Saturday 10th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***বিপিএল টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট চতুর্থ আসরের ফাইনালে আজ শুক্রবার মুখোমুখি হবে ঢাকা ডায়নামাইটস ও রাজশাহী কিংস***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

আমাকে হত্যা চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এখন ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করছে : প্রধানমন্ত্রী

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৬.০৫.২০১৬

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্রেনেড হামলা করে, বোমা পুঁতে নানাভাবে আমাকে হত্যার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে

এখন তারা আমার ছেলে জয়কে হত্যার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এফবিআই অফিসারকে ঘুষ দিয়ে কিনতে পারে এই পরিমাণ অর্থ বিএনপি নেতাদের কাছে আছে। এটা আমেরিকায়ই ধরা পড়েছে। আমেরিকার সরকারই মামলা করেছে, সেখানে বিএনপি নেতার নামও এসেছে ও সাজাও হয়েছে। সেখানেই বেরিয়েছে জয়কে তারা হত্যা করে ফেলবে। সংসদের দশম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে গত রাতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। অধিবেশনটি গত ২৪ এপ্রিল শুরু হয়ে গতকাল পর্যন্ত ৯ কার্য দিবস চলে। এ সময়ে ১৪টি বিল পাস হয়।
পৌনে এক ঘণ্টার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের বাংলাদেশের এই মাটিতে কোনো জঙ্গির সন্ত্রাসের স্থান হবে না। অনেকে জঙ্গিবাদ আছে দেখিয়ে আমাদের দেশটাকে নিয়ে খেলা করার চেষ্টা করবেÑ সেই খেলা আমি বেঁচে থাকতে অন্তত হতে দেবো না। বাংলাদেশের মানুষের দায়িত্ব আমাদের। তাদের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য যতটুকু করার দরকার আমরা তা করছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি জামায়াত যখন ক্ষমতায় ছিল দেশটা কি ছিল। জঙ্গি সন্ত্রাসীদের দেশ, অর্থপাচারকারীদের দেশ ছিল। তারা ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা মানে ছিল অত্যাচার। সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে ২০১৩, ১৪, ২০১৫ সালে কিভাবে মানুষকে হত্যা করেছে। মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। অবৈধ পথে তারা অর্থ বানিয়েছে পাচার করেছে। আমেরিকার কোর্টে সেই তথ্য এসেছে। খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করেছে। শত শত কোটি টাকা লুটপাট করেছে। বাংলাদেশ তখন দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ, মামলার বিষয় উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ হচ্ছে উন্নয়নের রোল মডেল।
প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন ও তার ছেলের কথা উল্লেখ করে বলেন, এভাবে তারা কত টাকা পাচার করেছে, বিদেশে রেখেছে। এফবিআই অফিসারকে কিনে ফেলেছে। এফবিআই অফিসারকে ঘুষ দিয়ে কিনতে পারে এই পরিমাণ অর্থ বিএনপি নেতাদের কাছে আছে। এটা আমেরিকাতেই ধরা পড়েছে। আমেরিকার সরকারই মামলা করেছে, এফবিআই মামলা করেছে সেখানে বিএনপি নেতর নামও এসেছে এবং সাজাও হয়েছে। সেখানেই বেরিয়েছে জয়কে তারা অপহরণ করবে, জয়কে অফ করে দেবে। অর্থাৎ তাকে হত্যা করে ফেলবে, জীবন থেকে সরিয়ে দেবে। এ ধরনের তথ্য মামলা থেকে বেরিয়ে এসেছে। ওই মামলা চলাকালে শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমান বিএনপি নেত্রীর দুই উপদেষ্টার নাম বেরিয়ে এসেছে। এটা আমেরিকার দেয়াই তথ্য। এই ষড়যন্ত্রের সাথে তারা জড়িত। বিএনপির নেতা সাজাপ্রাপ্ত। আমেরিকার কোর্টে সাজা পেয়েছে। এটাই বাস্তব সত্য। অথচ কয়েক দিন আগে বিএনপি নেত্রী জয় সম্পর্কে যে একটা অসত্য তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চাইলো। জয় সেটা চ্যালেঞ্জ করেছে। আমি আশা করি তিনি সেটার জবাব দেবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানাতে চাই, আমরা ছেলেকে শিক্ষা দিয়েছি। তাকে শিক্ষিত করেছি। চোর চোট্টা বানাইনি। ডিজিটাল বাংলাদেশ যেটা সেটা জয়ের কাজ থেকেই শেখা। দেশের মানুষের জন্য কাজ করছে, বিনিময়ে কিছুই চায়নি। নিজেরটা নিজেই করে খাচ্ছে। তারপর কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ তার বিরুদ্ধে কথা। আমাকে গ্রেনেড, বোমা পুঁতে হত্যার চেষ্টা করে নানাভাবে হত্যার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এখন আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করছে। সেই ষড়যন্ত্রে তারা লিপ্ত। এটাই হচ্ছে তাদের চরিত্র। এই হত্যা খুন করা এটাই তাদের পেশা। কিসের জন্য, কোন স্বার্থে? আমরা কি অপরাধ করেছি? আমার বাবা মা আমার ভাইদের হত্যা করেছে। আর সেই খুনিদের বিচার না করে পুরস্কৃত করেছে। খুনিদের প্রশ্রয় দিয়েছে। তাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা, এমপি বানানোসহ নানাভাবে প্রশ্রয় দিয়েছে। আল্লাহর শুকরিয়া যে, আমরা ক্ষমতায় এসে বিচার করতে পেরেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানকে হত্যা করে বেহেশতে যেতে পারবে না। তাকে দোজখে যেতে হবে। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।তিনি বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধী ছিল, পাক হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল ও যাদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিল তাকে হত্যা করে বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল। জিয়াউর রহমান আইন করে খুনিদের বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল। ক্ষমতায় এসে আমরা বিচার করছি। রায় কার্যকর করছি। বাংলাদেশকে অভিশাপমুক্ত করছি।
তিনি বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা দেয়া প্রসঙ্গে বলেন, আমার প্রশ্ন, মামলা চলে কোর্টে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বক্তব্য দিতে পারেন কোর্টে যেতে পারেন না কেন। চোরের মন পুলিশ পুলিশ। তিনি মামলা মোকাবেলায় ভয় পান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাংলাদেশের এই মাটিতে কোনো জঙ্গির সন্ত্রাসের স্থান হবে না। অনেকে চেষ্টা করবেন জঙ্গিবাদ আছে দেখিয়ে আমাদের দেশটাকে নিয়ে খেলা করাÑ সেই খেলা আমি বেঁচে থাকতে অন্তত হতে দেবো না। বাংলাদেশের মানুষের দায়িত্ব আমাদের। তাদের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য যতটুকু করার দরকার আমরা তা করছি। সে ক্ষেত্রে আমি দেশবাসীর সহযোগিতা চাই। দেশবাসী এভাবে সহযোগিতা করবেন আশপাশে যারা আছে তাদের কেউ জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত কি না তারা বোমা বানাচ্ছে কি না, তাদের চালচলন চলাফেরার মধ্যে সন্দেহজনক কিছু থাকলে আমি তাদের ব্যাপারে পুলিশকে খবর দিতে, আমাদেরকে তথ্য দিতে বলবো। আমরা দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাই। আজকে দেশে যদি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকে দেশের দ্রুত উন্নতি হতে পারে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করব ইনশাআল্লাহ।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে জনগণের কল্যাণের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য। আমরা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। বাজেট ৫ ভাগ বৃদ্ধি, রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগ অর্জনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। ইতোমধ্যেই আমরা বেতন-ভাতা বাড়িয়েছি। আমরা প্রায় ১২৩ ভাগ বেতন বাড়িয়েছি। এত বেতন পৃথিবীর কেউ বৃদ্ধি করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী দারিদ্র্য হার কমিয়ে আনা, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন।