Print

এসপিএমের চেয়ারম্যানসহ দুজনের কারাদণ্ড

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২১.০৪.২০১৬

সিকিউরিটিজ প্রমোশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের (এসপিএম) শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামিকে দুই বছর করে কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা করে আর্থিক জরিমানা করেছেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ভবনে স্থাপিত পুঁজিবাজার-সম্পর্কিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুমায়ুন কবির গতকাল বুধবার এ রায় দেন। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এটি এ আদালতের ষষ্ঠ রায়।মামলার আসামিরা হলেন—সিকিউরিটিজ প্রমোশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডর চেয়ারম্যান শেলী রহমান ও প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সৈয়দ মহিবুর রহমান। মামলার শুরু থেকেই তাঁরা পলাতক।আসামিদের গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের দিন থেকে কারাদণ্ডের হিসাব শুরু হবে। এ ছাড়া আর্থিক জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে আসামিদের অতিরিক্ত ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।মামলার রায়ে রিচারক বলেন, অভিযুক্তরা পারস্পরিক যোগসাজশে অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে লাভবান হয়েছেন। তদন্ত কমিটির তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্তরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর ১৭ ধারার (ই) (২) উপধারা লঙ্ঘন করেছেন, যা একই অধ্যাদেশের ২৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।রায়ের পর বিএসইসির আইনজীবী মাসুদ রানা খান আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, আসামিরা অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে লাভবান হয়েছেন, তা প্রমাণে সফল হয়েছি।২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। ১২ এপ্রিল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে মামলার এ রায় ঘোষণা করা হয়।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর কাশেম সিল্ক মিলসের এক কোটি চার লাখ ৩৮ হাজার ৫০০টি শেয়ার স্বাভাবিক দরের চেয়ে ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি দরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়। এর মধ্যে এসপিএম ৩৮ লাখ পাঁচ হাজার ৮০০টি শেয়ার ক্রয় ও ৩৬ লাখ ৮৫ হাজার ১০০টি শেয়ার বিক্রি করে। এটি কাশেম সিল্কের ওই দিনের শেয়ার লেনদেনের যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ৪৬ ও ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শেলী রহমানের হিসাব ব্যবহার করে অস্বাভাবিক এসব লেনদেন করেন এসপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লুৎফর রহমান।এ ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত মহিবুর রহমান এক লাখ ৫৩ হাজার ৮৮০ টাকা বিনিয়োগ করে কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশে আট কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০১ টাকার শেয়ার লেনদেন করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এই লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ১৯৬৯ সালের অধ্যাদেশের ১৭ ধারার (ই) (২) উপধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।সিকিউরিটিজ প্রমোশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনায় ২০০৪ সালে বিএসইসির তৎকালীন সদস্য মোহাম্মদ আলী খান ও পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বিএসইসির পক্ষে মামলা করেন।