Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Premier Bank Ltd

বিডিনিউজডেস্ক.কম

তারিখঃ ১৯.০৫.২০১৫

মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির বিষয়ে তদন্ত শেষ করেছে স্কুল গঠিত তদন্ত কমিটি। কলেজ শাখার শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে

গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে ওয়াই গোপাল নামে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে কলেজের নোটিশ বোর্ডে এ সিদ্ধান্তসহ অন্যান্য সিদ্ধান্তগুলো টাঙিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্কুলটির ট্রাস্টি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ম. তামিম। একই ঘটনার তদন্তের জন্য আলাদা আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরও। সোমবার সকালে ম. তামিম বাংলামেইলকে বলেন, তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শেষ করেছে। কমিটি ওয়াই গোপাল নামে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা ছিল, এখন তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো। উপাধ্যক্ষ জিন্নাতুন নেছা বিষয়ে তিনি বলেন, তাকে আমরা সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছি। তার বিরুদ্ধেও তদন্ত হবে, অভিযোগের সত্যাতা আছে কি না যাচাই করে দেখা হবে। আসলে সেদিন (শনিবার) তার বিরুদ্ধে অনেকেই বিভিন্ন অভিযোগ দিয়েছেন, কিন্তু সঠিকভাবে কোনো কিছু বলতে পারেননি। তারপরও তাদের মতামতের ওপর শ্রদ্ধা রেখে সেদিনের সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এখন তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নেয়া হবে। এর আগে পর্যন্ত তিনি তার দায়িত্বে থাকবেন না। এদিকে, রোববার রাতে স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ হলেও, সেটি এখনো সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে না বলে জানা গেছে। তবে ওই বৈঠক সূত্র জানায়, যে মেয়েকে যৌন হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তেমন কোনো তথ্য পায়নি তদন্ত কমিটি। সেই মেয়ে সন্দেহভাজন গোপাল বা অন্য কাউকে সনাক্তও করতে পারেনি। তবে ওইদিন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সঙ্গে গোপালের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সে প্রেক্ষিতেই তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া হয়েছে। ম. তামিম আরো জানান, শনিবারের উত্তেজনাকর মুহূর্তে নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত রোববার রাতের ওই সভায় চূড়ান্ত হয়েছে। ফলে নোটিশে গোপালের বহিষ্কারাদেশ ছাড়াও ওই সিদ্ধান্তগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হবে।

এর আগে রোববার ম. তামিম বলেন, যৌন হয়রানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবকরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বহিরাগত অভিভাবকরা এ পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করেছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিকভাবে যা যা ব্যবস্থা নেয়া দরকার তা আমরা নিয়েছি। এ জন্য সবার সহযোগিতা আমাদের দরকার। অভিভাবকরা অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের পদত্যাগ চেয়েছেন- এ বিষয়ে তিনি বলেন, একটা সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছি। সে সময় আরো সমস্যা নিয়ে এলে কোনোটিই সঠিকভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে না। এদিকে, এ ঘটনায় পৃথক আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। রোববার মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক এলিয়াছ হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর অন্য দুই সদস্য হলেন- মাউশির উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) এ কে মোস্তফা কামাল ও ঢাকা আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের বিদ্যালয় পরিদর্শক কামরুন নাহার। সোমবার থেকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে কাজ শেষ করার নির্দেশ নেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৫ মে ওই বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন প্রকাশে দেরি করছে অভিযোগ করে গত শনিবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন অভিভাবকরা। অধ্যক্ষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও বিদ্যালয়ের কিছু কক্ষ ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা। বিক্ষোভের মুখে উপাধ্যক্ষ ও দুই কর্মচারীকে অব্যাহতিও দেয়া হয়। সেই সঙ্গে সকল পুরুষ কর্মচারীকেও সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। পরে ২৫ মে পর্যন্ত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ওই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।