Monday 5th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ছয়বারের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা মারা গেছেন বলে খবর স্থানীয় টিভির, হাসপাতালের অস্বীকার * আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজের বাবা তসলিমউদ্দিন আহমেদ (৭২) ল্যাবএইড হাসাপাতালে লাইফ সাপোর্টে***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

দলের হাল ধরার মতো যোগ্য নেতৃত্ব বিএনপিতে আছে: রিজভী আহমেদ

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৪.০৫.২০১৬

নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপিতে যোগ্য নেতৃত্ব রয়েছে।

কোন কারণে সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও এরপরের নেতাদের গ্রেফতার করলেও দলটি নেতৃত্বশূন্য হয়ে যাবে না। দলের হাল ধরার মতো যোগ্য নেতৃত্ব বিএনপিতে আছে। বিএনপি অনেক বড় দল। জনগণের দল।তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের পর, বিএনপির চেয়ারপারসন ও ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিএনপিকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু দলটিকে দমিয়ে রাখা যায়নি, নিঃশেষও করে দিতে পারেনি। বিএনপি এগিয়ে গেছে। সরকার যতো চেষ্টাই করুক বিএনপিকে চাইলেই শেষ করে দেওয়া যাবে না।দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। বৈঠকে আমাদের অর্থনীতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নাসিমা খান মন্টিসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।বিএনপি নেতৃত্বের নাম্বার ওয়ান থেকে ফোর পর্যন্ত কেউ নেই মামলাবিহীন। চারজনই কারাবরণ করেছিলেন এর আগে। তারা আবারও গ্রেফতার হলে সেক্ষেত্রে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে এমন কথা শোনা যায়। আগামী দিনে দল সংকটে পড়লে বিএনপির হাল ধরার জন্য জোবায়দা রহমানকে দলের কোন পদে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে রিজভী বলেন, এ ব্যাপারে আমি ঠিক বলতে পারবো না। ম্যাডাম যদি মনে করেন তাকে আনবেন, তাহলে আনতে পারেন। তবে আমি সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানি না।বিএনপির আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য যা যা করা দরকার আমরা সবই করবো। বিএনপি গণমানুষের দল, তাই মানুষের অধিকার এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।বিএনপি কোনঠাসা কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সরকার মনে করে যে বিএনপিকে কোনঠাসা করে ফেলেছে। দমিয়ে রেখেছে। কিন্তু আমরা তা মনে করি না। আমরা মনে করি সরকার চাপের মুখে আছে। এই কারণে বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে চাইছে। আমাদের উপর চাপ বাড়িয়ে নিজেদের ক্ষমতায় থাকার দেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে চাইছে।
রিজভী বলেন, সরকার তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য যে কোন ঘটনা ঘটলেই আমাদের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। এই ভাবে তো দায় চাপাতে পারবে না। কারণ বিএনপি এই সব করে না। প্রকৃত অপরাধী কারা সরকার সেটা বের করছে না। যথাযথ চেষ্টাও করছে না। উল্টো ঘটনা ঘটলেই বলে বিএনপি জামাত করেছে। প্রকৃত অপরাধীদের ধরার চেষ্টা না করে যখন বলে বিএনপি করেছে, তখন নানা সন্দেহ দেখা দেয়। তখন সন্দেহের তীর সরকারের দিকেই যায়। এই জন্য আমরা মনে করছি, যত ঘটনা ঘটছে তার সবই সরকার করছে। তারা ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। বিএনপিকে বির্তকিত করার জন্য এটা সরকারের একটি ষড়যন্ত্র। কিন্তু জনগণ জানে বিএনপি এই সব করে না। এ জন্য সরকারের কথা কেউ বিশ্বাস করে না। যদি করতো তাহলে সরকারের এত টেনশন কেন? টেনশন আছে বলেই সরকার বিএনপিকে দমন করতে ও নিজেদের ক্ষমতায় থাকা প্রলম্বিত করতে কত রকম চেষ্টাই না করছে!রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। সত্য ঘটনাও আড়ালে থাকবে না। সবই বের হয়ে আসবে।প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। অথচ এই ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। ওখানে মামলা হয়েছে অন্য আর একটি বিষয় নিয়ে। কিন্তু প্রচার হচ্ছে ভিন্নটা। বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমানকে এই ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। আবার মাহমুদুর রহমান নাকি জেলে থেকেই এই ব্যাপারে ষড়যন্ত্র করেছেন। বিষয়গুলো আসলে কেমন হচ্ছে না? হাস্যকর না!রিজভী বলেন, জয়ের ব্যাপারে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারেক রহমানকে নিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কত কথা বলেছেন। বলেছেন, তিনি নাকি মালয়েশিয়াতে ফ্যাক্টরি করছেন। আরো কত টাকার কথা, কোথায় কোথায় আছে তার মনগড়া হিসাবও দিয়েছেন। কিন্তু তিনিতো সাত বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় রয়েছেন। তাহলে তিনি এতদিনেও সেটা বের করতে পারলেন না কেন। আসলে এগুলো ছিল প্রপাগান্ডা। তা না হলে প্রমাণ দিক। সেটা পারবে না। ওই সময়ে বিএনপি এর জবাব দিয়েছে ভদ্রোচিতভাবে। কিন্তু এখনকার সরকার সমালোচনার জবাব দিতেও যে সাংস্কৃিতক আচরণ দরকার তা জানে না। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী পুত্র যেভাবে কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনকে উদ্দেশ করে, তার কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ মেনে নেয়া যায় না। তার বাবা আর আমি একই কলেজের ছাত্র ছিলাম। তারা বাবা খুব ভাল ও মেধাবী ছাত্র ছিলেন। মানুষও ছিলেন ভাল। বিনয়ী। কিন্তু জয় তার বাবার আচরণ পাননি। যদি পেতেন তাহলে এইভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের কথার জবাব দিতে পারতেন না। উল্টো তিনি প্রমাণ দিতেন যে তিনি ৩০০ মিলিয়ন ডলার নেননি। তার নামে কত সম্পত্তি কোথায় আছে সেটাও বলতেন। কিন্তু সেটা না করে তিনি এমনভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন তাতে বোঝা যায় ঘটনার সত্যতা আছে।তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে উদ্দেশ্য করে জয় যে কথা বলেছেন সেই কথার কোন সত্যতা নেই। বরং তা শতভাগ মিথ্যে।এদিকে বিএনপির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির কমিটি গঠন করা ও নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও সরকার ও সরকারের একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের অফিসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নামে মিথ্যে প্রচারণা চালাচ্ছে। এটাও বিএনপিকে দমানোর জন্য। যদি তাই না হবে তাহলে কাউন্সিল হওয়ার ৩/৪ দিন পর থেকেই এই সব কথা কেন বলা হবে।তিনি বলেন, বিএনপিকে এই সব করে সরকার দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠেই এগিয়ে যাবো।