Tuesday 28th of February 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

***পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার * রাজধানীর কদমতলী থেকে গ্রেপ্তার জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ছয় কর্মী দুই দিনের রিমান্ডে***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

এক দেশ দুই আইন চলছেঃমির্জা ফখরুল

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৯.০১.২০১৭

বিএনপির সমর্থন কম নয়- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এটা ‍বুঝেছেন বলেই তাদেরকে সভাসমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

সোমবার সকালে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ফখরুল। দশম সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে রাজধানীতে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

কেবল ৭ জানুয়ারিই নয়, গত ৭ নভেম্বরও রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা নয়াপল্টন যে কোনো এক জায়গায় সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পায়নি বিএনপি।

রবিবার রাজধানীতে আওয়ামী লীগের এক কর্মী সমাবেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে দুর্বল মনে করে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে ভুল করবেন। আন্দোলনে ব্যর্থ হতে পারে কিন্তু সমর্থনে তারা কম নয়।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেবকে। তিনি কালকে একটা সত্য কথা উচ্চারণ করেছেন যে বিএনপিকে দুর্বল ভাবলে ভুল করা হবে। একটা ভোটের অধিকার পাবে, সেদিন তারা শক্তিটা প্রদর্শন করবে, বিএনপির সমর্থক যারা রয়েছে। দ্যাটস দ্য ডেমোক্রেসি। আপনারা আসলে জানেন বলেই আমরা আবার সমবেত হতে না পারি, সংগঠিত হতে না পারি, আমরা যেন মিছিল করতে না পারি তার জন্য আপনারা সেটাকে ওইভাবে দূরে সরিয়ে রাখছেন এবং নির্বাচনটাকেও নিজের কন্ট্রোলে রাখার চেষ্টা করছেন।’

‘আমরা গুরুত্বহীন হলে বাধা দিচ্ছেন কেন?’

দুই দফা সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির ব্যর্থতার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা দলটিকে নিয়ে প্রায়ই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিচ্ছেন। দাবি করছেন, বিএনপি এখন গুরুত্বহীন দলে পরিণত হয়েছে। এসব দাবির জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি এতটা গুরুত্বহীন দল হলে কেন মিছিল-মিটিং করতে দিচ্ছেন না? কেন নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ দাঁড় করিয়ে রাখছেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা বেরিয়ে পড়লে আটকানো মুশকিল হবে এজন্যই কি এত ভয় পাচ্ছেন?’।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘বিএনপি দুর্বল হলে এতো গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন? সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপিকে নিয়ে কথা বলছেন কেন?।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের চরিত্রের সঙ্গে গ্রাম্য মোড়লের চরিত্রে খুব মিল উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘যারা দুর্বল তারাই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করে। গ্রামের মোড়লরা তাই করে।’
তারা পারলে আমরা কেন নয়?

বিএনপি গত দুই মাসে দুইবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগ এই ময়দানে এই সময়ের মধ্যে একবার সমাবেশ করেছে আগামী ১০ জানুয়ারি আরেক সমাবেশের প্রস্তুতিও নিচ্ছে। গত ১ জানুয়ারি সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করেছে।

এগুলোর উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা সমাবেশ করতে পারলে আমরা যে সুযোগ পাবো না কেন।’

ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা বলবেন, বলবেন যে দেশে গণতন্ত্র আছে, অধিকার আছে, অথচ একটা সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলকে, তাকে আপনি সমাবেশ করতে দেবেন না। অথচ আপনার ওইখানেই কিছু আগে কাউন্সিল করেছেন, তাহলে পরিষ্কার বলে দিলেই তো হয়, ইউ হ্যাভ টু রুলস—দুটো আইন আছে। একটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের জন্য, সরকারের জন্য। আরেকটা রেস্ট অব দি পিপল অর্থাৎ বাকিদের জন্য।

‘আপনারা কি আমাদেরকে উসকে দিতে চান?’

বিএনপি আন্দোলনে দুর্বল-ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কাছ থেকে আসা এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল। বলেন, ‘আপনারা কী আমাদের উসকে দেয়ার জন্য এমন প্রশ্ন করছেন। আমরা কী অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামবো?’।

সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন,‘সরকার দেশের তিনটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকার আইন, শাসন ও বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এদের একেকটি মুখোমুখি অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান,ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।