Saturday 10th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করতে পারবে ভারত***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

হেফাজতের আজ স্মরণীয় ৫ মে

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৫.০৫.২০১৬

অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ ও শাপলা চত্বরে অবস্থানের ওপর আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের তৃতীয় বর্ষপূর্তি আজ।

হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে ঢাকা অবরোধ শেষে লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ শাপলা চত্বরে অবস্থান নিলে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী সেখানে যৌথ অভিযান চালিয়ে সকালের আলো ফোটার আগেই পুরো এলাকা জনশূন্য করে। সেই অভিযানে বহু লোক হতাহত হওয়ার দাবি করে হেফাজত। তবে আইনশৃৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের পক্ষ থেকে অভিযানে কেউ মারা যায়নি বলে দাবি করা হয়। পরদিন ৬ মে সকালেও নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হয়।
দিনটিকে সামনে রেখে সারা দেশে দোয়ার কর্মসূচি দিয়েছে সংগঠনটি। হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মইন উদ্দিন রুহী এই তথ্য জানান। তিনি জানিয়েছেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম শহর, হাটহাজারসহ সারা দেশে দোয়ার কর্মসূচি পালিত হবে। ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম সদস্যসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী জানিয়েছেন, আজ বেলা সাড়ে ১২টায় বারিধারর অস্থায়ী কার্যালয়ে হেফাজত ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আলোচনা ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন, কুরআন ও মহানবী সা:-এর অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করে আইন পাস, মহানবী সা:-এর প্রতি অবমাননাকারী নাস্তিক-মুরতাদদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি, নারী ও শিক্ষানীতি সংশোধনসহ ১৩ দফা দাবির ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই হেফাজতে ইসলাম সর্বশেষ ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছিল। সেই কর্মসূচি পালনকালে রাতে হেফাজত নেতাকর্মীদের ওপর সাড়াশি অভিযানের ঘটনা ঘটে। মূলত সেটিই ছিল হেফাজতের সর্বশেষ বড় কোনো কর্মসূচি। ঘটনায় বহু লোক হতাহত হয় বলে হেফাজতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি দাবি করে। পরে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার ৬১ জন নিহত হওয়ার কথা প্রকাশ করলে সংগঠনটির সম্পাদক আদিলুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। অবশ্য পরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি তাদের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনে ৫ মে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৩৯ জন নিহত হওয়ার কথা জানায়। হেফাজত ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি অব্যাহত রাখা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত দেশ বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ও ঘটনা তদন্তে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি।
২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ’৭১ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন রায়কে কেন্দ্র করে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হয়। পরে ওই মঞ্চে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে রাজিব নামে একজন ব্লগার সন্ত্রাসী আক্রমণে খুন হলে ব্লগে তার ইসলাম ও মহানবী সা:কে কটূক্তি করে লেখার বিষয়টি প্রকাশিত হয়। একইভাবে গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সম্পৃক্ত আরো কয়েকজন ব্লগারের ইসলামবিদ্বেষী লেখার বিষয়েও খবর প্রকাশিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে ইসলামি দল ও সংগঠনগুলো নাস্তিক ব্লগারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। এরই এক পর্যায়ে বেফাকের সভাপতি ও হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শফীর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম ৯ মার্চ হাটহাজারীতে উলামা সম্মেলন করে ১৩ দফা আন্দোলনের সূচনা করেন। ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ শেষে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশ থেকেই ৫ মে ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি দেয়া হয়। নানা বাধা প্রতিবন্ধকতার পরও হেফাজত ঢাকা অবরোধ করে। অবরোধ শেষে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার জন্য সমবেত হতে থাকে। এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, বায়তুল মোকাররম ও পল্টন এলাকায় সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও পুলিশের সাথে হেফাজত কর্মীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। অন্য দিকে শাপলা চত্বরে সমাবেশ চলতে থাকে। সন্ধ্যার আগেই বেশ কয়েকজন হেফাজত কর্মী মারা যায়। সন্ধ্যায় হেফাজত শাপলা চত্বরে অবস্থানের ঘোষণা দিলে আরো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে রাতে আইন শৃৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে কমান্ডো স্টাইলে শাপলা চত্বরে অভিযান চালায়। ভোর হওয়ার আগেই শাপলা চত্তর জনশূন্য হয়ে পড়ে। রাস্তায় পড়ে থাকে ধ্বংসস্তূপ। ঘটনার সাথে সাথেই রাতের আধারে লাশ সরিয়ে ফেলার গুজব ওঠে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও ব্যাপক হতাহতের আভাস দেয়া হয়। পত্রপত্রিকায় আহত নিহত ও ধবংস স্তুপের ছবিও প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনা ও অভিযানের বিভিন্ন ভিডিও কিপ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরদিন সকালে নারায়ণগঞ্জ, হাটহাজারীসহ আরো কয়েকটি স্থানে সংঘর্ষে আরো বেশ কয়েকজন নিহত হয়। এরপর সরকার হেফাজতের প্রতি কঠোর নীতি অবলম্বন করতে থাকে। ওই বছর ৬ মে সকালে হেফাজতের আমির আল্লামা শফীকে বিমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পাঠিয়ে দেয়া হয়। সন্ধ্যায় হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনয়েদ বাবুনগরীকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনায় সারা দেশে হেফাজতে নেতাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়। মূলত এর পর থেকে হেফাজত এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে বড় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। অবশ্য কারাবন্দী নেতারা অনেক আগেই মুক্তি পেয়েছেন। নেতাদের অনেকে প্রথম দিকে আত্মগোপনে থাকলেও এখন প্রায় সবাই প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন।