Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Premier Bank Ltd

চলে গেলেন মাগুরার মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী আকবর হোসেন মিয়া

বিডিনিউজডেস্ক.কম   
তারিখ:০২.০৫.২০১৫   

আরো একজন কিংবদন্তি মুক্তি যোদ্ধা হারালো মাগুরা শ্রীপুরসহ সমস্ত বাঙালি।মুক্তি যুদ্ধের এই বীর সেনা সবাইকে শোকাতুর করে চলে গেলেন। শ্রীপুরে এখন শোকে ছায়া। এমন একজন কিংবদন্তিকে হারিয়ে এলাকায় এখন শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

 

মুক্তিযুদ্ধে মাগুরার শ্রীপুর বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার আকবর হোসেন মিয়া শনিবার সকালে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি তিন ছেলে, ছয় মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক এবং সমবেদনা প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতি মন্ত্রি এ্যাড:ড: শ্রী বীরেন শিকদার। এক বিবৃতিতে প্রতি মন্ত্রি বলেন আকবর হোসেন মিয়ার মৃত্যুতে আওয়ামীলীগ একজন প্রবিন এবং তুখোড় নেতাকে হারালো।তিনি বলেন ত্যাগি এই মুক্তি যোদ্ধাকে মাগুরাবাসী আজিবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করবে।

আগামীকাল বেলা ১১ ঘটিকার সময় মাগুরার শ্রীপুরের খামারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে মরহুম আকবর হোসেন মিয়ার নামাযে জানাযা। নামাজে জানাজা শেষে তার মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মাননা জানানোর পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

আকবর হোসেন মিয়া

মহান মুক্তিযুদ্ধের এ বীর সেনার জন্ম ১৯২৭ সালে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার টুপিপাড়া গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়ায় তার বাহিনী 'শ্রীপুর বাহিনী' হিসেবে পেয়েছিল স্বতন্ত্র স্বীকৃতি। এ সময় তাঁর বাহিনী এসব অঞ্চলে অন্তত ২৭টি সশস্ত্র যুদ্ধ সংগঠিত করে। এসব যুদ্ধের রণকৌশল, অস্ত্র সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ, যোদ্ধা নির্বাচন সবকিছুই নিজ বিচক্ষণতায় করেছেন শ্রীপুর বাহিনী প্রধান আকবর হোসেন মিয়া। স্বাধীনতা পূর্বকালে তিনি ছিলেন পাকিস্তান এয়ার ফোর্সের গ্রাউন্ড কমব্যাক্ট ইনস্ট্রাক্টর।

পূর্ববাংলার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে ১৯৫৪ সালের ৮ আগস্ট চাকরি ছেড়ে নিজ জেলায় এসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৪ সালে তিনি শ্রীপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন নিজ ইউনিয়ন শ্রীকোলের।

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে আকবর হোসেন তার অনুসারীদেরকে নিয়ে একটি গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলেন। ক্রমে এই বাহিনীতে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে সেটি 'আকবর বাহিনী' হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করে। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে এই বাহিনী 'আকবর বাহিনী' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে ৮ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর মঞ্জুর এই বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে 'শ্রীপুর বাহিনী' করেন। এই বাহিনী ৮ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) এটিএম আব্দুল ওয়াহাবের নিয়ন্ত্রনাধীন থেকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ৭ ডিসেম্বর তারিখে এই বাহিনী মাগুরা আক্রমণ করে পাকিস্তানী সৈন্যদেরকে পরাজিত করে মাগুরাকে মুক্ত এলাকা ঘোষণা করে।

আগামীকাল রবিবার সকাল ১১টায় খামারপাড়া হাই স্কুল মাঠে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে।