Print

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৫.০৭.২০১৭

❏ টাকা-পয়সা: ভ্রমণে কত টাকা খরচ করবেন, সে ব্যাপারটি আগে থেকেই হিসেব করে ঠিক করে নিন।

তারপর বাজেট অনুসারে খরচ করুন। পর্যাপ্ত টাকা পয়সা নিয়ে যাওয়া ভালো। একটা আনুমানিক তালিকা করে ধারণাকৃত অংক থেকে ৩০ শেকে ৪০ শতাংশ বেশি প্রস্তুতি থাকা ভালো। টাকা বহনে ভালো না লাগলে সাবধানতার সাথে কার্ড বহন করতে পারেন। বিকাশ একাউন্ট বা মোবাইলে টাকা লেনদেন করা যায় এমন কোন একাউন্ট থাকলেও খুব কাজে লাগবে। বিভিন্নভাবে ভাংতি টাকার ব্যবস্থা রাখবেন সবসময়, ছোট একটা বিষয় অনেক সময় আমাদেরকে বিপদে ফেলে দিতে পারে। মোবাইলে ব্যালেন্সও বেশি করে নিয়ে নেবেন।

 

❏ ভ্রমণের খাদ্য: টুরিস্ট রেস্টুরেন্টগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। যেখানে বেড়াতে গিয়েছেন সেখানে আশেপাশে ঘুরে, লোকাল বসবাসকারীরা যেখানে খায় সেখানে খাওয়া-দাওয়া সারবেন। খরচটা কমবে উল্লেখযোগ্যভাবে। ভ্রমণের খাবার-দাবারের ব্যাপারে প্রথমে যে জিনিসটি সকলের মাথায় রাখা উচিত তা হল হাইজেনিক ফ্যাক্টর। আপনি যে খাবারটি খাচ্ছেন তা স্বাস্থ্যসম্মত কি না তা যাচাই করে নেয়া উচিত। খাওয়া দাওয়া নিয়ে কিছু টিপস

 

❏ সঙ্গে করে সবসময় কিছু শুকনো খাবার সাথে রাখতে পারেন।

 

❏ স্থানীয় কোন ঐতিহ্যবাহী খাবার থাকলে তা খেয়ে দেখতে পারেন।

 

❏ প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোড়কজাত খাবার কেনার বেলায় এক্সপায়ার ডেটের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবেন এবং সাথে অবশ্যই মেনুফেকচার।

 

❏ ভ্রমণে একবারে বেশি করে খাবার না গ্রহণ করাই উচিত কারণ পুরো ভুড়িভোজন শরীরে আলস্য নিয়ে আসে যা ভ্রমণে একান্তই কাম্য নয়।

 

❏ সকালের নাস্তায় আঁশযুক্ত এবং শর্করাসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। সাথে লো-ফ্যাট দধি, ফলজাতীয় খাবার, সিদ্ধ ডিম, চা-কফি থাকতে পারে।

 

❏ লাঞ্চে আমরা ভারী খাবার খেতে অভ্যস্ত। তাই খাবার হওয়া উচিত কম মশলাদার, তেল পরিমিত রান্না করা, সহজে পরিপাক হয় এমন। এক্ষেত্রে ভাঁজা-পোড়া মেন্যু এভয়েড করাই শ্রেয়।

 

❏ সারাদিনের ক্লান্তি শেষে দেহকে রিচার্জ করতে রাতের খাবার হওয়া উচিত উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং সহজপাচ্য।

 

❏ ভ্রমণের খাবারে ফাস্টফুড আইটেম, বেভারেজ, ফ্লেভারড জুস, চিপস ইত্যাদি পরিহার করুন। এইসবের পরিবর্তে দেশীয় ফল খেতে পারেন।

 

❏ খাবারের তালিকায় বেশি তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে স্বাভাবিক খাবার রাখুন।

 

সবসময় সাথে রাখুন

 

❏ পানির একটি বোতল সাথে রাখুন। রেস্টুরেন্ট বা হোটেল থেকে এই বোতলে পানি রিফিল করে নিন।

 

❏ জাতীয় পরিচয়পত্রের এক কপি অবশ্যই সাথে রাখবেন সবসময়।

 

❏ ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট এবং এমনকি ক্রেডিট কার্ডের মত গুরুত্বপূর্ণ কাগজের ফটোকপি করে সঙ্গে রাখুন।

 

❏ প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কিছু টাকা সাথে রাখুন।

 

আরও কিছু ভ্রমণ টিপস

 

❏ কখন কোনে হোটেল থাকছেন বাড়ির লোকদের জানিয়ে দেবেন, জানিয়ে রাখবেন তাদের ফোন নাম্বারটাও। ভ্রমণের সময় গাড়ির নাম্বারটাও সেভ করে রাখবেন এবং পরিচিত কাউকে জানিয়ে রাখতে পারেন। রাখতে পারেন ফেসবুক পোস্টেও।

 

❏ যেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন সেখানকার জরুরি ফোন নাম্বার এবং লোকেশন সম্পর্কে তথ্য আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখুন।

 

❏ ট্যুরে সব যে সুষ্ঠ-সুন্দর হবে- এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। না চাইলেও সামনে পড়তে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত নানা ঝামেলা। সেগুলো কীভাবে সামলাবেন, তার প্রাথমিক প্রস্তুতি আগে থেকে নিয়ে রাখাই ভালো।

 

❏ জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি সঙ্গে নিতে ভুলবেন না, অনেক হোটেলে এনআইডি কপি ছাড়া রুম দেয়া হয় না। অবশ্যই একাধিক করি রাখবেন।

 

❏ ট্যুরে সারাদিন কি করবেন তার একটি প্ল্যান করুন। তাতে সারাদিনে সময় কিছু বাঁচবেই, সকল রকম পরিস্থিতির জন্যও আপনি মোটামুটি প্রস্তুত থাকবেন।

 

❏ যদি আপনি ভ্রমনের খরচটা বাঁচানোর সাথে সাথে নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে চান তাহলে ভ্রমণকারী গ্রুপে বা বন্ধুরা দলবদ্ধ হয়ে ভ্রমনে যেতে পারেন।

 

❏ কোথায় গাড়ি পার্ক করছেন এ ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকুন, কেননা চোরেরা টুরিস্টের গাড়ি বুঝতে পারলে চুরি হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

 

❏ বেড়াতে যাওয়ার আগে জায়গাটি সম্পর্কে খোঁজ নিন। থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন তাও জেনে নিন।

 

❏ নিজের গাড়ি নিয়ে দূরে যেতে হলে, কোনো সমস্যা আছে কিনা আগে চেক করুন। এক্সট্রা চাকা অবশ্যই গাড়িতে রাখবেন।

 

❏ ভাবছেন শীতকালে ঠান্ডা, তাই সানস্ক্রিন প্রয়োজন নেই? ভুল! শীতের রোদেও আমাদের ত্বকের সমান ক্ষতি হয়। সানস্ক্রিন শীতেও নিতে হবে।

 

❏ বাড়তি ব্যাগ আর জুতাও নিয়ে নিন।

 

❏ একদম ভ্রমণ মৌসুমে না গিয়ে একটু কম টুরিস্টের সমাগম হয় এমন সময়ে ভ্রমণে যান। বছর শেষের শীতের বন্ধের সময়টি ভ্রমণের সবথেকে উপযুক্ত মৌসুম বলে বিবেচনা করা হয়। একদম এ সময় না গিয়ে এর কাছাকাছি কোন সময়ে যেতে পারেন।

 

❏ বাড়ি খালি রেখে গেলে অবশ্যই নিজ দায়িত্বে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেবেন।

 

❏ বেড়াতে যাওয়ার আগে ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ভালোভাবে পড়ুন। যেখানে যাবেন, সেই জায়গা সম্বন্ধে খোঁজখবর নিন। সেখানকার আবহাওয়া সম্পর্কে জেনে নিন। থাকার হোটেল বা রিসোর্ট নির্বাচন করে আগে থেকে বুকিং দিন।

 

❏ ভ্রমণে যাচ্ছেন এই বিষয়ে ফেসবুক, টুইটার, ব্লগে স্ট্যাটাস দিতে পারেন। এর ফলে সবাইকে শুধু বিষয়টি জানালেই হবে না, ওই এলাকায় আপনার কোনো বন্ধু থাকলে প্রয়োজনে সেও সাহায্য করতে পারবে।

 

❏ ভ্রমণের সময় চাকাযুক্ত ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। এটি বহন করতে সুবিধা হবে এবং কষ্ট কম লাগবে।

 

❏ একটি কাগজে নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে লাগেজের ভেতর সেঁটে রাখুন। যাঁরা ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেক সদস্যের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ জরুরি তথ্য কাগজে লিখে রাখুন।

 

❏ যে স্থানে ভ্রমণে যাচ্ছেন, প্রয়োজনে সেখানে গাইডের সাহায্য নিন। ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ভ্রমণের সব ব্যবস্থা করলে, আগে আগেই সব খোঁজখবর নিন।

 

❏ ব্যাগ (ট্রাভেল ব্যাগ) মার্কেটে এখন নানা ধরনের কিনতে পাওয়া যায়। আপনার পছন্দ এবং প্রয়োজন অনুসারে ব্যাগ নির্বাচন করুন।

 

সতর্কতা

 

❏ যে কোনো যানবাহন থেকে নামার সময় কোনো মালপত্র ফেলে গেলেন কি না সেদিকে খেয়াল রাখুন। নামার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না।

 

❏ মানি ব্যাগ, ক্রেডিট কার্ড সাবধানে রাখবেন। সব টাকা মানিব্যাগে না রেখে কিছু টাকা অন্য জায়গায় রাখবেন। একটি কার্ডে আপনার ঠিকানা লিখে রাখবেন। ব্যাগ হারিয়ে গেলে কেউ পেয়ে থাকলে ফের পাবার সম্ভাবনা থাকবে।

 

❏ বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। খোলামেলা স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খাওয়া যাবে না।

 

❏ ডায়রিয়া, বমি হলে স্যালাইন ওয়াটার পান করুন। মাথায় স্কার্ফ ব্যবহার করুন, এতে চুল ও ত্বক রুক্ষ্ম হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।

 

❏ পরিমিত খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

 

❏ সন্ধ্যার পর অথবা বেশি রাত পর্যন্ত হোটেলের বাইরে অবস্থান করবেন না। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করতে গেলে। অবশ্যই শিশুদের দিকে লক্ষ্য রাখুন।