Print

বিডিনিউজডেস্ক.কম  

তারিখঃ ০৬.০৪.২০১৫

ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত হিগস বোসন কণার খোঁজে দুই বছর ধরে মেরামতের পর আবার চালু করা হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কণা ত্বরক যন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার (এলএইচসি)।

তবে চালু করা হলেও উচ্চগতির প্রোটন কণার সংঘর্ষ ঘটাতে এর আরো এক মাস সময় লাগবে। দৈত্যাকার এই যন্ত্রে পরমাণুর ভেতরের কণাগুলোকে প্রায় আলোর সমান গতিতে ছুটিয়ে সংঘর্ষ ঘটানো হয়। ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো পুরো এলএইচসি-তে প্রোটন কণা চালনা করা হয়। এসময় যন্ত্রটির তাপমাত্রা ১.৯ কেলভিনে (-২৭১.২৫° সেলসিয়াস) নামিয়ে আনা হয়। এর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম উচ্চশক্তির সংঘর্ষ ঘটানো হয় ২১ অক্টোবর। সার্নের ডিরেক্টর জেনারেল রলফ হিউয়ার এলএইচসি চালু করার পর এর সাথে যুক্ত প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানান। দুই বছর ধরে সংস্কার কাজ চালানোর পর এলএইচসি তার কাজের জন্য প্রস্তুত বলেও তিনি জানান। তবে যন্ত্রটির আসল পরীক্ষা হবে তখনই যখন এর ভেতরে পরিভ্রমণকারী প্রোটন কণার শক্তি ১৩ ট্রিলিয়ন ইলেক্ট্রনভোল্টে উন্নীত করা হবে, যা হবে এর আগের বারের তুলনায় দ্বিগুণ। পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর কোলাইডারটির ভেতরে হিগ্‌স বোসন কণা তৈরি হওয়ার কথা। একে ঈশ্বর কণা বলা হয়। এটাই একমাত্র মৌলিক কণা যাকে এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যায়নি। এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞানের অনেক অজানা তথ্য জানা যাবে। এছাড়া মৌল কণাগুলো কিভাবে ভর বা এধরনের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য লাভ করে তাও এর মাধ্যমে জানা যাবে। বিজ্ঞানীদের আশা বিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তের ঘটনাগুলোও বুঝতে সহায়তা করবে এই যন্ত্রটি। এলএইচসি নির্মাণ করেছে ইউরোপের প্রভাবশালী বিজ্ঞান সংস্থা ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন)। এলএইচসি জেনেভা শহরের নিকটে ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড সীমান্তে মাটির নিচে প্রায় ২৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত। এটিই বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে শক্তিশালী কণা ত্বরক। একশটি দেশের এক হাজারেরও অধিক বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী এই কণা ত্বরক যন্ত্রের নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করেছেন।