইলিক। এ রেস্টুরেন্টে ঢোকার মূল দরজা পানির মধ্যে ভাসমান আর তাই রেস্টুরেন্টে ঢোকার আগে আপনাকে ভাসমান কাঠের একটি ব্রিজ পাড় হতে হবে। আর এ ব্রিজটি দড়ির সাহায্যে সমুদ্রের তলদেশে আটকানো থাকে বলে তা জোয়ার ভাটার সময় ভেসে যায় না। সমুদ্রের নিচে ১৮০ ডিগ্রি প্যানরোমিক ভিউতে বসে রেস্টুরেন্টের খাবারের তালিকা অনুযায়ী মালদ্বীপের গলদা চিংড়ি আর পশ্চিমা খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া এখানে ১৪ পদের খাবার একসাথে অর্ডার করা যায়। আর তার জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে ১২০ থেকে ২৫০ মার্কিন ডলার। তবে এ রেস্টুরেন্টে টেবিল পাওয়া বেশ কষ্টকর। তাই কমপক্ষে দু’সপ্তাহ আগে এ রেস্টুরেন্টের টেবিল রিজার্ভ করতে হয়।

মানতা রিসোর্ট : আফ্রিকা মহাদেশের তানজানিয়ার পেম্বা দ্বীপ থেকে খানিক দূরে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় মানতা রিসোর্টের তলায় অবস্থিত এ হোটেল। এ হোটেলটি সৈকত থেকে ২৫০ মিটার দূরে আর ৪ মিটার পানির নীচে। এ হোটেলের বিছানায় শুয়েই আপনি উপভোগ করতে পারেন সমুদ্রতলের জলজ প্রাণীদের খেলা। হোটেল রুমে থাকতে ভালো না লাগলে মই বেয়ে উপরে ওঠার সুযোগও রয়েছে ভ্রমণকারীদের জন্য। এছাড়াও যদি খোলা আকাশের নীচে সমুদ্রের জলের ওপর শুয়ে রাতের তাঁরা দেখতে বা রৌদ্রস্নানের ইচ্ছা জাগে তখন সোজা চলে যেতে পারেন হোটেলের একেবারে ওপরের ছাদে। সেখানেই চা খেতে খেতে অথবা হাত পা ছড়িয়ে সময় কাটাতে পারেন। পানির প্রায় সমতলে থাকা এ হোটেলটির ছাদে রয়েছে বাথরুম আর লাউঞ্জ। এছাড়া মাঝে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে ‘নিক’নামের এক ধরনের মাছ আর রাতের বেলায় দেখা যায় স্কুইড আর বিভিন্ন আকৃতির সব অক্টোপাসদের।

জুলস আন্ডারসি লজ : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়ও পানির নিচে তৈরি করা হয়েছে জুলস আন্ডারসি লজ নামের একটি হোটেল। এ হোটেলটি পানির ২১ ফুট নিচে তৈরি করা হয়েছে।এখানে পৌঁছাতে হলে পানির নিচে ডাইভ করে যেতে হয়। আর তুলনামূলক ছোট এ হোটেলটিতে ৪ জনের বেশি থাকার সুযোগ নেই। এখানে আপনি ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ থেকে শুরু করে গান শোনা, ছবি দেখা মোট কথা নাগরিক জীবনের সকল সুবিধাই পাবেন। এছাড়া এ হোটেলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়টি হলো পানির নিচে ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবস্থা। আপনি চাইলেই এখানে পানির নিচে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। তবে এখানে রাত কাটাতে হলে আপনাকে খরচ করতে হবে ৫০০ ডলার।
পোসাইডন আন্ডারসি রিসোর্ট : ফিজিতেও সাগরতলে গড়ে তোলা হয়েছে পোসাইডন আন্ডারসি রিসোর্ট নামের একটি অদ্ভূত সুন্দর হোটেল। এ হোটেলে বসেই আপনি উপভোগ করতে পারেন সাগরের অপরূপ সৌন্দর্য । তবে এ হোটেলে থাকার জন্য বুকিং দিতে হয় প্রায় দুই মাস আগে । আর ফিজির এই হোটেলে এক রাত কাটাতে আপনাকে গুনতে হবে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১০ লাখ টাকা। তবে পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য এ হোটেলটি একটু অন্যভাবে তৈরি করা হয়েছে। হোটেলটির প্রত্যেকটি কক্ষের আয়তন ১২ বর্গমিটার। এখানে আপনি বিছানায় ঘুমিয়ে থাকবেন আর আপনার মাথার ঠিক আট ফুট উপর দিয়ে পানিতে ভেসে বেড়াবে নীল তিমি ও হাঙ্গরের দল।