Print
বিভাগঃ রাজনীতি

চোরের মন পুলিশ পুলিশ, খালেদা প্রসঙ্গে হাসিনা

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৬.০৫.২০১৬

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আদালতে খালেদা জিয়ার হাজিরা না দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,

আত্মবিশ্বাস নাই বলেই বিএনপি নেত্রী মামলা মোকাবেলা করতে ভয় পান।

বৃহস্পতিবার (০৫ মে) রাতে জাতীয় সংসদে দশম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন সংসদ নেতা।

তিনি বলেন, আমার নামেও মামলা হয়েছিল, আমি তখন বিদেশে ছিলাম। আমি বলেছিলাম আমি মামলা মোকাবেলা করবো। তারপরে আমাকে দেশে আসাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হল, জীবনের হুমকি দেওয়া হল। আমি কিন্তু ফিরে এসেছি, সৎ সাহস ছিল বলেই মামলা মোকাবেলা করতে পেরেছি। আজ আমার প্রশ্ন মামলা চলে কোর্টে বিএনপি নেত্রী বিএনপি নেত্রী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে বক্তৃতা করতে পারেন, সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন, কিন্তু আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় অসুস্থ থাকেন।

চোরের মন পুলিশ পুলিশ। আসলে উনার আত্মবিশ্বাস নাই বলেই মামলা মোকাবেলা করতে ভয় পান, আদালতে যান না, বলেন শেখ হাসিনা।

খালেদা জিয়ার দুই ছেলের দুর্নীতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রীর দুই ছেলেই দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। তাদের মানিলন্ডারিং সিঙ্গাপুরের আদালতে প্রমাণিত।

ঠাট্টাচ্ছলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বললে বলবে ‘আমরা কইছি’। আমরা বলবো না সিঙ্গাপুর আদালত সেখানেই প্রমাণ হয়েছে।

তিনি বলেন, মানিলন্ডারিং এর যে ঘটনা নিয়ে এফবিআই’র লোক এসেছে এখানে স্বাক্ষী দিয়ে গেছে।

বিএনপি নেত্রীর বড় ছেলে তারেক রহমানকে তার দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এক তারবার্তায় সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়েছে উল্লেখ করে ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর এক তারবার্তা পাঠানো হয়েছিল, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে কিভাবে দুর্নীতি করা হয়েছে, সেখানে কিভাবে তার ছেলে ঘুষ দুর্নীতি সাথে সম্পৃক্ত ছিল, বলেন প্রধানমন্ত্রী।  
তিনি আরও বলেন, মার্কিন দূতাবাসের তার বার্তায় বিএনপি নেত্রীর বড় ছেলে স্থানীয় কোম্পানীর কাছ থেকে চাঁদাবাজি দুর্নীতি ঘুষ নিয়েছে সে তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। সিমেন্স, হারবিন কোম্পানিসহ বহু বহুজাতিক কোম্পানি  অর্থ নিয়েছে ঘুষ নিয়েছে সেগুলো প্রমাণিত। সিমেন্সের কাছ থেকে যে ঘুষ নিয়েছে সেটা ফেডারেল আদালতেই প্রমাণিত। সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে বিএনপি নেত্রীর ছেলের বন্ধুর নামে টাকা জমা হয়েছে। সেটা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। এছাড়া একটা হত্যা মামলার শত কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছে, তাদেরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২১ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছে।

শেখ হাসিনা যোগ করেন, আজ বিশ্বসেরা অর্থ পাচার কারীদর তালিকায় তার ছেলেদের নাম উঠে আসে। জাতিসংঘের মাদক অপরাধ বিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসি এবং বিশ্বব্যাংকের সমন্মিত উদ্যেগ ‘স্টলেন এ্যাসেট রিকভারি ইনিসিয়েটিভের প্রস্তুত করা একটি পুস্তিকায় সিমেন্স কোম্পানীর কাছ থেকে খালেদা জিয়ার ছেলে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগকে জাতীয় মুদ্রা সরানোর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২০১০ সালে ১৬ সেই পুস্তিকার ১৭৯ পৃষ্টা বলা হয় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পুত্রের ঘুষ হিসেবে বিদেশি একটি কোম্পানীর দেওয়া অর্থ ২০০৯ সালে বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
শেখ হাসিনা বলেন, এই মাটিতে কোন জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদের স্থান নেই, অনেকেই চেষ্টা করবে জঙ্গি আছে বলে এই দেশটাকে নিয়ে খেলা করার। কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে কাউকে এই দেশ নিয়ে খেলতে দিবো না। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা জেলাসহ সকলে যে যেখানে আছেন সজাগ থাকতে হবে। কারো ছেলে-মেয়ে যেন এই ধরনের সন্ত্রাসি তৎপরতার সাথে যুক্ত হতে না পারে। ইমাম, শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানাই জঙ্গিবাদ সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করবেন।

মানুষ হত্যা করে কেউ কোন দিন বেহেস্তে যেতে পারবে না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন আমি বেচে থাকতে কাউকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে  দিবো না।

সকলকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের কাছে ওয়াদা করে ছিলাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব। আমরা তা করছি। রায় হচ্ছে, তা কার্যকর হচ্ছে। বাংলাদেশ অভিশাপ মুক্ত হচ্ছে।

মিথ্যাকে আমি কখনো মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, অন্যায় করলে তার বিচার হবে, আমিতো কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। নিজ দলের সংসদ সদস্য হলেও আমি কিন্তু ছাড় দিচ্ছি না, কারণ অন্যায়কে কখনো প্রশ্রয় দেওয়া যায় না, ছাড় দেয়া যায় না। সেটা কারো জন্য ভাল না, দেশের জন্য মঙ্গল আসবে না।

এই দেশ এগিয়ে যাক আরো উন্নতি হোক, এই প্রত্যাশায় বক্তব্য শেষ করেন শেখ হাসিনা।