Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Star Cure

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ২৪.০৭.২০১৯

 

অসত্য তথ্য প্রদান ও পাওনা পরিশোধ না করার কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক

এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সদস্য ছয় সিকিউরিটিজ হাউজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর মধ্যে কমিশনকে অসত্য তথ্য প্রদান ও পাওনা পরিশোধ না করার দায়ে এম সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের নিবন্ধন সনদ বাতিল কিংবা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) পাওনা পরিশোধ না করায় উপরোক্ত দুই ব্রোকারেজসহ লোটাস শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড, বাঙ্কো সিকিউরিটিজ লিমিটেড, সিনহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও সাদ সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে এনফোর্সমেন্ট বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৬৯৪তম কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুসারে ডিএসইর ট্রেকহোল্ডার এম সিকিউরিটিজের ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের সমন্বিত হিসাবে ৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকারও বেশি ঘাটতি রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এম সিকিউরিটিজকে চলতি বছরের ১৪ মের মধ্যে এ ঘাটতি সমন্বয়ের নির্দেশ দেয়। কমিশন কর্তৃক দুই দফা সময় বৃদ্ধির আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর সিকিউরিটিজটি চিঠির মাধ্যমে জানায় যে তারা ২৭ জুনের মধ্যে সব ঘাটতি সমন্বয় করেছে। তবে কমিশনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসই বিষয়টি পরীক্ষা করে কমিশনকে জানায় যে এখনো এম সিকিউরিটিজের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ৯৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ঘাটতি  রয়েছে। কমিশনের নির্দেশনা অমান্যের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি অসত্য তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে। এর আগেও আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়। কিন্তু তার পরও এম সিকিউরিটিজ বারবার সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করছে, যা গ্রাহকদের সম্পত্তি রক্ষার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ জন্য কমিশন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার-স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা ২০০০-এর বিধি ১২ অনুসারে এম সিকিউরিটিজের নিবন্ধন সনদ বাতিল কিংবা স্থগিতের ব্যবস্থা নিতে এনফোর্সমেন্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে।

সিএসইর পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুসারে এক্সচেঞ্জটির ট্রেকহোল্ডার ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সিলেটে বিশ্বনাথ শাখায় গ্রাহক হিসেবে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকারও বেশি। বিভিন্ন সময়ে সিএসই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখনো প্রতিষ্ঠানটির কাছে গ্রাহকের মোট পাওনার ২৯ দশমিক ১৫ শতাংশ অর্থ অপরিশোধিত রয়েছে। সিএসইর পর্ষদ এ পাওনা পরিশোধের জন্য এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে। গতকাল কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে সিএসইর কাছ থেকে ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজের প্রাপ্য লভ্যাংশ ও ফ্রি লিমিট সুবিধা এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এ সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের সব পাওনা পরিশোধ না করলে সিকিউরিটিজ আইনানুসারে এর নিবন্ধন সনদ বাতিল কিংবা স্থগিতের জন্য ব্যবস্থা নিতে এনফোর্সমেন্ট বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সিডিবিএলের প্রতিবেদন অনুসারে ডিএসই ও সিএসই ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারী এম সিকিউরিটিজ ৪৬ লাখ ৬৫ হাজার, লোটাস শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ ২৯ লাখ, বাঙ্কো সিকিউরিটিজ ৪০ লাখ ৩৪ হাজার ও ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজ লিমিটেড ৩০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা সিডিবিএলকে পরিশোধ করছে না। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠান চারটির কাছে সিডিবিএলের পাওনা ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকারও বেশি। তাছাড়া তিন বছরের বার্ষিক ফি বাবদ সিনহা সিকিউরিটিজের কাছে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ও সাদ সিকিউরিটিজের কাছে ৬৩ লাখ ৯১ হাজার টাকাসহ মোট ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে সিডিবিএলের। প্রতিষ্ঠানগুলোকে টাকা পরিশোধের জন্য এর আগে কমিশন থেকে চিঠি দেয়া হলেও তারা টাকা পরিশোধ করেনি। এর ফলে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি বিএসইসি ও সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারণে এই ছয় ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টের (ডিপি) বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এনফোর্সমেন্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

এদিকে ডিএসই কর্তৃক কমিশনের কাছে দাখিল করা ট্রেকহোল্ডারদের নেট ক্যাপিটাল ব্যালান্স পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিনহা সিকিউরিটিজ, মো. ফখরুল ইসলাম সিকিউরিটিজ, এএনএফ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ এ বছরের জুনের প্রতিবেদন স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে জমা দেয়নি। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে। আর এ আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ডিএসই কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে।