Saturday 10th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***বিপিএল টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট চতুর্থ আসরের ফাইনালে আজ শুক্রবার মুখোমুখি হবে ঢাকা ডায়নামাইটস ও রাজশাহী কিংস***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

পেট্রোলিয়াম বিপণন কোম্পানির মার্জিন দ্বিগুণ হয়েছে

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২৫.০৪.২০১৬

জ্বালানি তেল বিপণনকারী তিন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির মার্জিন বা কমিশন দ্বিগুণ করেছে সরকার।

গতকাল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানোর পাশাপাশি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর মার্জিন দ্বিগুণ করা হয়েছে। গতকাল এ-সংক্রান্ত গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে, যা আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে। এতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ খাতের তিন কোম্পানি পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের পরিচালন আয় বৃদ্ধির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলো আগে ২৫ পয়সা মার্জিন পেত। প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, এ মার্জিনের হার দ্বিগুণ বা ৫০ পয়সায় উন্নীত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে অকটেন ও পেট্রলে পদ্মা, যমুনা ও মেঘনার মার্জিন ছিল প্রতি লিটারে ৩০ পয়সা, যা এখন থেকে ৬০ পয়সায় উন্নীত করা হয়েছে। তবে বিদ্যুত্ উত্পাদনে ব্যবহূত ফার্নেস অয়েলে কমিশন বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। আগে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলে কোম্পানিগুলোর মার্জিন ছিল ৩৫ পয়সা, যা এখন ৫৫ পয়সায় উন্নীত করা হয়েছে।

জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৩ সালে জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানির মার্জিন বাড়ানো হয়। কোম্পানিগুলোর পরিচালন আয় কমে যাওয়ায় প্রায় এক বছর আগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) থেকে মার্জিনের হার বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে গতকাল গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে মার্জিনের হার বাড়ানো হয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৪-১৫ হিসাব বছর থেকে পরিচালন আয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়ে জ্বালানি তেল বিপণনকারী এ তিন কোম্পানি। বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী খরচ বেড়ে যাওয়ায় কোনো কোনো কোম্পানি পরিচালন লোকসানের মুখে পড়ে। যদিও অপরিচালন আয়, বিশেষ করে সুদ আয় থাকায় শেষ পর্যন্ত মুনাফা দেখাতে সক্ষম হয় তারা। এবার তেল বিপণনে মার্জিন দ্বিগুণ হওয়ায় কোম্পানিগুলোর পরিচালন আয় বৃদ্ধির ব্যাপারে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ অর্ধবার্ষিকে পেট্রোলিয়াম পণ্য ট্রেডিং থেকে পদ্মা অয়েলের মোট আয় হয়েছে ৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এ আয়ের সিংহভাগই আসে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন, পেট্রল ও ফার্নেস অয়েল বিপণনে প্রাপ্ত মার্জিন থেকে। এর বাইরে বিপিসির পণ্য আমদানি, বেসরকারি বিদ্যুত্ খাত থেকে সেবামাশুল, জাহাজ ভাড়াসহ অন্যান্য খাত থেকে প্রাপ্ত আয় কোম্পানির পরিচালন মুনাফায় যোগ হয়। যদিও সুদ বাবদ আয়ই কোম্পানির মুনাফার প্রধান উত্স হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তেল বিপণনকারী আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল চলতি অর্ধবার্ষিকে পেট্রোলিয়াম পণ্য থেকে মোট আয় করেছে ৪০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। তেল বিপণন থেকে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী খরচ বৃদ্ধিতে চলতি প্রথমার্ধে পরিচালন মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসে। তবে অপরিচালন আয়, বিশেষ করে সুদ বাবদ আয় কোম্পানিকে মুনাফার ধারায় রাখতে সহায়তা করছে।

তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে মেঘনা পেট্রোলিয়াম তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে পেট্রোলিয়াম পণ্য থেকে কোম্পানির মোট আয়ে তেমন পরিবর্তন হয়নি। ২০১৩-১৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে পেট্রোলিয়াম পণ্য থেকে কোম্পানির মোট আয় ছিল ৬৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা, চলতি প্রথমার্ধে ৬২ কোটি ৩ লাখ টাকায় নেমে আসে। অবশ্য সুদ বাবদ আয় কমে যাওয়ায় কোম্পানির মুনাফা আগের বছরের চেয়ে কিছুটা কমেছে। চলতি প্রথমার্ধে সুদ বাবদ আয় হয়েছে ৯৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ১১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এতে প্রথমার্ধে কর-পরবর্তী মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।