আজ শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৪.১১.২০১৭

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান, সব সম্প্রদায়ের দর্শনীয় বেড়ানোর জন্য খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ির

শান্তিপুর অরণ্য কুটির বাংলাদেশের বৌদ্ধ তীর্থভূমির মধ্যে একটি অন্যতম তীর্থস্থান। পানছড়ি উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে উল্টাছড়ি ইউনিয়নে শান্তিপুর নামক গভীর অরণ্যবেষ্টিত বনভূমিতে ৬৫ একর জায়গার ওপর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শান্তির প্রতীক সুবিস্তীর্ণ তীর্থস্থান, তথা সব সম্প্রদায়ের এখন পরিচিত নাম ‘পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটির’।

 

এখানে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন শত শত পুণ্যার্থী ও পর্যটকের আগমন ঘটে। আগত পুণ্যার্থীদের বৌদ্ধের বাণী ও ধর্মোপদেশ প্রদান করেন কুটিরের অধ্যক্ষ পরম মৈত্রের প্রজ্ঞালাভী শ্রদ্ধেয় শ্রীমত্ শাসন রক্ষিত মহাস্থবির। রাঙামাটি রাজ বনবিহারের অধ্যক্ষ শ্রাবক বুদ্ধ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের অন্যতম শিষ্য শ্রীমত্ শাসন রক্ষিত মহাস্থবির (সূর্য্যবান চাকমা) ১৯৬৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার (সূর্য্যবান চাকমা) বাবার নাম সুবল চন্দ্র চাকমা, মায়ের নাম খাজাবি চাকমা।

 

এইচএসসি পাস করার কয়েক মাস পর বৈরাগ্যভাব উদয় হলে সূর্য্যবান চাকমা বাবা-মায়ের অনুমতিক্রমে রাজবন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রাবক বুদ্ধ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের কাছে উপসম্পদা গ্রহণ করেন। তিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছাড়াও সব সম্প্রদায়ের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র, বৌদ্ধ ভিক্ষু, পরম পূজ্য সাধকপ্রবর মহাপ্রজ্ঞালাভী হিসেবে পরিচিত। সেখানে প্রতিদিন সকাল-বিকাল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয় মহাকারুণিক তথাগত গৌতম বুদ্ধের অরহত্ সম্যক সম্বুদ্ধের অমোঘ সত্যের সাম্য মৈত্রীর অমিয় ত্রিশরণ ধর্মবাণী—‘বুদ্ধং সরণং গচ্ছামি-ধর্মং সরণং গচ্ছামি-সংঘং সরণং গচ্ছামি’।

 

১৯৯৮ সালে খাগড়াছড়ির পানছড়ি ‘শান্তিপুর’ নামক জনমানবহীন প্রকৃতির চাকচিক্যময় সবুজ, সতেজ, সজীব তরুলতা পরিমণ্ডিত শৈলশ্রেণী এবং চারদিকে সবুজ-শ্যামল বন-বনানীর ছায়াঘেরা এক অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে গভীর ধ্যান-সাধনা করেন। প্রতিদিন ভোরে শান্তিপুর এলাকায় পিণ্ডচরণ (ভাত-তরকারি গ্রহণ) করে খেয়ে না খেয়ে জনমানবহীন এ স্থানে গভীর তপস্যা করেন। এ খবর শান্তিপুর এলাকায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে শান্তিপুরবাসী ভান্তের ধ্যান গ্রহণ স্থানে প্রথমে পলিথিন দিয়ে একটি ছাউনি তৈরি করে দেন। ৩-৪ মাস পর এলাকাবাসী বড় বাঁশ দিয়ে একটু উঁচু করে একটি মাচাং ঘর করে দেন।

 

অবস্থান: পানছড়ি উপজেলা হতে চেঙ্গী নদীর অপর তীরে পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণে ছোট্ট টিলার উপর এই অরণ্য কুটির।খাগড়াছড়ি জেলা শহর হতে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়ক দিয়ে ২৫ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে পানছড়ি বাজারে পৌঁছার পর দক্ষিণ দিকের পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেই দেখা যাবে প্রকৃতির বুকে অপরূপ শোভা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শান্তিপুর অরণ্য কুটির।

 

কিভাবে যাওয়া যায়: পানছড়ি পর্যন্ত পাকা রাস্তা। চেঙ্গীব্রীজ পার হবার পর কিছু অংশ পাকা বাকী অংশ হেরিংবোন। পানছড়ি পর্যন্ত বাসে, অতপর কার, জীপযোগে যাওয়া যায়। যারা ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসতে চান তারা ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি পৌঁছে বাস, সিএনজি বা মোটর সাইকেল চড়ে পানছড়িতে আসতে পারেন। খাগড়াছড়ি সদর থেকে পানছড়ি যেতে আপনার সর্বোচ্চ সময় লাগবে ত্রিশ মিনিটের মতো। ঢাকা থেকে সরাসরি শান্তি পরিবহন যোগে পানছড়িতেও আসা যায়।

 

এ পবিত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে সাম্য ও মৈত্রীর প্রভাবে এলাকার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক পারস্পরিক সম্প্রীতি পোষণ করে শান্তিতে বসবাস করছেন এবং ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়েছে। প্রতি বছর বৌদ্ধ ধর্মের শ্রেষ্ঠ দান কঠিন চীবর দান যথাযথভাবে উদ্যাপন করা হয় এবং উক্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে।