মুদ্রণ

মন্দা শেয়ারবাজারে আগ্রহ নেই নতুন নয় ব্যাংকের

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | ০৫.০৪.২০১৬

শেয়ারবাজারে মন্দাবস্থা চলছে, এ কারণে বর্তমান বাজারে তালিকাভুক্ত হতে অপারগতা দেখাচ্ছে দেশের নয়টি নতুন ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর অনুমোদনের সময় যে সম্মতিপত্র (এলওআই) দেওয়া হয়েছিল, তাতে শর্ত ছিল কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হবে। সেই হিসাবে চলতি বছরের মধ্যেই নতুন ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে শেয়ার ছাড়ার কথা। কিন্তু সেই শর্ত পূরণ করছে না ব্যাংকগুলো।
এ অবস্থায় নতুন নয়টি ব্যাংককে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আরও তিন বছর পর্যন্ত বাড়তি সময় দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার পর্যন্ত এ নয়টি ব্যাংকের মধ্যে পাঁচটির সময় বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাকি চারটির বিষয় এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়। তার বিপরীতে নতুন ব্যাংকের জন্য ৩৭টি আবেদন জমা পড়ে। এরপর যাচাইবাছাই শেষে ২০১২ সালের শুরুতে দুই দফায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের তিনটি ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ছয়টি নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয়।
দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য যেসব ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয় সেগুলো হলো মেঘনা, মধুমতি, মিডল্যান্ড, ফারমার্স, ইউনিয়ন, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক। এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য যে তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো এনআরবি, এনআরবি গ্লোবাল ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। এসব ব্যাংকের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ২০১৫ সালের যে আর্থিক হিসাববিবরণী জমা দেওয়া হয়েছে তা থেকে জানা গেছে, একমাত্র এনআরবি গ্লোবাল ছাড়া বাকি সবগুলোই মুনাফায় রয়েছে।
ব্যাংকগুলোর অনুমোদনের সময় যে সম্মতিপত্র দেওয়া হয় তাতে অন্যতম শর্ত ছিল, যাত্রা শুরুর তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি ব্যাংককে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হবে। ২০১৩ সালের বিভিন্ন সময়ে নতুন নয়টি ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করে। সে হিসাবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির তিন বছরের বাধ্যবাধকতার সময় শেষ হচ্ছে এ বছর। কিন্তু ব্যাংকগুলোর কোনোটিরই এ বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির কোনো উদ্যোগ নেই। বরং ব্যাংকগুলো এ মুহূর্তে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।
এদিকে, বেশ কিছুদিন ধরে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক সাড়ে চার হাজার পয়েন্টের আশপাশে ও দৈনিক লেনদেন ৩০০–৫০০ কোটি টাকায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ২০১০ সালের ধসের পর বাজারে মন্দাভাব চলছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় ভুগছেন। 
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৯ মে কার্যক্রম শুরু করে মেঘনা ব্যাংক। সম্মতিপত্রের শর্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ মের মধ্যে ব্যাংকটির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি না করে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিতে আরও তিন বছর সময় চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই আবেদন অনুমোদন করে বাড়তি সময় দিয়েছে।
মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারে যে অবস্থা তাতে এ বছরে নয়টি ব্যাংক শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলতে গেলে তা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া সব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা এখনো মজবুত হয়নি। তাই আমরা ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময় চেয়েছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা অনুমোদন করেছে।
নতুন ব্যাংকের মধ্যে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করে ২০১৩ সালের ২৮ এপ্রিল। সে হিসাবে চলতি মাসের মধ্যে ব্যাংকটির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ব্যাংকটি দুই বছর বাড়তি সময় পেয়েছে।
জানতে চাইলে সাউথ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারের অবস্থা ভালো না। আবার আমরাও নতুন। এ কারণে এ মুহূর্তে তালিকাভুক্ত হওয়া সম্ভব না।
এর বাইরে এনআরবি কমার্শিয়াল ও ইউনিয়ন ব্যাংককে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য তিন বছর করে বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে।