মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ৩০.০৭.২০১৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চূড়ান্ত রায়ে বিএনপি হতাশ, বিস্মিত ও বেদনাহত হয়েছে।

তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন। রায়ের পর বুধবার বিকেলে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে বলেন, এ রায়ে তিনি ন্যায় বিচার লাভ করেননি। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ বুধবার সকালে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড বহালের আদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। রিপন অভিযোগ করেন, এ বিচারে আইনি স্বচ্ছতা ছিল না। আমরা হতাশ বিস্মিত ও বেদনাহত হয়েছি। জীবনভর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও মন্তব্যের কারণে বিতর্কিত সাকা চৌধুরীই প্রথম বিএনপি নেতা, যাকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলতে হচ্ছে। এ ছাড়া তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা দ্বিতীয় ব্যক্তি, এ অপরাধে চূড়ান্ত রায়েও যার সর্বোচ্চ সাজার রায় হলো। মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের (ফকা) চৌধুরীর ছেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরী যে একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে হিন্দু ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকদের নিধন ও নির্যাতন চালিয়েছিলেন, এ মামলার বিচারে তা উঠে আসে। চট্টগ্রামের রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা, সুলতানপুর ও ঊনসত্তরপাড়ায় হিন্দু বসতিতে গণহত্যা এবং হাটহাজারীর এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তাঁর ছেলেকে অপহরণ করে খুনের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এক বছর নয় মাস পর আপিলের রায়ে সেই সাজাই চূড়ান্ত সাব্যস্ত হলো। ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের মধ্যে সাকা চৌধুরী হলেন পঞ্চম ব্যক্তি, আপিল বিভাগে যার মামলার নিষ্পত্তি হল। পাঁচ বছর আগে বিজয় দিবসের ভোরে তখনকার সংসদ সদস্য সাকা চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার যখন আপিলের রায় হলো, তখন তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে।