Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Premier Bank Ltd

বেড়িয়ে যান বাঘ-হরিণের দেশে

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ৩০.০৯.২০১৫

পর্যটকদের কাছে সুন্দরবনের আকর্ষণ দুর্নিবার।

প্রায় বছর জুড়েই পর্যটকরা ভিড় করেন সেখানে, মিশে যান প্রকৃতির এই অনবদ্য সৃষ্টির মাঝে। সুন্দরবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন রহস্য ও রোমাঞ্চভরা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অ্যাডভেঞ্চার, ভয় ও শিহরণের স্থান এটি।

ভ্রমণপিপাসু মানুষের মধ্যে যারা ঈদের ছুটিকে কাজে লাগাতে চান তারা বেড়িয়ে যেতে পারেন বাঘ-হরিণের দেশ সুন্দরবনে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে পারেন জীববৈচিত্র্যে ভরপুর পৃথিবীর বৃহত্তম এ ম্যানগ্রোভ বনে।

এখানে সময় কাটাতে পারেন হরিণ দেখে, বাঘ খুঁজে, বানরের সঙ্গে লুকোচুরি করে। কিংবা নির্জন বনের বিচে গোসল ও সাঁতার কেটে।

কী আছে সুন্দরবনে?
কী আছে সুন্দরবনে না বলে বরং বলা উচিত কী নেই সুন্দরবনে? সুন্দরবনকে জালের মতো জড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদার চর ও ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ক্ষুদ্রায়তন দ্বীপমালা।

বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল হরিণ, বনমোরগ, শূকর, হরেক রকম বানর, অজগর, বহু প্রজাতির পাখি, অপরূপ লতাগুল্ম ও বৃক্ষরাজি, নদীতে নানা প্রজাতির মাছ রয়েছে। গাছের মধ্যে সুন্দরী, কেওড়া, গরান, বাইন, গেওয়া, পশুর, গোলপাতা, হেতাল, কাঁকড়া, ঝানা, সিংড়া, খলসা ইত্যাদি। নদীতে কুমিরসহ প্রায় ৩৩ প্রজাতির সরীসৃপ বাস করে সুন্দরবনে। এখানে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালদের সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ পেতে পারেন অনায়াসেই। রাতে সুন্দরবনের শান্ত স্নিগ্ধ রূপ আর নদী সমুদ্রের সৌন্দর্য অপরূপ। এসব ছাড়াও সুন্দরবনের আশপাশে রয়েছে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষক স্থান।

৬ বার রূপ বদলায় সুন্দরবন:
সুন্দরবন ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৬ বার তার রূপ বদলায়। খুব ভোরে এক রূপ, দুপুরে অন্যরূপ, পড়ন্ত বিকালে আরেক রূপ, সন্ধ্যায় সাজ নেয় ভিন্নরূপে। মধ্য ও গভীর রাতে সৌন্দর্য আরেক রকম। আর যদি চাঁদনী রাত হয়, তবে তো কথাই নেই। এর সব ক’টি রূপ আপনাকে দেখতে হলে অবশ্যই একটু সময় নিয়ে আসতে হবে। এ বনে ঝুঁকি এড়াতে ভ্রমণের সময় বনরক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।

সুন্দরবনের প্রধান প্রধান দর্শনীয় স্থান:

হিরণ পয়েন্ট:
হিরণ পয়েন্ট, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ লোনাবন। সুন্দরবনের দক্ষিণাংশের একটি সংরক্ষিত অভয়ারণ্য। এর আরেক নাম নীলকমল। প্রমত্তা কুঙ্গা নদীর পশ্চিম তীরে, খুলনা রেঞ্জে এর অবস্থান।  হিরণ পয়েন্ট, ইউনেস্কো ঘোষিত অন্যতম একটি বিশ্ব ঐতিহ্য। অভয়ারণ্য হওয়ায় এখানে অনেক বাঘ, হরিণ, বানর, পাখি ও সরীসৃপের নিরাপদ আবাসস্থল। সুন্দরবন এলাকায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখার অন্যতম একটি স্থান হলো হিরণ পয়েন্ট। এখানে দেখা পাওয়া যায় চিত্রা হরিণ, বন্য শূকরের; পাখিদের মধ্যে আছে সাদা বুক মাছরাঙা, হলুদ বুক মাছরাঙা, কালোমাথা মাছরাঙা, লার্জ এগ্রেট, কাঁদা খোঁচা, ধ্যানী বক প্রভৃতি। এছাড়া আছে প্রচুর কাঁকড়ার আবাস। আর আছে রং-বেরঙের প্রজাপতি। হিরণ পয়েন্ট থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে কেওড়াসুঠিতে রয়েছে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার (ওয়াচ টাওয়ার), যা থেকে আশপাশের প্রকৃতি দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত তিনটি ভালো রেস্টহাউজ আছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে তাতে থাকা যায়। থাকতে পারবেন একশোজনের মতো। সব ডাবল বেডের রুম। ভাড়া ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা।