আজ শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৯.০৯.২০১৭

বগালেক। যেখানে আকাশ পাহাড় আর জলের মিতালী। আর এ কারণেই বান্দরবানে যে কয়টি দর্শনীয় স্থান আছে তার মধ্যে

অন্যতম বগালেক। প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে এখানে পাহাড়ের উপর জলরাশি সঞ্চার করে তৈরি করেছে এই হ্রদ। সমুদ্র সমতল হতে প্রায় ১৭০০ ফিট উপরে পাহাড় চূড়ায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই অত্যাশ্চর্য হ্রদটি।

বিষয়টি যতটা না অবিশ্বাস্য, যতটা না অলৈাকিক তার চাইতেও বেশি এর সৌন্দর্য। শান্তজলের হ্রদ আকাশের কাছ থেকে একমুঠো নীল নিয়ে নিজেও ধারন করে নিয়েছে সেই বর্ণীল রং। পাহাড়ের চূড়ায় নীল জলের আস্তর নীল আকাশের সাথে মিশে তৈরি করেছে এক প্রাকৃতিক কোলাজ। মুগ্ধ নয়নে দেখতে হয় আকাশ পাহাড় আর জলের মিতালী।

প্রকৃতি এখানে ঢেলে দিয়েছে একরাশ সবুজের ছোঁয়া। যেন তুলির আঁচড়ে বগালেকের পুরো জায়গা সেজেছে ক্যানভাসের রঙে আর প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে এঁকেছে জলছবি।

বগালেক দুই ভাবে সমাদৃত ভ্রমণপিপাসুদের কাছে। বগালেক গন্তব্য হিসেবে যেমন জনপ্রিয় আবার বগালেক পর্বতারোহীদের কাছে অনেকটাই বেস ক্যাম্পের মতো যারা রুমা হয়ে ট্রেকিং রুটগুলোতে যান। এ এমনই এক ছবি যা দেখামাত্র ভ্রমনপিপাসুদের ক্লান্তি-তৃষ্ণা উবে যায় মুহুর্তের মাঝে।

তাই দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে আসার সব ক্লান্তি হারিয়ে যায় এই হ্রদের অতলগহ্বরে। সবকিছু মিলে এ যেন এক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বগালেককে অনেকে ড্রাগনলেকও বলে থাকে। সকাল, সন্ধ্যা কিংবা রাত, প্রতি বেলাতেই বগালেক নতুন রূপে ধরা দেয়। এর সৌন্দর্য কাগজে কলমে লিখে আসলে বোঝানো সম্ভব নয়। নিজ চোখে না দেখলেও কল্পনাতীত।

বান্দরবন জেলা হতে ৭০ কিলোমিটার দূরে রুমা উপজেলার কেউক্রাডং পাহাড়ের কোল ঘেঁষে অবস্থিত এটি। এই হ্রদটি তিনদিক থেকে পর্বতশৃঙ্গ দ্বারা বেষ্টিত। বগালেকের গড় গভীরতা আনুমানিক ১৫০ ফুটের মত। এটি সম্পূর্ণ আবদ্ধ একটি হ্রদ। এর আশেপাশে পানির কোনো উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে বগালেক যে উচ্চতায় অবস্থিত তা থেকে ১৫৩ মিটার নিচে একটি ছোট ঝর্ণার উৎস আছে যা বগাছড়া (জ্বালা-মুখ) নামে পরিচিত। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে এই লেকের পানি প্রতি বছর এপ্রিল থেকে মে মাসে ঘোলাটে হয়ে যায়। আর লেকের সাথে সাথে আশেপাশের নদীর পানিও ঘোলাটে রং ধারণ করে। কারণ হিসেবে অনেকে মনে করেন এর তলদেশে একটি উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে। এই প্রস্রবণ থেকে পানি বের হওয়ার সময় হ্রদের পানির রঙ বদলে যায়।

যেভাবে যাবেন
প্রথমে যেতে হবে বান্দরবান। সেখান থেকে প্রতি ঘণ্টায় রুমার বাস ছাড়ে। যেতে হবে রুমাবাজার। রুমা থেকে গাইড নিয়ে চাঁদের গাড়িতে অথবা পায়ে হেঁটে বগালেক যাওয়া যায়। তবে দূরত্ব অনেক এবং উঁচূ রাস্তা হওয়ায় অনেকের পক্ষেই হেঁটে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে চাঁদের গাড়িতেই যেতে হয়।

কোথায় থাকবেন
বগা লেকে থাকার জন্যে কিছু কুটির রয়েছে, সিয়াম দিদি আর লারাম বম এর বোর্ডিং উপায়ে পরিচালিত কটেজ প্রসিদ্ধ কম খরচে থাকার জন্যে। কিছু কটেজ একেবারে লেকের উপর মাচা তৈরি করে তার উপর।

খাওয়া-দাওয়া
খাবার পাবেন যেখানে থাকবেন সেখানেই, তবে যা খাবেন রান্না করার সময় দিয়ে আগেই অর্ডার করতে হবে। তাছাড়া খাওয়া খাবার জন্যে লারাম বম, সিয়াম বম (স্থানীয় স্কুল টিচার সিয়াম দিদি)সহ কয়েকটি দোকান আছে। প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকার মধ্যে রাতে থাকার ও তিন বেলা খাবার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।