Print

সূচক কমলেও গতি ছিল লেনদেনে

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৩.০৩.২০১৬ 

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত মঙ্গলবারই সাড়ে ৪ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে নেমে গিয়েছিল।

গতকাল বুধবার সেখান থেকে আরও ২২ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৪৬২ পয়েন্টে নেমে গেছে সূচকটি।
গত বছরের ১৫ নভেম্বরের পর এটিই ডিএসইর প্রধান সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান। সর্বশেষ গত ১৫ নভেম্বর ডিএসইএক্স সর্বনিম্ন ৪ হাজার ৪২৪ পয়েন্টে নেমেছিল।
তবে সূচক কমলেও গতকাল ডিএসইতে লেনদেন বেশ বেড়েছে। দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে ১৩৭ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৮ কোটি টাকায়। সে জন্য সূচক কমলেও লেনদেনের এ ঊর্ধ্বগতিকে বাজার-বিশ্লেষকেরা বেশ ইতিবাচক বলে মনে করছেন।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক আগের দিনের চেয়ে গতকাল ৭০ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে ৮ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ কোটিতে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন বলেন, সূচক সাড়ে ৪ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে নেমে আসার পর বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ হয়তো মনে করছেন, সূচক টেনে তুলতে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রত্যাশা থেকেই হয়তো বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ সাময়িকভাবে হলেও কিছুটা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। অথবা বাজারকে টেনে তোলার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ সক্রিয় হয়েছেন। তাই আগের দিনের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে।
মার্চেন্ট ব্যাংক আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের গতকালের বাজার পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৌলভিত্তির কিছু কোম্পানির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিক্রির চাপে যখন ভালো মৌলভিত্তির কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে, তখনই ক্রেতারা ওই সব শেয়ার কিনে নিয়েছেন। যে কারণে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম আরও বেশি পতনের হাত থেকে রেহাই পেয়েছে।
একই ধরনের অভিমত পাওয়া গেছে ডিএসইর ওয়েবসাইটে। তাতে বলা হয়েছে, বড় ও মৌলভিত্তির কোম্পানি হিসেবে পরিচিত স্কয়ার ফার্মার শেয়ারের দাম গতকাল লেনদেনের একপর্যায়ে ২৬২ টাকা থেকে কমে সর্বনিম্ন ২৫৫ টাকায় নেমে গিয়েছিল। কিন্তু দিন শেষে ঠিকই তা আবার ২৬১ টাকা উঠেছে।
সামগ্রিকভাবে বাজারের আচরণ পর্যালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হেলালউদ্দিন আরও বলেন, গত কয়েক দিনের টানা পতনের ফলে অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম বেশ নিচে নেমে এসেছে। যে কারণে বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ হয়তো মনে করছেন, এর নিচে আর খুব বেশি দাম নামবে না। দামের আকর্ষণ থেকেও বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ শেয়ার কেনায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের তথ্য অনুযায়ী, গতকালের বাজারে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাত। ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশই ছিল এ খাতের লেনদেন হওয়া ৩১টি কোম্পানির। তবে মূল্যবৃদ্ধির দিক থেকে শীর্ষে ছিল আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো।
ডিএসইতে গতকাল মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির প্রথম পাঁচটিই ছিল আর্থিক খাতের। এগুলো হলো বিডি ফিন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স, ফাস ফিন্যান্স, ফাস্ট ফিন্যান্স ও ফারইস্ট ফিন্যান্স। কোম্পানিগুলোর প্রতিটির শেয়ারের দাম গতকাল সর্বনিম্ন সাড়ে ৬ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
ঢাকার বাজারে বুধবার লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ওরিয়ন ফার্মা। এদিন এককভাবে কোম্পানিটির প্রায় ৩০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এর আগে কয়েক দিন ধরে শেয়ারের পরিমাণের দিক থেকে কোম্পানিটি শীর্ষ পর্যায়ে অবস্থান করছিল। আর গতকাল এসে আর্থিক লেনদেনের শীর্ষস্থানে উঠে আসে। এদিন লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে নেমে আসে লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স, যেটি গত কয়েক দিন ধরে শীর্ষে ছিল। লেনদেনের পরিমাণ কমার পাশাপাশি গতকাল লঙ্কাবাংলার শেয়ারের দামও কমেছে। টানা চার দিন দাম বাড়ার পর গতকাল কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম পৌনে ৪ শতাংশ বা ১ টাকা ৬০ পয়সা কমে নেমে এসেছে ৪০ টাকা ৮০ পয়সায়।