Print
বিভাগঃ রাজনীতি

পুলিশ আসলাম চৌধুরীর ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৬.০৫.২০১৬

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আটক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এম আসলাম চৌধুরীর ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, আজ সোমবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে।
সরকারি দলের নেতারা কয়েকদিন ধরে অভিযোগ করছেন, আসলাম চৌধুরী ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছেন। গতকাল রোববার রাজধানীর খিলক্ষেত থানা এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর ব্যক্তিগত কর্মী মো. আসাদ ও গাড়িচালক আল আমিনকেও আটক করে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছিল, সম্প্রতি ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে নয়াদিল্লিতে একাধিক বৈঠক করেন আসলাম চৌধুরী। ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের সরকার উৎখাত করাই ছিল এসব বৈঠকের উদ্দেশ্য। গলায় ফুলের মালা পরা অবস্থায় সাফাদি ও আসলাম চৌধুরীর একত্রে ছবি প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। এ ছাড়া একটি রেস্তোরাঁর এক টেবিলে এই দুজনের বসে কথা বলার ছবিও প্রকাশিত হয়েছে। ছবিগুলোর উৎস মেন্দি এন সাফাদির ব্যক্তিগত ফেসবুক পাতা ‘মেন্দি এন সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস’। ওই পাতায় মেন্দি নিজেই ছবিগুলো প্রকাশ করেন।

গণমাধ্যমে এসব বৈঠকের ছবি ও খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতারা এটাকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিএনপির সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেন।গত শুক্রবার আসলাম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি গত মার্চে ব্যক্তিগত সফরে ভারতে গেলে অন্য একজনের মাধ্যমে সাফাদির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁরা বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় একসঙ্গে ঘুরেছেন, খাওয়াদাওয়া করেছেন, কিন্তু কোনো বৈঠক করেননি। এ ছাড়া গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রশ্নই উঠতে পারে না।এ রকম বিতর্কের মধ্যেই গতকাল সকালে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আসলাম চৌধুরীকে দেখামাত্রই গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কহীন একটি দেশের (ইসরায়েলের) রাজনীতিকের সঙ্গে বিএনপি নেতার বৈঠকের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। আর কারা এ বিষয়ে জড়িত, তাঁদের খুঁজে বের করতে কাজ করছেন গোয়েন্দা সদস্যরা।