মুদ্রণ

কাঠমান্ডুর ময়লাবাহী ট্রাকও ফুল দিয়ে সাজানো

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ২৯.০৯.২০১৫

শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে কোনও ডাস্টবিনের নিশানা মিললো না।

মনের মধ্যে প্রশ্নের উদয় হলো- তাহলে, লোকজন ময়লা ফেলে কোথায়?
 
এই প্রশ্নের সমাধান পেতে অপেক্ষায় থাকতে হলো আরো বেশ কিছু সময়। হোটেলে ফিরলাম রাত ৯টায়। তখন দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ধপাধপ। আর পলিথিনে বা কাগজের ব্যাগে দোকানের সামনে ময়লা রেখে দিচ্ছেন দোকানিরা।

এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সাধু সীরাস্ত নামে এক দোকানি জানালেন, রাতের মধ্যেই রেখে দেয়া ময়লা পরিষ্কার করা হবে।
 রাত ১২টার দিকে একটি দল এলো প্লাস্টিকের তৈরি ফ্যামিলি সাইজ ডাস্টবিন নিয়ে। তারা ময়লার ব্যাগগুলো তুলে ওই ডাস্টবিনে ভরে রাস্তার পাশের বড় ডাস্টবিনে রাখলেন। এরপর ভোরে আরেকটি দল ময়লাবাহী গাড়ি নিয়ে এসে ডাস্টবিনটি সমেত তুলে নিয়ে গেল।

পরদিন ভোরে দরবার মার্গ এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় আরেকটি দলকে রাস্তা ঝাড়ু দিতে দেখলাম। পুরো প্রক্রিয়াটাই হচ্ছে একটি সুন্দর ব্যবস্থাপনায়।

কাঠমান্ডুর ময়লাবাহী গাড়িও অনেক ভিন্ন। বাংলাদেশের মতো ঢাকনাওয়ালা ডাস্টবিন নেই সেখানে। খোলা মিনি ট্রাকে ময়লা সরিয়ে নেয়া হয়। ট্রাকগুলো দেখলেই অনুমান করা যায় তাদের বয়স। গায়ের লেখাগুলো উঠে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ময়লাবাহী গাড়ির মতো এতো দুর্গন্ধ নেই সেসব গাড়িতে।
 
নেপালের ময়লাবাহী গাড়ি দেখে চেনার কোনো উপায় নেই। চলার সময় দুর্গন্ধ ঠেকাতে মোটা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় গাড়িগুলো। বিভিন্ন উৎসব ও জাতীয় দিবসে যখন নগর সাজানো হয়, তখন ফুল ও রঙিন ফিতা দিয়ে সাজানো হয় ময়লাবাহী গাড়িগুলোও।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঘুরতে বের হয়ে ময়লাবাহী গাড়িগুলোর সামনের গ্লাসে রঙিন ফিতা দিয়ে সাজানো দেখলাম। আমাদের এক সফরসঙ্গী অবশ্য ময়লার ট্রাক সাজানো দেখে রঙ্গরস করলেন। কিন্তু আরটিভি’র স্টাফ রিপোর্টার জুলহাস কবীর প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন- সাজালে দোষের কী? এতে গাড়ির চালক ও হেলপারদের মানসিকতার পরিবর্তন হবে। তারা গাড়িটিকে পরিচ্ছন্ন রাখতে আরো মনোযোগী হবেন।

মুখ খুললেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোর’র স্টাফ রিপোর্টার হাসনাত রাব্বি। তিনি বললেন- বাংলাদেশের হর্তাকর্তারা যে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিদেশ সফর করেন, এসব পদ্ধতি কি তাদের চোখে পড়ে না!

কাঠমান্ডুতে সকাল ৮টার মধ্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হয়। অন্যদিকে, ঢাকার ময়লাবাহী ট্রাকগুলো দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রধান সড়ক দাপিয়ে বেড়ায়। আর যেখানে ডাস্টবিন রয়েছে, সেই এলাকা দিয়ে তো নাক চেপে পার হওয়াও দায়।
 ঘুরতে ঘুরতেই চলছিল নানা আলোচনা। নানান বিষয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন হাসনাত রাব্বি বললেন- ঢাকাতো দিন দিন অচল হয়ে যাচ্ছে। কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। ঢাকা যদি কাঠমান্ডুর মতো হতো।
 
তার কথা শেষ না হতেই জুলহাস কবীর বললেন- নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা ‍ঠিক হবে না। কারণ পুরো দেশটিতে পৌনে তিন কোটি লোক বাস করেন। এদিকে, আমাদের ঢাকাতেই বাস করেন দুই কোটির বেশি মানুষ।

তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন হাসনাত রাব্বি। তিনি বললেন- এগুলো দায় এড়ানো কথা। ইচ্ছা থাকলে অনেক কিছুই করা সম্ভব।
 পাহাড়ে ঘেরা কাঠমান্ডু সব সময় ঝকঝকে তকতকে থাকে। কোথাও ময়লা-আবর্জনা নেই। রাস্তার ওপর নেই পানির খালি বোতল কিংবা চিপসের প্যাকেটের গড়াগড়ি। নেই ফুটপাতে অবৈধ দোকানের পসরা। ছিমছাম গোছানো শহর।

কাঠমান্ডুতে নিয়ম লঙ্ঘন করে গাড়ি পার্কিং করতেও দেখা যায় না। সবাই নিয়ম মেনেই গাড়ি চালান। এজন্য খুব একটা হুইসেল বাজানোর প্রয়োজনও পড়ে না বলে জানালেন চালকরা। আর এসব কারণেই বুঝি পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছে শহরটি।