Print

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ১৯.০৮.২০১৫

পৃথিবীর এমন কিছ রহস্যময় স্থানের কথা, যেগুলোর রহস্যের আজতক কোন ব্যাখ্যা বহু খুঁজেও মেলেনি।কত-শত জায়গাই তো রয়েছে পৃথিবীতে।

কখনো তাদের সৌন্দর্য, কখনো বিশালতা, আবার কখনো তাদের রহস্যময়তা আচ্ছন্ন করে রাখে আমাদের মন। আর ঠিক এমনই ৫ রহস্যময় স্থানের কথা রইলো আজকের ফিচারে, যেগুলো এখনো রয়ে গেছে অমীমাংসিত সব রহস্য হিসাবেই! সাধারণ মানুষ কেন, বিজ্ঞানীরাও মাথা ঘামিয়ে অস্থির হয়েছেন এসব নিয়ে।

১. রক্ত প্রপাত

অ্যান্টার্কটিকার বরফের চাঁইয়ের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসা এই রক্তপ্রপাত বাঘা আঘা সব বিজ্ঞানীকেও ভাবিয়েছে অনেক অনেক বছর। সাদা বরফের ভেতর দিয়ে গড়িয়ে পড়া লাল রঙ এর রক্তের মতন তরল সবসময়েই এক গতিময় রহস্য হয়ে থেকেছে সবার কাছে। যদিও সবশেষ খবর অনুযায়ী বিজ্ঞানীরা ধরে নিয়েছেন যে বরফের অনেক অনেক নীচে সালফার ও লোহার কোন নদী বয়ে গিয়েছে। যার রঙ সঙ্গত কারনেই লাল। আর সেটাই এই লাল রক্তের উত্স। যদিও এর কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২. চুম্বক পাহাড়

নিউ ব্রুন্সউইকের মঙ্কটনের পাহাড়ের ওপর দিয়ে নীচের দিকে যাচ্ছিল গাড়িটা। হঠাৎ করে কোন কারণ ছাড়াই পেছন দিকে যেতে শুরু করল গাড়ি। কী ব্যাপার? কী হল? কোন রকম বল ছাড়াই নীচ থেকে পাহাড়ের ওপরে পেছন দিক দিয়ে এগোতে শুরু করল গাড়ি। এরপর থেকেই যত জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে এই পাহাড় নিয়ে। ধারণা করা হয় এই পাহাড়ের নীচেই রয়েছে মস্ত বড় চৌম্বকীয় শক্তি যা কিনা লৌহদ্রব্যকে এগোতে-পিছাতে সাহায্য করে।

৩. রেসট্র্যাক প্লায়া

১৯১৫ সালের কথা সেটা। একদিন এক প্রোসপেক্টর ও তার স্ত্রী ঘুরতে বেরিয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিতে। হঠাৎ সেখানে তাদের নজর কাড়ে একটি পাথর। পাথরটির পেছনে অনেকটা জায়গা জুড়ে এটার চলতে থাকার ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু কোনরকম ভূমিকম্পন ছাড়া, কোন রকম বল ছাড়া কি করে শুষ্ক ঐ জায়গাটাতে এতটা জায়গায় একা একা ঘুরে বেড়ালো পাথরটা? কে জানে! অনেকরকমের তত্ত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন অনেকে। তবে প্রমাণিত হয়নি কোনটাই!

৪. আগুনের ফুলকি

নিউ ইয়র্কের চেস্টনাট রিজ পার্কের ভেতরের একটা ঝর্ণা। হঠাৎ একদিন এক দর্শক আবিষ্কার করলেন যে ঝর্ণার ফাটলের ভেতর দিয়ে প্রতিদিন ১ কিলোগ্রামের মতন মিথেন গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে। আর সেটা দেখেই তার মাথায় খেলে যায় দুষ্টুবুদ্ধি। আগুন জ্বালিয়ে দেন তিনি সেখানে। ব্যস! সেই থেকে ঝর্ণার এতরে আগুন জ্বলছে ওখানে। তবে মাঝে মাঝে পানি এসে আগুনকে নিভিয়ে দিলেও আবার কেউ না কেউ জ্বালিয়ে দেয় ওটাকে! কিন্তু সেই মিথেন গ্যাসের রহস্য আজতক কেউ সমাধান করতে পারেনি।

৫. লঙ্গিয়ারবিন

নরওয়ের এই স্থানটির কথা না জানলে পৃথিবীর সবচাইতে আশ্চর্য একটি জিনিসই জানা হবেনা আপনার। পরিচয় হবে না সবচাইতে অদ্ভুত স্থানটির সাথে। ব্রিটিশদের সম্পর্কে একটা উক্তি বেশ বিখ্যাত। আর সেটি হল- ব্রিটিশ রাজত্বে কখনো সূর্য ডোবেনা। কথাটা হয়তো তাত্ত্বিকভাবে ততটা সত্যি নয়। দিন শেষে সূর্য আবার না ডুবে পারে নাকি? কিন্তু নরওয়ের এই স্থানটিকে দেখলে আপনার এই প্রশ্নটি অমূলক হয়ে যাবে। বিশেষ করে সময়টা যদি হয় এপ্রিলের ২০ তারিখ থেকে আগস্টের ২৩ তারিখ পর্যন্ত। এ সময় লাঙ্গিয়ারবিনে গেলে এটা বলা মুশকিল হয়ে পড়ে যে ঠিক কখন সেখানে সকাল হচ্ছে, কখন রাত! এমনকি মাঝরাতেও সেখানে তখন থাকে ফকফকা আলোর রাশি।