Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Premier Bank Ltd

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ২১.০১.২০১৮

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বিভিন্ন উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই দলের ভেতরে-বাইরে

সমালোচনার ঝড় বইছে। কমিটিতে অনেক বিতর্কিত ব্যক্তির নাম আসায় দলের শীর্ষ নেতারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। এ নিয়ে মুখ খুলছেন না কেন্দ্রীয় নেতারাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া বিভিন্ন উপ-কমিটির নামের তালিকাকে খসড়া বলে দাবি করেছেন কেউ কেউ। তবে খসড়া সেই তালিকায় দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপের স্বাক্ষর রয়েছে। দলীয় অনুমোদনের আগে অনেকেই নিজেদের অনুসারীদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেগুলো প্রকা্শ করছেন কেউ কেউ।


এ বিষয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সাথে। তিনি বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কিছু না বলে কেবল বলেন, উপ-কমিটির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এটি কাদের ভাই (আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক) জানেন। এ বিষয়ে কিছু বলার থাকলে তিনিই বলবেন।


তবে এরপরও উপ-কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক সাবেক ছাত্রনেতা। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রকাশিত উপ-কমিটির সদস্যদের নামের তালিকায় ত্যাগী কর্মীদের একটা বড় অংশ উপেক্ষিত হয়েছে। তার পরিবর্তে বসন্তের কোকিলদের অগমন ঘটেছে।


জানা গেছে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংকটকালে অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর ঠাঁই হয়নি এই উপ-কমিটিতে, বরং লবিং-তদবিরে এগিয়ে থাকা ব্যক্তিদের একটা বড় অংশই পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। একইভাবে বাদের খাতায় নাম উঠেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের একটা বড় অংশের। আর এ বঞ্চনার ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, নিজ অনুসারীদের উপ-কমিটিতে স্থান দিতেই তিনি অতি গোপনে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন। এখন সেটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন ওই নেতা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি বলেন, ‘আমি এখন ঢাকার বাইরে আছি। ঢাকায় ফিরে এ বিষয়ে কথা বলবো।’


এদিকে অভিযোগে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হয়েছেন আনোয়ার হোসেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তৎকালীন বিএনপি সরকারের এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়ার ঘনিষ্টজন। আনোয়ারের পরিবারও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। তার বড় ভাই লক্ষীপুরের একটি আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। তার বাবা সাখাওয়াতুল্লাহ এলাকার চিহ্নিত রাজাকার।

একই অভিযোগ সঙ্গীতশিল্পী এস ডি রুবেলের বিরুদ্ধে। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ছাত্রদলের ঢাকা কলেজ শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদকও ছিলেন।

২০০৬ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের ওপর হামলাকারী ফয়সাল আহমেদ রিয়াদও এখন আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক। তাকে দফতর উপ-কমিটিতে সহ-সম্পাদক করা হয়েছে। ছাত্রলীগ যখন ক্যাম্পাসে অবস্থান নিতে চায়, তখন ছাত্রদলের সঙ্গে তা ফয়সালা করেন রিয়াদ।

আওযামী লীগের কৃষি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হয়েছেন আনোয়ারুল কবির্। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায়। বাবা ও চাচারা সবাই রাজাকার ও মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারুল কবিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে তার বিরূদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ওই এলাকার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মুকুল বলেন, আমার জানামতে পারিবারিকভাবে তারা আওয়ামী মতাদর্শের নয়। আনোয়ারুল কবিরের পরিবার মুক্তিযুদ্ধের সময় মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার সন্ধ্যায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সামনে বিক্ষোভ করেন পদবঞ্চিতরা

পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ

এদিকে উপ-কমিটি নিয়ে বিক্ষোভ করছে পদবঞ্চিতরা। ২০ জানুয়ারী সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সামনে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে তিনি সেখান থেকে বের হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ির সামনে অবস্থান নেন।