মুদ্রণ

 

আমি সুস্থ আছি, জীবিত আছি

বিডিনিউজডেস্ক.কম

তারিখঃ ১২.০৫.২০১৫

বিএনপির ‘নিখোঁজ’ যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ জানিয়েছেন, সালাহউদ্দিন ভারতে আছেন। সেখানকার মেঘালয়ের একটি হাসপাতাল থেকে ফোন করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ তথ্য জানান।

হাসিনা আহমেদ বলেন, ভারতের ওই হাসপাতাল থেকে একটি ফোনে বলা হয়, সালাহ উদ্দিন আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে। কল ধরে সালাহ উদ্দিন আমাকে বলেন, আমি ভালো আছি আছি, সুস্থ আছি।

তার সাথে দেখা করার চেষ্টা করছেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী বলেন, ওনার কাছে পৌঁছানোর জন্য দ্রুত চেষ্টা করছি।

মেঘালয়ের হাসপাতালে রয়েছেন সালাহউদ্দিন

হাসিনা আহমেদ জানান, ফোনে সালাহ উদ্দিন বলেন, আমি সুস্থ আছি, জীবিত আছি এবং ভালো আছি। তুমি সবাইকে খবরটা জানিয়ে দেও। দেশবাসী, বিএনপি ও ২০ দলের সবাইকে আমার জন্য দোয়া করতে বলবা।

যার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি সালাহ উদ্দিন আহমেদ কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, একশ বছর পরও আমি আমার স্বামীর কণ্ঠ চিনব। আমি শতভাগ নিশ্চিত।

তিনি বলেন, যাতে তিনি দেশে ফিরে আসতে পারেন এবং তার সঙ্গে আমরা দেখা করতে পারি সেজন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা দ্রুত তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করব।

উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ রাতে নিখোঁজ হন বিএনপির এই নেতা। তারপর তার স্ত্রীর পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও দাবি করা হচ্ছিল- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তাকে তুলে নিয়ে গেছে।

তাকে অবিলম্বে ফিরিয়ে না দিলে সরকারকে ‘কঠিন পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে বলে গত ২২ মার্চ এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

এদিকে সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ স্বামীর খোঁজ চেয়ে হাইকোর্টে গেলে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের বেঞ্চ ১২ মার্চ একটি রুল জারি করে।

রুলে আদালত জানতে চান, সালাহ উদ্দিন আহমেদকে কেন খুঁজে বের করা হবে না এবং ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে কেন আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, সরকারকে তা রোববারের মধ্যে জানাতে বলা হয়।

আদালতের ওই আদেশ মেনে পুলিশের পাঁচটি শাখা প্রতিবেদন দেয়। এতে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), র‍্যাব, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও বিশেষ শাখা (এসবি) দাবি করে, তাদের কেউ সালাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার বা আটক করেনি। তবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। গত ৯ এপ্রিল শুনানির পর ২০ এপ্রিল রিট নিষ্পত্তির আদেশ দেন আদালত।