আজ শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৭.০৯.২০১৭

লোকসানি সাবসিডিয়ারি ও সিরামিক পণ্যের চাহিদা মন্দায় কয়েক বছর ধরেই প্রবৃদ্ধি সংকটে ছিল আরএকে

সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেড। দুর্বল গৌণ ব্যবসার মালিকানা ছেড়ে সিরামিক ব্যবসা সম্প্রসারণের সুফল পাচ্ছে দুবাইভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি। নতুন প্রকল্প টাইলস প্লান্টের সুবাদে চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির পণ্য বিক্রি বেড়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ। এ সময় নিট মুনাফাও প্রায় ২১ শতাংশ বেড়েছে।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লোকসানি সাবসিডিয়ারি আরএকে ফার্মাসিউটিক্যালস ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরএকে মসফ্লাইয়ের মালিকানা ছেড়ে দিয়ে নতুন টাইলস প্রকল্প হাতে নেয় আরএকে সিরামিকস। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি টাইলস প্লান্টে আংশিক উত্পাদন শুরু হলেও চলতি বছর সেখানে পুরোদমে উত্পাদন শুরু হয়, যা তাদের বিক্রি ও মুনাফা প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে। নতুন প্লান্টের দৈনিক টাইলস উত্পাদন-সক্ষমতা ১০ হাজার বর্গমিটার।

দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির কোম্পানি সচিব মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, মূলত সিরামিক ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্যই ২০১৫ সালে লোকসানি দুই অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা ছেড়ে দেয় আরএকে সিরামিকস। সে বছর দুই প্রতিষ্ঠান বিক্রির অর্থ বার্ষিক প্রতিবেদনে যুক্ত হওয়ায় কোম্পানির পরিচালন ও নিট মুনাফা অনেক বেড়েছিল। তবে চলতি হিসাব বছরে নতুন প্রকল্পের ব্যবসা যুক্ত হওয়ায় সমন্বিত বিক্রি ও গ্রস মুনাফা বেড়েছে।

২০১৭ সালের প্রথমার্ধের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি হিসাব জানুয়ারি-জুন সময়ে ৩২৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে আরএকে সিরামিকস, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি ছিল ২৬৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ সময়ে গ্রস মুনাফা হয়েছে ১৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ১১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। নিট মুনাফা হয়েছে ৪৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অর্থাত্ বিক্রি ও মুনাফার ক্ষেত্রে ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি পেয়েছে কোম্পানিটি। এর আগে সাবসিডিয়ারিসহ বিক্রিতে ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখেনি কোম্পানিটি। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১-১৬ পর্যন্ত সর্বশেষ পাঁচ বছরে গড় বিক্রয় প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে আরএকে সিরামিকসের সমন্বিত বিক্রি ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। বিদ্যমান সাবসিডিয়ারি আরএকে সিকিউরিটিজ ও আরএকে পাওয়ারসহ হিসাব করলে ২০১৬ সালে সমন্বিত বিক্রি ছিল ৫৬৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আগের বছর যা ছিল ৫০৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের হিসাব বছরে করপরবর্তী ৯১ কোটি ৫২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা মুনাফা দেখিয়েছে আরএকে সিরামিকস। ইপিএস দাঁড়ায় ২ টাকা ৭২ পয়সা। গেল হিসাব বছরের জন্য ২০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

জানা গেছে, আরএকে সিরামিকসের মোট পাঁচটি সাবসিডিয়ারি ও একটি সহযোগী কোম্পানি ছিল। এগুলো হলো— আরএকে ফার্মাসিটিক্যালস, আরএকে পাওয়ার, ক্ল্যাসিক পর্সলেইন, আরএকে সিকিউরিটিজ ও আরএকে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রাইভেট লিমিটেড ও আরএকে মসফ্লাই (বাংলাদেশ)। বর্তমানে শুধু আরএকে পাওয়ার ও আরএকে সিকিউরিটিজের মালিকানা ধরে রেখেছে তারা।

২০১০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় আরএকে সিরামিকস। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৬০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩৫৩ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১১০ কোটি ১২ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালক ৭৩ দশমিক ৬১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৪ দশমিক ২৮, বিদেশী দশমিক শূন্য ৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ শেয়ার।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সর্বশেষ ৫৮ টাকা ৪০ পয়সায় আরএকে সিরামিকসের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৭৪ টাকা ১০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা। সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ২২ দশমিক ৫৫, হালনাগাদ প্রান্তিক মুনাফার ভিত্তিতে যা ২১ দশমিক ১৬।