Print

২০ ব্রোকারেজ হাউসে ৮২৯১ কোটি টাকার মার্জিন ঋণ

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৯.০৪.২০১৬

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ৯৭ ব্রোকারেজ হাউসের বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের পরিমাণ মার্চ শেষে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৫২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

এর মধ্যে ২০ ব্রোকারেজ হাউস দিয়েছে মোট ঋণের ৮৫ শতাংশের সমপরিমাণ ৮ হাজার ২৯১ কোটি টাকা।৯ মাস আগে গত বছরের জুন শেষে ডিএসইর ৯৪ ব্রোকারেজ হাউসের দেওয়া মার্জিন ঋণের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া গত মার্চ শেষে শুধু চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্রোকারেজ হাউসগুলোর বিতরণ করা ঋণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো দিয়েছে ৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সর্বোচ্চ মার্জিন ঋণ প্রদানকারী ব্রোকারেজ হাউস আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের মালিকানাধীন এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস। এটির গ্রাহকরা ৮৯১ কোটি ৭১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে পিএফআই সিকিউরিটিজের ৭০৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক সিকিউরিটিজের ৬০২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের ৫৪৬ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজের ৫৪০ কোটি টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজের ৫১৩ কোটি টাকা এবং এনসিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের ৫০৪ কোটি টাকা।শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, শেয়ারবাজারে বিতরণ করা মোট মার্জিন ঋণের পরিমাণ সুদসহ প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। গত কয়েক বছর ধরে অঙ্কটি স্থির আছে। নতুন করে মার্জিন ঋণ প্রদান বন্ধ থাকা এবং পুরনো ঋণ আদায়ও না থাকাই এর প্রধান কারণ। আবার বিশালসংখ্যক মার্জিন ঋণ নেওয়া বিও অ্যাকাউন্টের মূলধন ঘাটতি থাকায় এসব হিসাবে শেয়ার কেনাবেচা হয় না।কর্মকর্তারা আরও জানান, সহযোগী ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের দেওয়া মার্জিন ঋণ ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ (মার্কেট এক্সপোজার) হিসেবে গণ্য হয়। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে বিনিয়োগ না করলেও আগের ঋণের ওপর সুদ আরোপ হলে এবং তা আদায় না হলে মার্কেট এক্সপোজার বেড়ে যায়। এ কারণে অনেকে নিষ্ক্রিয় মার্জিন ঋণ হিসাবগুলোতে সুদ আরোপ বন্ধ রেখেছে। ফলে সিংহভাগ ব্রোকারেজ হাউসের মার্জিন ঋণের পরিমাণ গত কয়েক বছরে তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না।সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ছাড়া পুরনো ঋণ আদায় না হওয়ায় ও মুনাফা না পাওয়ায় নতুন করে ঋণ বিতরণে বিধিনিষেধ রয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। ফলে বাজারে তারল্য প্রবাহ কমেছে। অর্থ সংকটে এসব প্রতিষ্ঠান নিজেরা শেয়ার কেনাবেচায় অংশ নিতে পারায় কমছে শেয়ার চাহিদা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শেয়ারদর ও সূচকে। এ ইস্যুর সমাধান না হলে শেয়ারবাজার সংকটেরও দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।অন্য কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের মার্জিন ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। গত কয়েক বছর ধরে এ ঋণে আটকে আছে দেশের শেয়ারবাজার। সহসা এ ঋণ আদায়ের কোনো সম্ভাবনাও তারা দেখছেন না। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের সিইও খায়রুল আনাম বলেন, লোকসানি হিসেবে এ ঋণ প্রভিশনিং করা হয়েছে। এখন অপেক্ষা কখন বাজার ভালো হয়। তাহলে বিনিয়োগকারী কিছু টাকা ফেরত পাবে। আমরাও ঋণের টাকা ফেরত পাব। তবে নতুন করে বিনিয়োগ না হলে এমন সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, ব্রোকারেজ হাউসগুলো স্বল্প সুদে ঋণ পেলে পরিস্থিতি উত্তরণে সহায়ক হতো। কিন্তু শিল্পে ৮-১০ শতাংশ ঋণ দেওয়া হলেও ব্রোকারেজ হাউসের কাছে ১৪-১৬ শতাংশ সুদ চাওয়া হচ্ছে।এ ব্রোকারেজ হাউসের অপর এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী সব শেয়ার বিক্রি করলে ঋণের টাকাও ফেরত পাওয়া যাবে না। এ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে আসা বন্ধ করেছেন। কেউ কেউ অন্য ব্রোকারেজ হাউসে নতুন বিও খুলে শেয়ার কেনাবেচা করছেন। এনবিএল সিকিউরিটিজের কর্মকর্তা হাসান জানান, তার হাউসের বিতরণ করা ৬০২ কোটি টাকার মার্জিন ঋণের মধ্যে অন্তত ২০০ কোটি টাকার হিসাবে মূলধন ঘাটতি রয়েছে। আদায় না হওয়ায় নতুন ঋণ দেওয়া বন্ধ আছে।এ বিষয় নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও কিছুটা চিন্তিত। জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, এর সমাধান নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে নেই। ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বড় অঙ্কের বেইল-আউট (প্রণোদনা) চায়। এটা সরকারের এখতিয়ার। শিগগির একটি বৈঠক করার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।