Print
বিভাগঃ রাজনীতি

সিদ্ধান্তহীন বিএনপি

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১২.০৫.২০১৬

খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে একের পর এক জাতীয় স্থায়ী কমিটির রূদ্ধদ্বার বৈঠক হলেও কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না বিএনপি।

পাশাপাশি দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও অন্ধকারে রয়েছেন নেতাকর্মীরা। সর্বশেষ সোমবার (৯ মে) রাতে দুই ঘণ্টার বৈঠক থেকেও দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট কোনও নির্দেশনা আসেনি। এ নিয়ে দলের সিনিয়র দায়িত্বশীলদের পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির একাধিক নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানান, চলতি বছরে স্থায়ী কমিটির বৈঠকগুলোয় দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম, কমিটি গঠনের অগ্রগতি, চলতি ইস্যুভিত্তিক দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সক্রিয় ও শক্ত অবস্থান কাজ করছে না। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হলেও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না।
সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা জানান, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী হাই কোর্টে অবৈধ ঘোষণা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অবস্থা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রোজার আগে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, নেতাদের নামে দায়ের মামলা এবং দলের সাংগঠনিক কার্য্ক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র এক নেতা নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি তো একজন সিনিয়র দায়িত্বশীল। আমার মতো আরও অনেকে রয়েছেন। তো আমরাই জানি না সিদ্ধান্ত কী হবে। আলোচনা তো হচ্ছে। একের পর এক বৈঠকে হচ্ছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত আসছে না। নেতাকর্মীরা কেবল অপেক্ষাই করছেন।বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তো সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। মে দিবসের সমাবেশ গেল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সেখানে কোনও নির্দেশনাই এলো না। তাহলে কী হলো। জনগণ কী ভাবছে।এদিকে, গত ৩০ মার্চ মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মিজানুর রহমান সিনহার নাম ঘোষণা করা হয়। পরে দুই দফায় যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৪০টি পদে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে বিএনপি।

দলের সিনিয়র এক নেতার প্রশ্ন, নেতা যদি নাই-ই ঘোষণা হয়, তাহলে কিভাবে বোঝা যাবে কে ভালো কে মন্দ। এই নেতার মন্তব্য, বিএনপির সব ব্যর্থতার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সিদ্ধান্তহীনতা। এই সিদ্ধান্ত না থাকার যে নেতিবাচক দিক, সেটিই কাহিল করে দিয়েছে সংগঠনকে।নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ ও হবিগঞ্জের কয়েকজন নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে তারা স্বনামে বক্তব্য দিতে নারাজি প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এ ব্যাপারে খালেদা জিয়ার ওপর সবকিছু নির্ভরশীল। তবে তারা জানান, রাজনৈতিক কর্মসূচির করতে হলে সবার আগে দরকার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা।ছাত্রদলের এক সহ-সভাপতি বলেন, ইস্যু আসছে, ইস্যু যাচ্ছে। মানুষ অপেক্ষা করছে বিএনপির অবস্থান কী? আমরা সেই অবস্থান জানাতে ব্যর্থ হচ্ছি দিনের পর দিন।বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, সিদ্ধান্তহীনতা নয়, নেত্রী সবার কথা শুনেছেন। এখন তিনি সিদ্ধান্ত দেবেন। কমিটি গঠনে বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, যে কটি পদ ঘোষিত হয়েছে, সেগুলো নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে বলেই নেত্রী একটু সময় নিচ্ছেন।সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন দাবি করেছেন, নেত্রী স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করেন। সবার মন্তব্য শোনেন। এরপর ক্লোজডোর বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেন। সেক্ষেত্রে একটু সময় লাগে।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় স্থায়ী কমিটির বৈঠক চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুরু হয়। টানা দুই ঘণ্টার বৈঠক সাড়ে ১১টায় শেষ হয়। খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. অব. মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের কোনও ব্রিফিং করেননি।তিনি বলেছেন, ‘পরে জানানো হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মঙ্গলবার দুপুরে স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. অব. মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সোমবারের বৈঠকে ডিসকাশন হয়েছে অনেক। তবে সিদ্ধান্তও হয়েছে। আমরা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করব। যা কিছুই হোক না কেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে থাকব।

রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত কী—এমন প্রশ্নে সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুব বলেন, একটু সময় লাগবে। কমিটি গঠন প্রক্রিয়া তো শেষ হয়নি। কমিটি হলেই রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।যোগাযোগ করলে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ব্যস্ত আছেন বলে জানান।উল্লেখ্য, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ১৯ জন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের পর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ১৩ সদস্যের স্থায়ী কমিটিকে ১৯ সদস্যে উন্নীত করা হয়। ওই ১৯ জনের মধ্যে তিনজন হলেন ড. আর এ গনি, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মারা গেছেন। জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আট বছর ধরে আছেন যুক্তরাজ্যে। গত ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিলের পর নতুন স্থায়ী কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদ ও নির্বাহী কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক কার্য্ক্রম চলার কথা। তবে ষষ্ঠ কাউন্সিল হওয়ার ৪৮ দিন পরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি বিএনপি।