Tuesday 6th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে *প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিল আর নেই(ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

তিতাস গ্যাসের বিতরণ চার্জ বাড়ানোর উদ্যোগ বিইআরসির

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | ০৪.০৪.২০১৬

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আয় কাটছাঁটে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে কোম্পানির বিতরণ চার্জ

পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গত আগস্টে কমিয়ে দেয়া এ চার্জ বাড়িয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়েছে কমিশনে। বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, এ লক্ষ্যে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিইআরসির সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ বণিক বার্তাকে বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বছরের আগস্টে তিতাস গ্যাসের বিতরণ চার্জ ও গ্যাসের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির মুনাফায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ায় কোম্পানির পক্ষ থেকে তা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে বিষয়টি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এ বিষয়ে আমাদের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিসও পাঠানো হয়েছে। সব বিষয় বিবেচনা করে আমরা কোম্পানির বিতরণ চার্জ পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এজন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে কয়েকটি সভা করেছে। তিতাস গ্যাসের জনবল, অফিস ও অন্যান্য প্রত্যক্ষ খরচ, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণসহ সব ধরনের খরচ হিসাব করে শিগগিরই বিতরণ চার্জের ক্ষেত্রে একটি যৌক্তিক হার নির্ধারণ করা হবে।

এতে সাধারণ গ্রাহক, বিনিয়োগকারী ও কোম্পানি সবার জন্যই একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন ড. সেলিম মাহমুদ। এছাড়া বিএসইসির সঙ্গে আইনি জটিলতার বিষয়টি নিরসনেরও প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট ভোক্তাপর্যায়ে গ্যাসের মূল্য ও তিতাস গ্যাসের বিতরণ চার্জ পুনর্নির্ধারণ করে বিইআরসি। একই সঙ্গে বিতরণ চার্জ বাবদ প্রাপ্ত আয় আলাদা হিসাবে নেয়ার নির্দেশনা দেয় বিইআরসি। বিতরণ চার্জ থেকে প্রাপ্ত আয় কোম্পানির আয়-ব্যয়ের হিসাবে না নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। আয়ের প্রধান উত্স আলাদা হিসাবে চলে যাওয়ায় তিতাসের মুনাফা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যায়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিতরণে তিতাস গ্যাসের আয় হয় ৯৭ পয়সা। এর মধ্যে ৫৫ পয়সা আসে বিতরণ চার্জ থেকে। এছাড়া গ্যাস ট্রান্সমিশন চার্জ, সুদ ও বিবিধ আয় থেকে আসে বাকি ৪২ পয়সা। জারি করা আদেশে বিতরণ চার্জ কমানোর যুক্তি হিসেবে বিইআরসি বলেছিল, তিতাস গ্যাসের বিতরণ রাজস্ব চাহিদা মেটাতে প্রতি ঘনমিটারে গড়ে ২৯ পয়সা প্রয়োজন হয়। আর বিদ্যমান অন্যান্য আয় (গ্যাস ট্রান্সমিশন চার্জ, সুদ ও বিবিধ আয়) বাবদ ৪২ পয়সা প্রাপ্তি বিবেচনায় তিতাস গ্যাস কোম্পানির বিতরণ চার্জ বাবদ আর কোনো আয়ের প্রয়োজনই হয় না। এ অবস্থায় তিতাসের বিতরণ রাজস্ব চাহিদা মেটাতে অন্যান্য আয় যথেষ্ট হওয়ায় বিতরণ চার্জ বাবদ অর্জিত অর্থ আলাদা ব্যাংক হিসাবে জমা করার নির্দেশ দিয়ে বিইআরসি বলে তাদের অনুমোদন ছাড়া এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

বিইআরসির নির্দেশনা অনুসারে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিতরণ চার্জ থেকে তিতাস গ্যাসের আয় আলাদা হিসাবে নেয়ার বিষয়টি কার্যকর হয়। কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদনে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। চলতি হিসাব প্রথম প্রান্তিকে তিতাস গ্যাসের মোট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমে যায়। আর ২০১৪-১৫ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ১৯৫ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা হলেও চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৫৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার পরিচালন লোকসানে পড়ে।

তবে সুদ বাবদ আয়সহ অন্যান্য অপরিচালন মুনাফার কারণে তিতাস গ্যাস শেষ পর্যন্ত মুনাফায় থাকে। চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে তিতাস গ্যাসের সুদ

বাবদ আয়সহ অন্যান্য অপরিচালন মুনাফা ছিল ১০৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা কম।

অপরিচালন আয়ে ভর করে দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩২ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ১৬ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয়-ব্যয়ের হিসাবে বিতরণ চার্জ বাবদ আয় যুক্ত ছিল।

এদিকে মুনাফা কমায় ছয় মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৭৫ থেকে ৪৪ টাকার ঘরে নেমে এসেছে।

প্রসঙ্গত, বিতরণ চার্জ কমানোর পর তা পুনর্বিবেচনার জন্য বিইআরসির কাছে আবেদন করে তিতাস গ্যাস। আর বিএসইসিকে না জানিয়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে কোনো মূল্যসংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নেয়া আইনসিদ্ধ না হওয়ায় বিইআরসিকে লিগ্যাল নোটিস পাঠান তিতাস গ্যাসের শেয়ারহোল্ডার ফেরদৌস আহমেদ। সে শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ নওশাদ জামির বিইআরসিকে আইনি নোটিস দেন। সেখানে তিনি বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিতরণ চার্জ কমানো হলেও বিইআরসি তা প্রকাশ করে ২৭ অক্টোবর। কোম্পানির মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার দুই মাস পর জানানো বিএসইসির সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ বিধিমালা, ১৯৯৫-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লিস্টিং রেগুলেশন, ২০১৫-এর ৩৩ বিধির লঙ্ঘন।

মুনাফা কমে যাওয়ায় ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশও কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস। ২০১৫ সালের জন্য কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়, যা কোম্পানির গত আট বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। ২০১৩-১৪ হিসাব বছরেও কোম্পানিটি ৩৮ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল।